শ্রীপান্থ
সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
এক নজরে
| আসল নাম | নিখিল সরকার |
|---|---|
| ছদ্মনাম | শ্রীপান্থ |
| জন্ম | ১ মে, ১৯৩২ — গৌরীপুর, ময়মনসিংহ |
| মৃত্যু | ১৭ আগস্ট, ২০০৪ — কলকাতা |
| পেশা | সাংবাদিক, লেখক ও সমাজ-ইতিহাসবিদ |
| শিক্ষা | ইতিহাসে স্নাতক, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় |
| কর্মস্থল | যুগান্তর, আনন্দবাজার পত্রিকা (সহ-সম্পাদক) |
| পুরস্কার | আনন্দ পুরস্কার (১৯৭৮) |
| প্রধান রচনা | ‘আজব নগরী’, ‘শ্রীপান্থের কলকাতা’, ‘ঠগী’, ‘হারেম’, ‘মহন্ত এলোকেশী সংবাদ’ |
পরিচিতি
শ্রীপান্থ ছিলেন বাংলা সাহিত্যের অন্যতম খ্যাতিমান প্রাবন্ধিক, সাংবাদিক ও সমাজ-ইতিহাসবিদ। তাঁর আসল নাম নিখিল সরকার। শ্রীপান্থ নামেই তিনি প্রায় সব রচনা প্রকাশ করেন। কলকাতার উপান্ত-ইতিহাস (সাব-অলটার্ন হিস্ট্রি) ও বাঙালি সংস্কৃতির প্রাত্যহিক জীবনের ওপর তাঁর গবেষণামূলক লেখা বাংলা প্রবন্ধ-সাহিত্যে একটি স্বতন্ত্র ধারা গড়ে তুলেছিল।
জন্ম ও শিক্ষা
নিখিল সরকার ১৯৩২ সালের ১ মে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের ময়মনসিংহ জেলার গৌরীপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। শৈশবের প্রাথমিক শিক্ষা ময়মনসিংহে শেষ করে তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য কলকাতায় আসেন এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। ইতিহাসের এই প্রশিক্ষণই পরে তাঁর রচনাশৈলীর ভিত্তি হয়।
কর্মজীবন
শিক্ষা শেষে তিনি সাংবাদিকতা পেশায় যোগ দেন। প্রথমে বাংলা দৈনিক যুগান্তরে কাজ করে ১৯৬০-এর দশকে তিনি আনন্দবাজার পত্রিকায় যোগদান করেন এবং পরে পত্রিকাটির সহ-সম্পাদক হন। তিনি সম্পাদকীয় পৃষ্ঠার দায়িত্বে ছিলেন এবং সোমবারের জনপ্রিয় কলাম ‘কলকাতার করচা’ (নোটবুক অব কলকাতা) পরিচালনা করতেন। সাংবাদিক হিসেবে তিনি তাঁর তথ্যনিষ্ঠা ও বিশদ বিবরণের দক্ষতার জন্য পরিচিত ছিলেন।
সাহিত্যজীবন
সাংবাদিকতার পাশাপাশি তাঁর সাহিত্যজীবন শুরু হয়, এবং শ্রীপান্থ ছদ্মনামে তিনি বহু গ্রন্থ রচনা করেন। তাঁর প্রধান কাজ কলকাতার সমাজ-ইতিহাস ও বাঙালি সংস্কৃতির প্রাত্যহিক জীবনের বিশ্লেষণ। তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থসমূহের মধ্যে রয়েছে: ‘আজব নগরী’, ‘শ্রীপান্থের কলকাতা’, ‘যখন ছাপাখানা এল’, ‘মহন্ত এলোকেশী সংবাদ’, ‘ক্যায়াবাত মেয়ে’, ‘ঠগী’, ‘মেটিয়াবুরুজের নবাব’, ‘দাই’, ‘বটতলা’, ‘হারেম ও দেবদাসী’, ‘কলকাতা’, ‘পড়ার বইয়ের বাইরে পড়া’, ‘রাজসিক’ ও ‘শ্রীপান্থের বিলাত দর্শন’। এসব রচনায় তিনি কলকাতার রাস্তাঘাট, ছাপাখানা, হারেম, ঠগী-সংস্কৃতি, মেটিয়াবুরুজের নবাব-জীবন প্রভৃতি বিষয়কে ঐতিহাসিক সূক্ষ্মদৃষ্টি ও সাহিত্যিক গদ্যে তুলে ধরেন।
পুরস্কার ও স্বীকৃতি
তাঁর সাহিত্যকৃতির স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭৮ সালে তিনি আনন্দ পুরস্কার লাভ করেন।
মৃত্যু ও উত্তরাধিকার
শ্রীপান্থ ২০০৪ সালের ১৭ আগস্ট কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন, তাঁর বয়স হয়েছিল ৭২ বছর। তিনি বাংলা প্রবন্ধ-সাহিত্যে ইতিহাস-চেতনার এক অনন্য ধারার প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে স্মরণীয়। কলকাতার দৈনন্দিন জীবন ও বাঙালি সংস্কৃতির ইতিহাস নিয়ে তাঁর রচনাগুলো আজও পাঠকের কাছে গ্রহণযোগ্য ও গবেষকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্যসূত্র।