আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
এক নজরে
| পূর্ণ নাম | আর্নেস্ট মিলার হেমিংওয়ে |
| জন্ম | ২১ জুলাই ১৮৯৯, ওক পার্ক, ইলিনয়, যুক্তরাষ্ট্র |
| মৃত্যু | ২ জুলাই ১৯৬১, কেচাম, আইডাহো, যুক্তরাষ্ট্র (বয়স ৬১) |
| জাতীয়তা | আমেরিকান |
| পেশা | ঔপন্যাসিক, গল্পকার, সাংবাদিক |
| শিক্ষা | ওক পার্ক অ্যান্ড রিভার ফরেস্ট হাই স্কুল (কলেজে পড়েননি) |
| উল্লেখযোগ্য কর্ম | দ্য সান অলসো রাইজেস (১৯২৬), আ ফেয়ারওয়েল টু আর্মস (১৯২৯), ফর হুম দ্য বেল টোলস (১৯৪০), দ্য ওল্ড ম্যান অ্যান্ড দ্য সি (১৯৫২) |
| পুরস্কার | পুলিৎজার পুরস্কার (কথাসাহিত্য, ১৯৫৩), নোবেল সাহিত্য পুরস্কার (১৯৫৪) |
পরিচিতি
আর্নেস্ট মিলার হেমিংওয়ে (২১ জুলাই ১৮৯৯ – ২ জুলাই ১৯৬১) ছিলেন আমেরিকান ঔপন্যাসিক, গল্পকার ও সাংবাদিক। সংক্ষিপ্ত, সংযত ও অলঙ্কারহীন গদ্যশৈলীর জন্য তিনি বিংশ শতাব্দীর সাহিত্যে গভীর প্রভাব রেখেছেন; তার ‘আইসবার্গ তত্ত্ব’ — সরল ভাষার নিচে গভীর অর্থ — আধুনিক কথাসাহিত্যের অন্যতম পরিচিত রচনাকৌশল। জীবদ্দশায় তিনি সাতটি উপন্যাস, ছয়টি গল্পসংকলন ও দুটি অকথাসাহিত্য গ্রন্থ প্রকাশ করেন; মৃত্যুর পর আরও বহু রচনা প্রকাশিত হয়।
জন্ম ও শিক্ষা
ইলিনয়ের ওক পার্কে আর্নেস্ট হেমিংওয়ের জন্ম। বাবা ক্ল্যারেন্স এডমন্ডস হেমিংওয়ে ছিলেন চিকিৎসক; মা গ্রেস হল ছিলেন সংগীতশিল্পী। ছয় ভাইবোনের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়। ওক পার্কের সরকারি স্কুলে পড়াশোনা শেষে কলেজে না গিয়ে ১৯১৭ সালে সতেরো বছর বয়সে কানসাস সিটি স্টার পত্রিকায় সাংবাদিক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন।
কর্মজীবন
প্রথম বিশ্বযুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র যোগ দেওয়ার পর হেমিংওয়ে ইতালীয় ফ্রন্টে রেড ক্রসের স্বেচ্ছাসেবী অ্যাম্বুলেন্স চালক হন; ১৯১৮ সালে গোলার আঘাতে গুরুতর আহত হন এবং ইতালীয় সরকারের পদকে ভূষিত হন। যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে তিনি কানাডীয় ও আমেরিকান পত্রিকার প্রতিবেদক হন; গ্রিক বিপ্লবসহ নানা ঘটনা কভার করেন। ১৯২১ সালে প্যারিসে গিয়ে টরন্টো স্টার-এর বিদেশ সংবাদদাতা হিসেবে কাজ করেন এবং ‘লস্ট জেনারেশন’ নামে পরিচিত প্রবাসী আমেরিকান লেখকমহলের — এজরা পাউন্ড, গারট্রুড স্টাইন প্রমুখের — সান্নিধ্যে আসেন। ১৯৩৭ সালে স্পেনের গৃহযুদ্ধ কভার করেন; দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে সাংবাদিক হিসেবে নরম্যান্ডি অবতরণ ও প্যারিসের মুক্তি প্রত্যক্ষ করেন।
সাহিত্যজীবন
তার প্রথম গুরুত্বপূর্ণ রচনা দ্য সান অলসো রাইজেস (১৯২৬) — প্যারিসের প্রবাসী আমেরিকান তরুণদের ‘লস্ট জেনারেশন’-এর চিত্র, যা তাকে প্রজন্মের প্রধান লেখক হিসেবে প্রতিষ্ঠা দেয়। আ ফেয়ারওয়েল টু আর্মস (১৯২৯)-এ যুদ্ধে এক মার্কিন অ্যাম্বুলেন্স কর্মকর্তার মোহভঙ্গের কাহিনী বলা হয়েছে। স্পেন-অভিজ্ঞতা থেকে লেখা সবচেয়ে উচ্চাভিলাষী উপন্যাস ফর হুম দ্য বেল টোলস (১৯৪০)। ছোট উপন্যাস দ্য ওল্ড ম্যান অ্যান্ড দ্য সি (১৯৫২) — এক বৃদ্ধ জেলের সমুদ্রের সঙ্গে দীর্ঘ ও নিঃসঙ্গ সংগ্রাম এবং ‘পরাজয়ে বিজয়ের’ গল্প — ১৯৫৩ সালে পুলিৎজার পুরস্কার পায় এবং ১৯৫৪ সালের নোবেল সাহিত্য পুরস্কার অর্জনে ভূমিকা রাখে। গল্পসংকলন মেন উইদাউট উইমেন (১৯২৭) ও দ্য ফিফথ কলাম অ্যান্ড দ্য ফার্স্ট ফোর্টি-নাইন স্টোরিজ (১৯৩৮) বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
ব্যক্তিগত জীবন
হেমিংওয়ে চারবার বিয়ে করেন — হ্যাডলি রিচার্ডসন (১৯২১–১৯২৭), পলিন ফাইফার (১৯২৭–১৯৪০), মার্থা গেলহর্ন (১৯৪০–১৯৪৫) ও মেরি ওয়েলশ (১৯৪৬–১৯৬১)। তার তিন পুত্র: জ্যাক, প্যাট্রিক ও গ্রেগরি। তিনি ছিলেন প্রবল ক্রীড়াপ্রেমী — ষাঁড়ের লড়াই, বড় শিকার ও গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার প্রতি অনুরাগ তার লেখায় প্রতিফলিত হয়েছে। ১৯৫৪ সালে আফ্রিকা সফরে দুটি বিমান দুর্ঘটনায় তিনি গুরুতর আহত হন, যার যন্ত্রণা ও অসুস্থতা জীবনের বাকি সময় তাকে ভোগায়।
পুরস্কার ও সম্মাননা
পুলিৎজার পুরস্কার, কথাসাহিত্য (১৯৫৩ — দ্য ওল্ড ম্যান অ্যান্ড দ্য সি-এর জন্য); নোবেল সাহিত্য পুরস্কার (১৯৫৪)।
মৃত্যু ও উত্তরাধিকার
১৯৬০-এর দশকে তার স্বাস্থ্য ভেঙে পড়ে — বিষণ্নতা, স্মৃতিশক্তি হ্রাস ও দীর্ঘ অসুস্থতা তাকে গ্রাস করে। ১৯৬১ সালের ২ জুলাই আইডাহোর কেচামে নিজ বাড়িতে তিনি আত্মহত্যা করেন। তার স্বল্পভাষী গদ্য, সংলাপ-নির্ভরতা ও অব্যক্ত-অর্থের কৌশল পরবর্তী প্রজন্মের অসংখ্য লেখককে প্রভাবিত করেছে; তার উপন্যাস ও গল্পের অনেকগুলোই আজ আমেরিকান সাহিত্যের ক্লাসিক হিসেবে গণ্য।