ডা. শামসুল আরেফীন
সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| পূর্ণ নাম | ডা. শামসুল আরেফীন |
| জন্ম | ১৯৮৯ (সঠিক তারিখ জানা যায়নি) |
| জন্মস্থান | প্রকাশ্য সূত্রে উল্লেখ নেই |
| জাতীয়তা | বাংলাদেশি |
| পেশা | চিকিৎসক, ইসলামি লেখক, গবেষক |
| শিক্ষা | ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজ (মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক); শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ, ঢাকা (এমবিবিএস) |
| উল্লেখযোগ্য রচনা | ‘ডাবল স্ট্যান্ডার্ড’, ‘ডাবল স্ট্যান্ডার্ড-৩’, ‘কষ্টিপাথর’, ‘মানসাঙ্ক’, ‘বিবাহ পাঠ’, ‘কাঠগড়া’, ‘অবাধ্যতার ইতিহাস’, ‘অভিশপ্ত রঙধনু’, ‘ইসলামে দাস-দাসী ব্যবস্থা’, ‘কুররাতু আইয়ুন: যে জীবন জুড়ায় নয়ন’ (দুই খণ্ড), ‘মুমিনের ক্যারিয়ার ভাবনা’ |
পরিচিতি
ডা. শামসুল আরেফীন বাংলাদেশের সমকালীন ইসলামি সাহিত্যের একজন পরিচিত লেখক। পেশায় চিকিৎসক হলেও চিকিৎসাশাস্ত্রের পাশাপাশি তিনি ইসলামি আকীদা, যুক্তিবিদ্যা ও সমাজ-সংস্কৃতি নিয়ে ব্যাপক লেখালেখি করে পাঠকমহলে — বিশেষ করে তরুণ পাঠকদের মধ্যে — উল্লেখযোগ্য পরিচিতি পেয়েছেন। তাঁর লেখার প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো সহজবোধ্য ভাষা ও যুক্তিভিত্তিক উপস্থাপনা: ইসলামের বিরুদ্ধে উত্থাপিত আধুনিক আপত্তির জবাব দেওয়ার পাশাপাশি ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে ইসলামি বিধানের ব্যাখ্যাও তাঁর রচনার বিষয়।
জন্ম ও শৈশব
বই-বিক্রেতা সূত্রে জানা যায় তিনি ১৯৮৯ সালে জন্মগ্রহণ করেন; তবে জন্মের সঠিক তারিখ ও জন্মস্থান সম্পর্কে প্রকাশ্যে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি। তাঁর কৈশোরের উল্লেখযোগ্য অংশ কেটেছে ক্যাডেট কলেজে — ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজ থেকে তিনি মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন। শৃঙ্খলাপূর্ণ এই শিক্ষাপরিবেশ তাঁর অধ্যবসায় ও নেতৃত্বগুণের বিকাশে ভূমিকা রেখেছে বলে লেখক-পরিচিতিগুলোতে উল্লেখ আছে।
শিক্ষাজীবন
ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজ থেকে এসএসসি ও এইচএসসি পাসের পর তিনি ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজে ভর্তি হন এবং সেখান থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করেন। চিকিৎসাশাস্ত্রের কঠিন পাঠ্যক্রমের পাশাপাশি তিনি কুরআন-হাদিস, আকীদা ও সমসাময়িক ফিকহ অধ্যয়ন চালিয়ে যান — এই স্বশিক্ষিত ইসলামি জ্ঞানচর্চাই পরবর্তীতে তাঁর লেখালেখির ভিত্তি হয়ে ওঠে।
কর্মজীবন
পেশাগত জীবনে তিনি একজন চিকিৎসক; রকমারির লেখক-পরিচিতি অনুযায়ী তিনি সরকারি চাকরিতে নিয়োজিত। চিকিৎসা পেশার ব্যস্ততার মধ্যেও তিনি লেখালেখিকে ধারাবাহিক রেখেছেন — বইপত্র, প্রবন্ধ ও সামাজিক মাধ্যমের মাধ্যমে তাঁর ইসলামি আলোচনা নিয়মিত প্রকাশিত হয়।
সাহিত্যজীবন
তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থসমূহ:
- ‘ডাবল স্ট্যান্ডার্ড’ (মাকতাবাতুল আযহার; ২য় সংস্করণ ২০১৯) — ইসলামের বিরুদ্ধে উত্থাপিত প্রচলিত আপত্তিগুলোর ধারাবাহিক জবাব, গল্পের ভাষায় উপস্থাপিত; এর ধারাবাহিক গ্রন্থ ‘ডাবল স্ট্যান্ডার্ড-৩’।
- ‘কষ্টিপাথর’ ও ‘মানসাঙ্ক’ — ইসলামি মতবাদ ও সমাজ-বিশ্লেষণমূলক রচনা।
- ‘বিবাহ পাঠ’ — বিবাহ ও পারিবারিক জীবনের ইসলামি বিধান নিয়ে রচনা।
- ‘কাঠগড়া’, ‘অবাধ্যতার ইতিহাস’, ‘অভিশপ্ত রঙধনু’ — সমসাময়িক নৈতিক সংকটের ইসলামি ব্যাখ্যা।
- ‘ইসলামে দাস-দাসী ব্যবস্থা’ — ঐতিহাসিক ও ফিকহি দৃষ্টিকোণ থেকে আলোচনা।
- ‘কুররাতু আইয়ুন: যে জীবন জুড়ায় নয়ন’ (দুই খণ্ড) — পারিবারিক ও আত্মিক প্রশান্তির বিষয়ে রচনা।
- ‘মুমিনের ক্যারিয়ার ভাবনা’ — পেশাজীবন ও দ্বীনের সমন্বয় নিয়ে রচনা।
‘ডাবল স্ট্যান্ডার্ড’ (মাকতাবাতুল আযহার; ১৯২ পৃষ্ঠা) বইটির বিবরণ অনুযায়ী, ইসলামের বিরুদ্ধে বাঁধা কয়েকটা প্রচলিত প্রশ্নের ঘুরপাক, অপলাপ ও প্রোপাগান্ডার জবাব ‘যুক্তির জবাব যুক্তি’র আদলে গল্পের ভাষায় উপস্থাপন করা হয়েছে — অর্থাৎ কঠিন যুক্তিতর্ককে পাঠকের কাছে সহজবোধ্য করতে তিনি আখ্যানের আশ্রয় নেন। এই কৌশল তাঁর অন্যান্য বইতেও দেখা যায়: শুষ্ক তত্ত্বকথার বদলে দৈনন্দিন জীবনের উদাহরণ ও গল্পের মাধ্যমে ইসলামি অবস্থানকে যুক্তিসিদ্ধ করা।
তাঁর বইগুলোতে ইসলামি মতবাদ ও আদর্শের যৌক্তিক ব্যাখ্যা দেওয়ার পাশাপাশি সমাজের বিভিন্ন বিষয়ের ইসলামি ব্যাখ্যা এবং ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনে ইসলামি উপায়ে চলার বিধান উঠে এসেছে। রকমারিতে তাঁর অনুসারী সংখ্যা প্রায় নয় হাজার — সমকালীন ইসলামি লেখকদের মধ্যে এটি উল্লেখযোগ্য পাঠক-আস্থার নিদর্শন।
ব্যক্তিগত জীবন
তাঁর পারিবারিক জীবন সম্পর্কে প্রকাশ্যে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি। বই-বিক্রেতা পরিচিতিতে তাঁকে সাদামাটাভাবে জীবনযাপনকারী মানুষ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
পুরস্কার ও স্বীকৃতি
প্রকাশ্য সূত্রে তাঁর কোনো পুরস্কারপ্রাপ্তির তথ্য পাওয়া যায়নি।
মূল্যায়ন
চিকিৎসকের পেশাজীবনের পাশাপাশি ধারাবাহিক লেখালেখি চালিয়ে যাওয়া ডা. শামসুল আরেফীন বাংলাদেশের ‘পেশাজীবী-লেখক’ ধারার একজন উল্লেখযোগ্য প্রতিনিধি। যুক্তিনির্ভর ও সহজ ভাষার ইসলামি রচনার মাধ্যমে তিনি বিশেষ করে শহুরে শিক্ষিত তরুণ পাঠকদের কাছে ইসলামি জ্ঞান পৌঁছে দেওয়ার কাজ করছেন। রকমারিতে প্রায় নয় হাজার অনুসারী থাকা প্রমাণ করে, পেশাজীবনের বাইরে থেকেও নিয়মিত লেখালেখির মাধ্যমে পাঠক-আস্থা অর্জন সম্ভব।