মূল কন্টেন্টে যান
আল্লামা ইবনুল জাওযী (রহঃ)

আল্লামা ইবনুল জাওযী (রহঃ)

সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

এক নজরে

পুরো নাম আবুল ফারাজ জামালুদ্দীন আবদুর রহমান ইবন আলী আল-জাওযী
জন্ম আনুমানিক ১১১৬ খ্রিস্টাব্দ (৫১০ হিজরি)
মৃত্যু ১২ রমজান ৫৯৭ হিজরি / ১৬ জুন ১২০১ খ্রিস্টাব্দ (বয়স প্রায় ৮৭)
জন্মস্থান বাগদাদ, আব্বাসি খিলাফত (বর্তমান ইরাক)
মাযহাব হাম্বলি
বিশেষায়িত ক্ষেত্র ইতিহাস, তাফসির, হাদিস, ফিকহ
উপাধি আল্লামা, শায়খুল ইসলাম, আল-হাফিজ
উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ ‘তালবীস ইবলীস’, ‘যাদ আল-মাসীর ফী ইলম আত-তাফসীর’, ‘আল-মুন্তাযাম ফী তারীখ আল-উমাম ওয়াল-মুলূক’

পরিচিতি

আল্লামা ইবনুল জাওযী (রহঃ) ছিলেন দ্বাদশ শতকের মুসলিম বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী আলিম, ঐতিহাসিক, হাদিসবিদ, তাফসিরকার, বিচারক ও বাগ্মী। জীবনীকারদের বর্ণনা অনুযায়ী, তিনি বাগদাদে হাম্বলি মাযহাবের মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তার বংশ খলিফা আবু বকর (রা.)-এর বংশধর বলে পরিচিত।

জন্ম ও শিক্ষা

তিনি আনুমানিক ১১১৬ খ্রিস্টাব্দে (৫১০ হিজরি) বাগদাদে জন্মগ্রহণ করেন — সুনির্দিষ্ট জন্ম তারিখ ঐতিহাসিক সূত্রে নির্ধারিত হয়নি। তিনি সেকালের শীর্ষস্থানীয় আলিমদের কাছে হাদিস, ফিকহ ও আরবি ব্যাকরণ অধ্যয়ন করেন; এদের মধ্যে তার চাচা মুহাম্মদ ইবন নাসির আল-বাগদাদী অন্যতম। জীবনীকার ইবন খাল্লিকানের বর্ণনা অনুযায়ী, তিনি শৈশবেই মেধাবী ছিলেন — দশ বছর বয়সে তিনি প্রথম বক্তৃতা দেন বলে প্রচলিত বর্ণনা রয়েছে।

কর্মজীবন

আব্বাসি খলিফা আল-মুস্তাদীর (১১৭০–১১৮০) শাসনামলে তিনি খলিফার প্রিয়ভাজন হন এবং তার কর্মজীবনের শীর্ষে পৌঁছান। খলিফা তার বক্তৃতায় নিয়মিত উপস্থিত থাকতেন বলে বর্ণনা পাওয়া যায়। ১১৭৯ সাল নাগাদ বাগদাদে তার পাঁচটি মাদরাসা ছিল যেখানে তিনি পাঠদান করতেন। তার বক্তৃতা-সমাবেশে বিশাল জনসমাগম হতো বলে জীবনীকাররা উল্লেখ করেছেন।

তবে তার প্রখর সমালোচনামূলক অবস্থানের কারণে প্রতিদ্বন্দ্বী আলিমদের সাথে বিরোধ তৈরি হয়। খলিফা আল-মুস্তাদীর পুত্র খলিফা আল-নাসিরের শাসনামলে (১১৮০–১২২৫) তিনি বাগদাদ থেকে ওয়াসিত শহরে নির্বাসিত হন এবং প্রায় পাঁচ বছর (৫৯০–৫৯৯ হিজরি, অর্থাৎ ১১৯৪–১১৯৯ খ্রিস্টাব্দ) সেখানে গৃহবন্দি অবস্থায় কাটান। ১১৯৯ সালে মুক্তি পেয়ে তিনি বাগদাদে ফিরে আসেন এবং দুই বছর পর সেখানেই মৃত্যুবরণ করেন।

রচনাবলি

তিনি অত্যন্ত প্রাচুর্যশালী লেখক ছিলেন — ঐতিহাসিক বর্ণনা অনুযায়ী তার রচিত গ্রন্থের সংখ্যা সাত শতাধিক (আধুনিক গবেষকেরা ৩৭৬টি পর্যন্ত শনাক্ত করেছেন)। তার উল্লেখযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে:

‘তালবীস ইবলীস’ (শয়তানের ধোঁকাবাজি), ‘যাদ আল-মাসীর ফী ইলম আত-তাফসীর’ (তাফসির-বিষয়ক বহুখণ্ড গ্রন্থ), ‘আল-মুন্তাযাম ফী তারীখ আল-উমাম ওয়াল-মুলূক’ (বিশ্ব-ইতিহাস), ‘সায়দুল খাতির’ (আত্ম-পর্যবেক্ষণমূলক চিন্তাবলী), ‘আল-মাওদূআত’ (জাল হাদিস-সংকলন) ও ‘সিফাতুস সাফওয়া’। তার শিষ্যদের মধ্যে ইবন কুদামা আল-মাকদিসী, আবদুল গানী আল-মাকদিসী এবং তার নাতি সিবত ইবনুল জাওযীর নাম উল্লেখযোগ্য।

মৃত্যু ও উত্তরাধিকার

তিনি ১২ রমজান ৫৯৭ হিজরি (১৬ জুন ১২০১ খ্রিস্টাব্দ) বাগদাদে প্রায় ৮৭ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। ইসলামি জ্ঞানচর্চায়, বিশেষ করে তাফসির, ইতিহাস ও নৈতিক উপদেশমূলক সাহিত্যে তার গ্রন্থগুলো এখনও ব্যাপকভাবে অধ্যয়ন ও উদ্ধৃত হয়।

বাংলা সাহিত্যের সঙ্গে থাকুন

নতুন বই, কবিতা ও লেখক আপডেট পেতে আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন।