মুহাম্মাদ আতীক উল্লাহ
সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| পূর্ণ নাম | মুহাম্মাদ আতীক উল্লাহ |
| জন্ম | জানা যায়নি |
| জন্মস্থান | জানা যায়নি |
| জাতীয়তা | বাংলাদেশি |
| পেশা | লেখক, দা’য়ী, শিক্ষক |
| শিক্ষা | জানা যায়নি |
| কর্মস্থল | মাদরাসাতুল কুরআনিল কারীম, মধ্যবাড্ডা, ঢাকা (তারজামাতু মা’আনিল কুরআনিল কারীম, সীরাত ও ইতিহাসের শিক্ষক; খতিব) |
| উল্লেখযোগ্য রচনা | ‘গল্পের ক্যানভাসে আঁকা জীবন’, ‘জীবনের ক্যানভাসে আঁকা গল্প’, ‘জীবনের বিন্দু বিন্দু গল্প’, ‘হুদহুদের দৃষ্টিপাত’, ‘সুইটহার্ট কুরআন’, ‘আই লাভ কুরআন’, ‘মাই লাইফ জার্নি উইথ কুরআন’, ‘আমার নবীজি’, ‘নবীজির শিক্ষা’, ‘আখলাক শিষ্টাচার’, ‘শুধু দুজনে’, ‘দুজন দুজনার’, ‘দ্বিখণ্ডিত ভালোবাসা’, ‘মসজিদ মিশন’, ‘দ্য গ্রেট গেইম’, ‘শাপলা: এক অপ্রতিরোধ্য সত্য’, ‘আমাদের বইমেলা’, ‘আমাদের ইন্তিফাদা’, ‘ইসলাম: ভালো কিছু করি’ |
পরিচিতি
মুহাম্মাদ আতীক উল্লাহ (শায়খ মুহাম্মাদ আতীক উল্লাহ) বাংলাদেশের একজন ইসলামি লেখক, দা’য়ী ও শিক্ষক। ঢাকার মধ্যবাড্ডার মাদরাসাতুল কুরআনিল কারীমে তিনি তারজামাতু মা’আনিল কুরআনিল কারীম, সীরাত ও ইতিহাস পড়ান এবং একই প্রতিষ্ঠানের খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ইসলামি বক্তা হিসেবেও তিনি পরিচিত — তাঁর জুমার বয়ান ও আলোচনা সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত হয়।
জন্ম ও শিক্ষা
তাঁর জন্মতারিখ, জন্মস্থান ও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা সম্পর্কে প্রকাশ্যে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি।
কর্মজীবন
শিক্ষকতা ও খতিবের দায়িত্বের পাশাপাশি তিনি নিয়মিত লেখালেখি করেন। দা’ওয়াতি কার্যক্রমের অংশ হিসেবে তিনি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে নসীহতমূলক আলোচনাও করে থাকেন। তাঁর বয়ান ‘শেষ কাফেলা’ ইউটিউব চ্যানেলে নিয়মিত প্রচারিত হয়, যেখানে তাঁকে ‘বিশিষ্ট লেখক, দা’য়ী ইলাল্ল-হ’ হিসেবে পরিচয় দেওয়া হয়। তাঁর সবগুলো গ্রন্থ প্রকাশ করেছে মাকতাবাতুল আযহার।
সাহিত্যজীবন
তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থসমূহ:
- ‘গল্পের ক্যানভাসে আঁকা জীবন’ (২০১৬) — ছোট ছোট গল্পের সমন্বয়ে রচিত গ্রন্থ; ভিন্ন দেশ ও সংস্কৃতির গল্পকে নিজস্ব ভাষা-সংস্কৃতির সঙ্গে মিলিয়ে জীবনের শিক্ষা তুলে ধরা হয়েছে।
- ‘জীবনের ক্যানভাসে আঁকা গল্প’ — একই ধারার গল্পগ্রন্থ; জীবনের নানা দিক ও মানুষের মনোজগৎ গল্পের ভাষায় উপস্থাপিত।
- ‘জীবনের বিন্দু বিন্দু গল্প’ — দৈনন্দিন জীবনের ক্ষুদ্র মুহূর্ত, সিদ্ধান্ত ও অনুভূতিকে ‘বিন্দু’ হিসেবে দেখিয়ে আত্মিক জাগরণের বার্তা দেওয়া হয়েছে।
- ‘হুদহুদের দৃষ্টিপাত’ — কুরআনে বর্ণিত হুদহুদ পাখিকে প্রতীক করে গভীর পর্যবেক্ষণ, সত্য-উপলব্ধি ও নির্ভীক সত্য-কথনের আহ্বান জানানো গ্রন্থ।
- ‘মাই লাইফ জার্নি উইথ কুরআন’ (২০২৪) — সূরা ফাতেহা থেকে সূরা নাস পর্যন্ত কুরআনের তাদাব্বুর (গভীর চিন্তা-ভাবনা) করার পথনির্দেশনা।
তাঁর লেখার বৈশিষ্ট্য হলো সহজ-সাবলীল ভাষায় গভীর নৈতিক ও আত্মিক কথা বলা; জটিল বিষয়কে তিনি গল্পের সঙ্গে এমনভাবে মিশিয়ে দেন যাতে পাঠকের ‘উপদেশ শোনার’ অনুভূতি না হয়। তাঁর লেখা বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে জনপ্রিয়।
কুরআনকেন্দ্রিক রচনায় তিনি বিশেষভাবে সক্রিয়। ‘সুইটহার্ট কুরআন’ (৭২০ পৃষ্ঠা, ২০২১) — কুরআনের প্রতি মুমিনের অন্তরঙ্গ সম্পর্ক গড়ার আহ্বান জানানো বৃহৎ গ্রন্থ; ‘আই লাভ কুরআন’; এবং ‘মাই লাইফ জার্নি উইথ কুরআন’ (২০২৪) এই ধারার উল্লেখযোগ্য বই। পাশাপাশি ‘দরসে কুরআন’ শিরোনামে তাঁর ধারাবাহিক কুরআনি আলোচনা ‘শেষ কাফেলা’ ইউটিউব চ্যানেলে প্রচারিত হয়।
সীরাত-সাহিত্যেও তাঁর অবদান রয়েছে: ‘উসওয়াতুন হাসানাহ’ শিরোনামে তিনি ধারাবাহিক সীরাত আলোচনা করেন, আর গ্রন্থ হিসেবে রয়েছে ‘আমার নবীজি’ ও ‘নবীজির শিক্ষা’। শিশু-কিশোরদের জন্য লিখেছেন ‘আখলাক শিষ্টাচার’; দাম্পত্য-বিষয়ক গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘শুধু দুজনে’, ‘দুজন দুজনার’ ও ‘দ্বিখণ্ডিত ভালোবাসা’। এছাড়া ‘মসজিদ মিশন’, ‘দ্য গ্রেট গেইম’, ‘শাপলা: এক অপ্রতিরোধ্য সত্য’, ‘আমাদের বইমেলা’, ‘আমাদের ইন্তিফাদা’ ও ‘ইসলাম: ভালো কিছু করি’-সহ আরও অনেক গ্রন্থ তাঁর নামে প্রকাশিত। ওয়াফিলাইফের লেখক-পাতায় তাঁর ষোলটিরও বেশি গ্রন্থ তালিকাভুক্ত — যা তাঁকে সমকালীন ইসলামি লেখকদের মধ্যে অন্যতম প্রলিফিক লেখক হিসেবে চিহ্নিত করে।
ব্যক্তিগত জীবন
তাঁর পারিবারিক জীবন সম্পর্কে প্রকাশ্যে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি।
পুরস্কার ও স্বীকৃতি
প্রকাশ্য সূত্রে তাঁর কোনো পুরস্কারপ্রাপ্তির তথ্য পাওয়া যায়নি।
মূল্যায়ন
শিক্ষক, খতিব ও লেখক — এই ত্রিমুখী ভূমিকায় মুহাম্মাদ আতীক উল্লাহ বাংলাদেশের সমকালীন ইসলামি সাহিত্যে গল্প-নির্ভর আত্মশুদ্ধিমূলক রচনার একজন সক্রিয় প্রতিনিধি। মাদরাসা-শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা তাঁর লেখায় শিক্ষামূলক স্বর এনে দিয়েছে, যা পাঠকের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে সহজে সংযোগ স্থাপন করে।