ওয়েন কোলফার
সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
এক নজরে
| পূর্ণ নাম | ওয়েন কোলফার (Eoin Colfer) |
| জন্ম | ১৪ মে ১৯৬৫, ওয়েক্সফোর্ড, আয়ারল্যান্ড |
| জাতীয়তা | আইরিশ |
| পেশা | লেখক (সাবেক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক) |
| শিক্ষা | ট্রিনিটি কলেজ ডাবলিন; প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ |
| উল্লেখযোগ্য রচনা | Artemis Fowl সিরিজ, Benny and Omar, Airman, And Another Thing… |
| পুরস্কার ও সম্মাননা | বিস্টো মেরিট অ্যাওয়ার্ড (২০০১), আইরিশ বুক অ্যাওয়ার্ড (২০১৫), লরিয়েট না নোগ (২০১৪–২০১৬) |
পরিচিতি
ওয়েন কোলফার (জন্ম ১৪ মে ১৯৬৫) আয়ারল্যান্ডের শিশুসাহিত্য লেখকদের মধ্যে বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে পরিচিত নামগুলোর একটি। তাঁর সৃষ্টি আর্টেমিস ফাউল সিরিজ — বারো বছর বয়সী এক অপরাধ-প্রতিভা কিশোর ও পরীদের গোপন জগতের কাহিনী — প্রকাশের পর থেকেই শিশু-কিশোর ফ্যান্টাসি সাহিত্যের আধুনিক ক্লাসিক হিসেবে গণ্য হয়ে আসছে। ২০১৩ সাল নাগাদ এই সিরিজের বই বিশ্বব্যাপী দুই কোটি দশ লাখের বেশি কপি বিক্রি হয় এবং ৪৪টি ভাষায় অনূদিত হয়; ২০১০ সালে পাঠক-জরিপে এটি পাফিন বুকসের সর্বকালের প্রিয় বই নির্বাচিত হয়।
জন্ম ও শৈশব
১৯৬৫ সালের ১৪ মে আয়ারল্যান্ডের দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলের শহর ওয়েক্সফোর্ডে ওয়েন কোলফারের জন্ম। চার ভাইয়ের সংসারে বেড়ে ওঠা কোলফারের বাবা ছিলেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক, ইতিহাসবিদ ও শিল্পী; মা ছিলেন নাট্যশিক্ষিকা। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ার সময় ইতিহাসের পাঠ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি ভাইকিংদের নিয়ে রোমাঞ্চকর গল্প লিখতে শুরু করেন — সেখানেই লেখালেখির প্রতি তাঁর আগ্রহের সূত্রপাত।
শিক্ষা ও কর্মজীবন
ডাবলিনের ট্রিনিটি কলেজ থেকে ডিগ্রি নিয়ে তিনি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে যোগ্যতা অর্জন করেন এবং নিজের শহর ওয়েক্সফোর্ডে শিক্ষকতা শুরু করেন। ১৯৯১ সালে বিয়ের পর স্ত্রীকে নিয়ে ১৯৯২ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত প্রায় চার বছর তিনি সৌদি আরব, তিউনিসিয়া ও ইতালিতে কাজ করেন। বিদেশে কাটানো এই বছরগুলোর অভিজ্ঞতাই পরে তাঁর প্রথম বইয়ের উপাদান জোগায়।
সাহিত্যজীবন
তিউনিসিয়ার অভিজ্ঞতা অবলম্বনে লেখা বেনি অ্যান্ড ওমর (১৯৯৮) প্রকাশের মধ্য দিয়ে কোলফারের গ্রন্থ-জীবন শুরু হয়; এর সিক্যুয়েল আসে ১৯৯৯ সালে। কিন্তু আসল সাফল্য আসে ২০০১ সালে আর্টেমিস ফাউল প্রকাশের পর — বইটি দ্রুত নিউইয়র্ক টাইমস বেস্টসেলার তালিকায় ওঠে। সাফল্যের ধারায় তিনি শিক্ষকতা ছেড়ে পূর্ণকালীন লেখক হন।
মূল সিরিজে ২০০১ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে আটটি উপন্যাস প্রকাশিত হয় — দ্য আর্কটিক ইনসিডেন্ট (২০০২), দ্য ইটার্নিটি কোড (২০০৩), দ্য ওপাল ডিসেপশন (২০০৫), দ্য লস্ট কলোনি (২০০৬), দ্য টাইম প্যারাডক্স (২০০৮), দ্য আটলান্টিস কমপ্লেক্স (২০১০) ও দ্য লাস্ট গার্ডিয়ান (২০১২)। এর বাইরে তাঁর উল্লেখযোগ্য বইয়ের মধ্যে আছে দ্য সুপারন্যাচারালিস্ট (২০০৪), হাফ মুন ইনভেস্টিগেশনস, দ্য উইশ লিস্ট ও এয়ারম্যান (২০০৮)। ২০০৮ সালে ডগলাস অ্যাডামসের হিচহাইকার্স গাইড টু দ্য গ্যালাক্সি সিরিজের ষষ্ঠ কিস্তি লেখার কমিশন পান তিনি; অ্যান্ড অ্যানাদার থিং… (২০০৯) সেই কমিশনের ফসল। ২০১৬ সালে মার্ভেল কমিকসের সঙ্গে চুক্তিতে প্রকাশ করেন আয়রন ম্যান: দ্য গন্টলেট। ২০১৯ সালে আর্টেমিসের ছোট দুই ভাইকে নিয়ে শুরু হয় স্পিন-অফ সিরিজ দ্য ফাউল টুইনস; ২০২০ সালে কেনেথ ব্র্যানার পরিচালনায় ওয়াল্ট ডিজনি আর্টেমিস ফাউল-এর চলচ্চিত্ররূপ মুক্তি দেয়।
ব্যক্তিগত জীবন
স্ত্রী জ্যাকি ও সন্তানদের নিয়ে কোলফার এখনও ওয়েক্সফোর্ডেই বসবাস করেন। আর্টেমিস ফাউল-এর পাণ্ডুলিপি প্রথম পড়ে তাঁর স্ত্রীই তাঁকে আয়ারল্যান্ডের বাইরে প্রকাশনার পরামর্শ দিয়েছিলেন — সেই সিদ্ধান্তই তাঁর বিশ্বজোড়া সাফল্যের পথ খুলে দেয়।
পুরস্কার ও সম্মাননা
- বিস্টো মেরিট অ্যাওয়ার্ড (২০০১)
- আইরিশ বুক অ্যাওয়ার্ড (২০১৫)
- লরিয়েট না নোগ — আয়ারল্যান্ডের শিশুসাহিত্য লরিয়েট (২০১৪–২০১৬)
বর্তমান অবস্থা ও উত্তরাধিকার
ওয়েন কোলফার জীবিত আছেন এবং লেখালেখি চালিয়ে যাচ্ছেন। শিক্ষক থেকে বিশ্ববিখ্যাত লেখক হওয়ার তাঁর যাত্রা, আর বারো বছরের এক অপরাধ-প্রতিভা কিশোরকে নিয়ে গড়া জগৎ, একবিংশ শতকের শিশুসাহিত্যের অন্যতম সফল অধ্যায় হিসেবে রয়ে গেছে।