ইবলীসী স্বভাব: অতীত চর্চা! ©Akhtar Bin Amir
আমাদের, বিশেষ করে বাঙালীদের স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য হচ্ছে আমরা মানুষের অতীত ঘাঁটাঘাঁটির মাঝে আত্মতৃপ্তি খুঁজি! অতীতের কালো অধ্যায়কে বিদ্রুপ আর খোঁটার হাতিয়ার বানাই। যেমন ধরুন: আপনি অতীতে বেদ্বীন, বে-নামাযী ছিলেন, এখন নিয়মিত নামায আদায় করেন এবং মানুষকে আল্লাহর ঘর তথা মসজিদের দিকে ডাকেন। একদল লোক আপনাকে উপহাস করে বলবে, “আরে ব্যাটা কয়দিন হল নামায পড়িস? আমরা কি তোর ইতিহাস জানিনা? খুউব হুজুর হয়ে গেছো তাইনা? আবার ধরুন, শয়তানের ধোঁকায় পড়ে অতীতে গোনাহ করে ফেলেছেন কিংবা নফসের দাসত্বের শৃঙ্খলে বন্দী হয়ে হারাম রিলেশনে জড়িয়ে ছিলেন। পরবর্তীতে নিজেকে পরিশুদ্ধ করে মানুষকে হারাম কথা ও কর্ম এবং হারাম রিলেশন থেকে সর্তক করছেন। এমতাবস্থায়, একদল লোক আপনাকে খোঁচা মেরে বলবে,”আরে ব্যাটা! আগে নিজের চরকায় তৈল দাও, কয়দিন আগেও তো তুমি…. ” গ্রাম অঞ্চলের মহিলাদের কথা আর নাইবা বললাম!
.
অতীত তো চলেই গেছে, তারপরও অন্যের অতীত ঘটনাবলীকে টেনে খোঁটা দেয়া লোকগুলি নিজের বর্তমান আর অনাগত ভবিষ্যত নিয়ে যদি নূন্যতম চিন্তাও করত, তাও নিজেকে এই বলে সান্ত্বনা দেয়া যেত যে, সমালোচকরা অন্তত আমার চাইতে উত্তম। বড্ডো আফসোস করে কবি বলেছিলেন, “কারো অতীত নিয়ে ঘাটাঘাটি করো না, হতে পারে বর্তমানে সে অনুতপ্ত এবং আল্লাহর কাছে রোজ ক্ষমা চাইছে।” আর মানুষের অতীত চর্চায় লেগে থাকা বদস্বভাবী লোকদের ব্যাপারে শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন,“লোকে অতীতে কী ধরনের কাজ করতো সেইদিকে তোমাদের খেয়াল করা উচিত নয়, বরং তারা আজকে কেমন মানুষ সেই বিষয়ে খেয়াল রাখা উচিত ৷ যে ব্যক্তি মানুষের অতীত নিয়ে লেগে থাকে, সে তো একদম ইবলিসের মতন, যে আল্লাহকে বলেছিল: “আপনি আমাকে আগুন দিয়ে সৃষ্টি করেছেন এবং তাকে (আদমকে) সৃষ্টি করেছেন কাঁদা মাটি থেকে”। — [আল-মিনহাজ : ২/৪৩০]।
.
আল্লাহ তাআ’লা আমাদেরকে হক্ব কথা বুঝার ও মানার তাউফ্বীক দান করুন – আমীন ইয়া রা’ব্বাল আলামীন।
▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬
বইপাও থেকে আপনি আর কি কি কন্টেন্ট পেতে চান?