⦁ বইয়ের নাম: ইসলামী আক্বীদাহ।
⦁ লেখক: ড.আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর (রাহিমাহুল্লাহ)।
⦁ প্রকাশনায় : আস-সুন্নাহ পাবলিকেশন্স।
⦁ পৃষ্ঠা সংখ্যা : ৬৪০।
⦁ মুদ্রিত মুল্য : ৪০০ টাকা মাত্র।
❒ ভূমিকা,
.
আল্লাহ তা‘আলা মানব জাতির জন্য ইসলামকে একমাত্র দ্বীন হিসাবে মনোনীত করেছেন। এতদ্ভিন্ন কোন দ্বীন আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য নয়। এ-প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ্ বলেন,
ﻭَﻣَﻦْ ﻳَﺒْﺘَﻎِ ﻏَﻴْﺮَ ﺍﻟْﺈِﺳْﻼَﻡِ ﺩِﻳْﻨًﺎ ﻓَﻠَﻦْ ﻳُﻘْﺒَﻞَ
ﻣِﻨْﻪُ ﻭَﻫُﻮَ ﻓِﻲْ ﺍﻟْﺂﺧِﺮَﺓِ ﻣِﻦَ ﺍﻟْﺨَﺎﺳِﺮِﻳْﻦَ –
“যে ব্যক্তি ইসলামব্যতীত অন্য কোন দ্বীন অন্বেষণ করবে তার থেকে তা কখনোই গ্রহণ করা হবে না এবং সে পরকালে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে — [ সূরাহ আল-ইমরান: ৩/৮৫]।
আর ইসলামে প্রবেশের একমাত্র মাধ্যম হ’ল আক্বীদাহ বিশুদ্ধ হওয়া। কারণ ইসলামের মৌলিক বিষয় হ’ল আক্বীদাহ। আক্বীদাহ বা বিশ্বাসই মানুষকে পথভ্রষ্ট করে;
এমনকি ইসলাম থেকে বের করে দেয়। যেমন, আক্বীদাহগত ভ্রান্তির কারণে একজন মানুষ তার
সৃষ্টিকর্তাকে ভুলে গিয়ে নিজ হাতে বানানো মূর্তির পূজা করে, তাকেই পরকালে নাজাতের অসীলা মনে করে, তার বিরুদ্ধে অবস্থানকারী নিজ সন্তান হ’লেও
তাকে হত্যা করার মত ঘৃণিত ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। আক্বীদাহগত ভ্রান্তির কারণেই পিতা-মাতা অথবা সন্তান-সন্ততির মৃত্যুর পরে কবরস্থ করার পরিবর্তে আগুনে পুড়িয়ে ভস্মীভূত করে তাকে অস্তিত্বহীন করার চেষ্টা করা হয়। আক্বীদাহগত ভ্রান্তির কারণেই একজন মানুষ কবর, মাযার, পীর, দরবেশকে বিশেষ ক্ষমতার অধিকারী মনে করে। এ-রকম হাজারো ভ্রান্তির অন্যতম কারণ হচ্ছে আক্বীদাহ পরিশুদ্ধ না হওয়া। আর তাই বিশুদ্ধ আক্বীদাহ সম্পর্কে জানার জন্য আলোচ্য বইটি অবশ্যপাঠ্য।
.
❒ বইটি কেন পড়বেন,
.
আক্বীদাহ শব্দটির শাব্দিক অর্থ হচ্ছে, গিরা বা বাঁধন। পারিভাষিক অর্থে সেই সুদৃঢ় বিশ্বাসকেই আক্বীদাহ বলা হয়; যার উপর ভিত্তি করে মানুষ তার জীবন পরিচালনা করে। আর ইসলামী আক্বীদাহ বলতে বুঝায় – মহান আল্লাহর রুবূবিয়্যাত, উলুহিয়্যাত ও আসমা ওয়াস ছিফাতের উপর দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করা। তাঁর ফেরেশতামন্ডলী, নবী-রাসূলগণ, তাঁদের উপর নাযিলকৃত কিতাব সমূহ, আখিরাত বা পরকাল এবং তাক্বদীরের ভাল-মন্দের উপর সন্দেহমুক্ত দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করা।
.
গ্রন্থাকার আলোচ্য গ্রন্থে ইসলামী আক্বীদাহ ও উহার পরিপন্থী বিষয়ের উপর নাতিদীর্ঘ আলোচনা করেছেন। যেহেতু আমাদের দেশে এ-বিষয়ে লেখা ও অনুবাদিত পুস্তককাদীর সংখ্যা নিতান্তই অপ্রতুল, সেহেতু সর্ব শ্রেণীর মানুষ তথা ইসলামী শিক্ষিত, সাধারণ শিক্ষিত এবং স্বল্পশিক্ষিত লোকজন যেন বইটি পাঠ করে ইসলামী আক্বীদাহ ও উহার পরিপন্থী বিষয়ে যথাযথ জ্ঞানার্জন করতে পারেন সেদিকে দৃষ্টি রাখা হয়েছে।এতে অন্তর্ভুক্ত বিষয়াদি অত্যান্ত চমৎকার, সাবলীল ও প্রাঞ্জল ভাষায় ব্যক্ত করা হয়েছে। সার্বিক দিক বিবেচনায় আমার কাছে এই গ্রন্থটি সময়োপযোগী, যৌক্তিক ও জ্ঞান পিপাসুদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছে।
.
❒ এক নজরে সূচিপত্র :
.
আলোচ্য বইটি সর্বমোট ছয়টি অধ্যায় ও বেশকিছু পরিচ্ছেদের সমন্নয়ে সাজানো হয়েছে। বইটি পড়তে যেয়ে বেশকিছু ভালো আলোচনা আমার দৃষ্টিগোচর হয়েছে। যাইহোক, কথা লম্বা না করে সংক্ষিপ্তাকারে অধ্যায় ও গুরুত্বপূর্ণ পরিচ্ছদগুলোর বিষয়বস্তু তুলে দেই, যাতে আপনারা প্রাথমিক ধারণা পেতে পারেন —
⦁ ঈমান, আক্বীদাহ ও অন্যান্য পরিভাষা।
⦁ ইসলামী আক্বীদাহর উৎস।
⦁ ইসলামী আক্বীদাহর গুরুত্ব।
⦁ আক্বীদাহ বিষয়ক গ্রন্থাবলী।
⦁ তাওহীদের ঈমান।
⦁ রিসালাতের ঈমান।
⦁ রিসালাতের বিশ্বাসের গুরুত্ব।
⦁ আরকানুল ঈমান।
⦁ আল্লাহর গ্রন্থসমূহে বিশ্বাস।
⦁ রসূলগণের প্রতি ঈমান।
⦁ আখিরাতের প্রতি ঈমান।
⦁ তাক্বদীরের প্রতি ঈমান।
⦁ অবিশ্বাস ও বিভ্রান্তি।
⦁ শিরক ও শিরক প্রতিরোধে ক্বুর’আন ও সুন্নাহ।
⦁ মুসলিম সমাজে প্রচলিত শিরক – কুফর।
⦁ কুফর বনাম তাকফীর।
⦁ বিদ’আত ও বিভ্রান্তি।
⦁ ইফতিরাক ও ইখতিলাফ।
⦁ আহলে সুন্নাহ ওয়াল জাম’আতের পরিচয়।
⦁ বিভ্রান্ত দল-উপদলসমূহ।
⦁ খারিজী ফিরকা ও অন্যান্য ফিরকা।
.
পরিশেষে দোয়া করছি, মহান আল্লাহ্ ভুল-ত্রুটি মাফ করত: গ্রন্থটিকে লেখকের নাজাতের ওসীলা করে দিন।
আমাদেরকে ইসলামের উপর কায়েম রাখুন এবং এর উপরই আমাদের মৃত্যু দিন — আমীন।
.
.
.
রিভিউ লেখক : আখতার বিন আমীর।
▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬
বইপাও থেকে আপনি আর কি কি কন্টেন্ট পেতে চান?