চতুষ্কোণ : লেখক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় | Chatushkon Author : Manik Banerjee
বই সম্পর্কে
- বই : চতুষ্কোণ
- রচয়িতা : মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
- প্রকাশক : বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র
- প্রচ্ছদ : ধ্রুব এষ
- পৃষ্ঠাসংখ্যা : ১১০ পৃষ্ঠা
- মুদ্রিত মূল্য : ১৫০ টাকা।
‘এরা সুখের লাগি চাহে প্রেম, প্রেম মেলে না
শুধু সুখ চলে যায়..’
এই উপন্যাসটি প্রথমবার পড়ে ভালোভাবে বুঝতে পারিনি। পরে আর একবার পড়লেও কিছু বিষয়ে অস্পষ্ট ধারণা রয়ে গেছে। উপন্যাসে যৌনতা আছে, কিন্তু তা পাঠকের মনে কামভাব জাগ্রত করে না, বরং মস্তিষ্ককে আলোড়িত করে।
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস ‘চতুষ্কোণ’। প্রধান চরিত্র রাজকুমারের সাথে চারজন মেয়ের সম্পর্ককে লেখক নিজের দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যা করেছেন। প্রথমে ভেবেছিলাম এই চারটি মেয়ে হয়তো গিরিন্দ্রনন্দিনী, মালতী, রিণি ও সরসী। কিন্তু পরে অপরিপক্ক গিরির স্থান দখল করে নেয় রাজকুমারের দূর সম্পর্কীয় দিদির মাসতুতো বোন কালী। এই চারটি মেয়ের সবাই-ই রাজকুমারকে চায়, কিন্তু তাদের চাওয়ার মধ্যে রকমফের আছে। কারও চাওয়া খুবই তীব্র, কেউ খুবই ধীরস্থির ও যুক্তিবাদী, আবার কেউ এটাকে রেষারেষির পর্যায়ে নিয়ে গেছে।
উপন্যাসটি পড়ার এক পর্যায়ে রাজকুমারকে লম্পট চরিত্রের মনে হয়েছিল, কিন্তু পড়া শেষে তার প্রতি করুণার উদ্রেক হয়েছে। শরীর ও মনের সম্পর্কের পরীক্ষার বিষয়টিও এক একজন দেখেছে এক একভাবে। এবং এই পরীক্ষার জন্যই তার জীবনেও এক নাটকীয় পরিবর্তন আসে।
বস্তুত, উপন্যাসের চরিত্রগুলো বিভিন্ন ঘটনা থেকে একজন আরেকজনের সম্বন্ধে কিছু যুক্তি সাজায়, পরবর্তীতে কোনো একটা ঘটনার দরুণ সেই যুক্তি বাতিল করে নতুন একটা যুক্তি গড়ে তোলে এবং এবং এই যুক্তিও পরে কোনো না কোনো সময় নাকচ হয়ে যায়। এভাবে নিজেদের মনে যুক্তি আর তর্কের মাধ্যমে এক প্রহেলিকাময় জগৎ তৈরি করে তারা।
সর্বোপরি, বইটি পড়ে ভালো লেগেছে না লাগেনি তা এক কথায় প্রকাশ করা খুব সহজ নয়।
