বই: মুহসিনীন (উত্তম পুরুষদের পাঠশালায়)পুরুষ তুমি কে?
পুরুষ তো পাথরের মতো শক্ত। কখনো আবার শিমুলের মতো কোমল, সমুদ্রের মতো উদার। তবু সে অন্তর যেন কাঁদতে জানে না। নিজের চোখে অনেক স্বপ্ন থাকে। কিন্তু কখনো তা মন ভরে দেখা হয় না। নিজের রগ ফুলে ওঠা হাত দিয়ে অন্যের স্বপ্ন গড়েছে শুধু। কত মানুষ ঐ হাত ধরে নিজের পা মজবুত করেছে তা কেউ গুনে রাখেনি হিসেবের রেওয়ামিলে।
.
শৈশবে মা বড় সোহাগ করে কাধে চাপিয়ে দিত ব্যাগ ভর্তি ক্লাসরুম। সেই থেকেই নিজের কাধে দায়িত্ব টা বুঝে নেয়া। যৌবন চলে যায় বাদুরের মতো বাসে ঝুলে ঝুলে। ঘামের গন্ধটা চিরচেনা তখন। অফিসের ব্যাগটাও ভিষণ ভারি। ব্যাগটা ভর্তি আছে বসের বকুনীতে। মাস শেষে স্যালারীটা গুনে গুনে আসে আবার গুনে গুনেই চলে যায়।
পরিবারের বৃদ্ধ মা আর বাবা চাতক পাখির মতো চেয়ে থাকে। তাদের কথা ভেবে হালকা আকাশী রঙ এর প্রিয় পাঞ্জাবী টা আর কেনা হয় না। পরিবারের মাথার উপর বটগাছের ছায়ার মত হয়ে থাকে পুরুষ। তাই প্রিয় পরিবারেটা দেখতে গিয়ে প্রিয়তমাকে আর সময় মতো পেয়ে ওঠা হয় না। যখন পাওয়া যায় তখন আসলে সময় টা থাকে না। ধীরে ধীরে সময় আরও গড়িয়ে জীবনের অপর কুলের কাছাকাছি চলে আসে।
.
বৃদ্ধ বয়সেও কাধে চেপে বসা সেই শৈশবের বোঝাটা তখনও নামেনি। বাজারের টাকা দাও, গ্যাস-পানির বিল দাও, মেয়ের বিয়ে দাও, মেঝো ছেলের পড়ার খরচ দাও, ছোট ছেলেকে নতুন জামা দাও; এই করেই জীবন চলতে থাকে ধীর গতিতে। পরিবারে বাবার মোবাইলটা সবচেয়ে ছোট, বাবার শার্টে তালি, বাবার জুতাটা ৪ বার সেলাই করা।
বিগত ৩ ঈদে কিছু কেনা হয়নি বাবার নিজের জন্য। সন্তানেরা সেদিকে নজর দেয়না, তারা নিজেদেরটা নিয়েই খুশি। এতে যদিও বাবার কোনো গ্লানি নেই। কারণ হচ্ছে, সে একজন পুরুষ। আর পুরুষের কাঁদতে নেই। সে আজীবন কষ্ট করে যাবে, কিন্তু কখনো কষ্ট পাবে না। পুরুষদের জীবনটা যুদ্ধ দিয়ে শুরু যুদ্ধ দিয়ে শেষ। জখম পুরুষের শান। বাস্তবতা পুরুষের ঢাল।
.
পুরুষ সুন্দর। পুরুষ সুন্দর তার ঘামে, তার রক্তে, তার রৌদ্রে পোড়া তামাটে রঙে। পুরুষ সুন্দর কেননা সে খুব দামী এক অন্তরকে নিজের ভেতর লালন করে। অরণ্যের চেয়েও গম্ভীর, সাগরের চেয়েও সুগভীর, আকাশগঙ্গার চেয়েও সুবিশাল।
.
‘পুরুষ হতে হলে’ অধ্যায় থেকে নেওয়া
বই: মুহসিনীন (উত্তম পুরুষদের পাঠশালায়)
অর্ডার করতে ভিজিট করুন: Wafilife