⦁ বইয়ের নাম: কুফুরি ফাতওয়া ও তার কুপ্রভাব।
⦁ লেখক : উস্তায সাইফুদ্দীন বিলাল মাদানী।
⦁ প্রকাশনায় : ওয়াহীদিয়া ইসলামিয়া লাইব্রেরী।
⦁ পৃষ্ঠা সংখ্যা : ১৩০।
⦁ নির্ধারিত মুল্য : ৫৫ টাকা মাত্র।
❒ প্রারাম্ভিকা,
.
ইসলামের প্রাচীনতম ফিত্বনার মধ্যে অন্যতম হলো মুসলিমকে কাফির বলার ফিত্বনা। এই ফিতনার সৃষ্টি করেছিল খারেজীরা। অনেক নামধারী মুসলিমের মধ্যেই কুফর ও শিরক বিদ্যমান। সমাজের অনেক মানুষই নিজেকে মুমিন ও তাওহীদে বিশ্বাসী বলে দাবী করার পরও বিভিন্ন প্রকার শিরক ও কুফরে লিপ্ত থাকেন। তাদের এ সকল কর্ম শিরক অথবা কুফর বলে নিশ্চিত জানার পরও এদেরকে কাফির বা মুশরিক বলার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা ইসলামের নির্দেশ। উগ্রপন্থীরা গুনাহগার মুসলিম ব্যক্তিকে কাফির বলে ফাতওয়া দিয়ে থাকে। কোন কর্মকে কুফর বা শিরক বলা এবং কোন ব্যক্তিকে কাফির বা মুশরিক বলার মধ্যে রয়েছে আকাশ-পাতাল পার্থক্য। খারেজীদের মতো বর্তমানেও মুসলিম ব্যক্তিকে কাফির বলার প্রবনতা বৃদ্ধি পেয়েছে।
.
❒ বইটি কেন পড়বেন :
.
চরমপন্থীরা কুরআন ও হাদীসের অপব্যাখা করে ভিবিন্ন দেশের সরকার, আলেম-উলামা থেকে শুরু করে সাধারন মুসলিমদেরকেও ঢালাওভাবে কাফির বলে ফাতওয়া প্রদান করে। মূলত যারা তাদের মত ও পথের অনুসারী নয় তাদেরকেই চরমপন্থীরা কাফির মনে করে। অথচ মুসলিম ব্যক্তি কবীরা গুনাহ করলেও তাকে কাফির বলা যাবে না, কৃত গুনাহের জন্য সে ফ্বাসিক, ফাজির তথা পাপাচারী হিসাবে গণ্য হবে, কিন্তু সে কাফির হবে না। ইমাম আলবানী (রাহিমাহুল্লাহ) এই ফিতনার অন্যতম কারন হিসাবে দুটি বিষয়কে চিহ্নিত করেছেন। প্রথমত, ইলমের অগভীরতা এবং দ্বিতীয়ত শরীয়তের আইন-কানুন সম্পর্কে তাদের গভীর জ্ঞান না থাকা, অথচ তারা আকাঙ্ক্ষা করে বিশুদ্ধ ইসলামী দাওয়াতের। জ্ঞাতব্য যে, কুফুরী ফাতাওয়া-র ভয়ংকর ও বিপদজনক কুপ্রভাব ব্যক্তি কিংবা দল, জাম’আত অথবা যেকোনো দেশের ক্ষেত্রেও হতে পারে। তাই এ-সম্পর্কে স্বচ্ছ জ্ঞান থাকা আবশ্যক।
.
আলোচ্য বইয়ে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও উগ্রপন্থার কারণ ও প্রতিকারের উপায় বা করণীয়, ফিতনাতুত তাকফির বা কাউকে কাফির প্রতিপন্ন করার ফিতনা ইত্যাদি সম্পর্কে কুরআন, সুন্নাহ ও সালফে সালিহীনের কর্মনীতির আলোকে দলীলভিত্তিক আলোচনা করা হয়েছে। এতে অন্তর্ভুক্ত বিষয়গুলি অত্যান্ত সাবলীল ও প্রাঞ্জল ভাষায় ব্যক্ত করা হয়েছে, যাতে সর্বস্তরের লোক বইটি পাঠ করে সহজেই উপকৃত হতে পারেন। আমি মনে করি, দ্বীনের পথে আসা নবাগত ভাইদের উক্ত বই থেকে ফাইদাহ্ হাছিল করা উচিত, যাতে হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালাদের খপ্পরে পড়ে না যান।
.
❒ এক নজরে সূচিপত্র :
.
আলোচ্য বইটি পড়তে যেয়ে বেশকিছু ভালো আলোচনা আমার দৃষ্টিগোচর হয়েছে। যাইহোক, কথা আর লম্বা না করে অধ্যায়গুলির বিষয়বস্তু তুলে দেই, যাতে আপনারা প্রাথমিক ধারণা পেতে পারেন —
— কুফর শব্দের অর্থ ও এর প্রকারভেদ।
— বড় কুফরি ও ছোট কুফরির মধ্যে পার্থক্য।
— কুরআন-হাদীসে কুফর শব্দ পাপ অর্থে ব্যবহার।
— কুফরি ফতোয়ার ক্ষেত্রে দুটি মূলনীতি।
— কুফরি ফতওয়ার ভয়ংকর পরিণাম।
— কুফরি ফতওয়ার কারণসমূহ।
— কি করলে কুফরি হয় আর কি করলে কুফরি হয়না।
— যাদের কুফরির ব্যাপারে দলিল সুস্পষ্ট তাদেরকে সাধারণভাবে কুফরি ফতওয়া দেওয়ার বিধান।
— নির্দিষ্ট করে কাউকে কুফরি ফতওয়ার জন্য তার প্রতি দলিল সাব্যস্তকরণ।
— কুফরির জন্য শর্ত ও তার নিষিদ্ধতা।
— কবিরা (বড়) ও ছগিরা (ছোট) পাপের মাঝে পার্থক্য করার নীতিমালা।
— কুফরি ফাতওয়ার কিছু ভুল চিত্র ও দৃশ্য।
— শাসকদের কুফরি ফতওয়ার ব্যাপারে দু’টি বিষয় ত্রুটিযুক্ত।
— কুফরি ফাতওয়াবাজির চিকিৎসা এবং বিস্ফোরণ ও ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপের ভয়াবহতা সম্পর্কে সৌদি আরবের সর্বোচ্চ উলামা পরিষদের বিবৃতি – শেষে বইটির পরিসমাপ্তি টানা হয়েছে।
.
❒ সমালোচনা :
.
বইটির বানানরীতি ও প্রচ্ছদ ভাল লাগেনি। আশা করছি পরবর্তী সংস্করণে পূর্বপ্রকাশিত প্রচ্ছদ ও বানানরীতির পরিবর্তন আসবে।
.
পরিশেষে দোয়া করছি – আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তাআ’লা বইটির লেখক, প্রকাশকসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে উত্তম প্রতিদান দিন – আমীন ইয়া রাব্বাল আ’লামীন।
.
.
.
রিভিউ লেখক : আখতার বিন আমীর।
▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬
বইপাও থেকে আপনি আর কি কি কন্টেন্ট পেতে চান?