বইয়ের নাম: দীপ নেভা দ্বীপ
লেখক: রুজহানা সিফাত
প্রচ্ছদ: ইশরাক তাসরিক তূর্ণ
প্রকাশক : ফৌজিয়া খান তামান্না
প্রকাশনী: চলন্তিকা
প্রকাশকাল: সেপ্টেম্বর ২০২১
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৭৬
মলাট মূল্য: ৩০০ টাকা।
“ও সোনা বউ বউ রে
কেমনে বান্ধিবি আমায় সংসারে”
আমাদের সমাজে নারীরা অবহেলিত, লাঞ্চিত, সংগ্রামী। এ তো জানা কথা! কিন্তু একেকজন নারীকে মাঝে মাঝে এত বেশি সংগ্রামী হতে হয়, এতটা কাঠিন্যের মধ্য দিয়ে যেতে হয় তাকে তখন নারী কম “আয়রন লেডি” বেশি মনে হয়। এমনই এক সংগ্রামী নারীর জীবনের কঠিনতম সময়ের আলোকে নির্মিত (রচিত) উপন্যাস “দীপ নেভা দ্বীপ”।
পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ
জীবনমুখী কিছু উপন্যাস থাকে, যেগুলো পড়ার পর একটা অন্যরকম ভালো লাগা কাজ করে। এগিয়ে যাবার একটা অনুপ্রেরণা থাকে। এই উপন্যাসটি তেমনইভাবে ভেতরে নাড়া দিয়েছে খুব। আলো নিভে যাওয়া দ্বীপের গল্প থেকেও যে জীবনের আলো খুঁজে পাওয়া যায়, উজ্জ্বলতায় উজ্জীবিত হওয়া যায়, এই বইটি থেকে সেটিই প্রমাণ পাওয়া যায়। তবে উপন্যাসের শেষ দিকটায় এসে মনে হলো একটু তাড়াহুড়ো করেই সমাপ্তি হয়েছে। তবে এটা স্বীকার করতেই হয়, এটাও লেখার একটা গুণ যে পাঠকের আকাঙ্ক্ষা উজ্জীবিত রেখে গেলেন লেখিকা।
গ্রন্থ হতে নেওয়া অংশবিশেষ :
মাথিনকে অক্ষত অবস্থায় গ্রেফতার করার কথা ছিল।’
স্যার এটা এম পি ফাইভ জাতীয় রাইফেলের গুলি ছিল। স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে অন্য কেউ গুলি ছুঁড়েছে।’
ননসেন্সের মতো কথা বলো না। একটা সাধারণ মানুষও মারা গেছে। এর দায় কার? কীভাবে পুলিশের একটা কনফিডেনসিয়াল অপারেশনের খবর ওরা পায়?
এটাই তো ভাববার বিষয়।’
এককথায় বলতে গেলে ‘দীপ নেভা দ্বীপ’ একজন নারী জুলেখার সুখে দুঃখে সংগ্রামে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে টিকে থাকার পূর্ণাঙ্গ কাহিনি।
উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র জুলেখাকে ঘিরে আবর্তিত চরিত্র স্বামী রইস থেকে শুরু করে সন্তান মুবিন,আমেনা, হামিদ, সলিম, কলিমরা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই তাদের ঘিরে যে চরিত্ররা এসেছে শ্রাবনী, স্নিগ্ধা, রোজি, রুহিরাও উপন্যাসযাত্রার বিভিন্ন বাঁককে করেছে সমৃদ্ধ। উপন্যাসটিতে আছে নানা ধরনের বিচ্ছেদ আর আঘাতের প্রলয়ঙ্কারী প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সাথে যুগ্ধ করেও টিকে যাওয়ার এক দুর্দান্ত গল্প। আছে চরাঞ্চলের মানুষের গল্প, নাগরিক জীবনের ব্যস্ততা এবং মাদক সাম্রাজ্যের দৌরাত্মের অন্ধকার ছায়া।
জীবনধর্মী উপন্যাস যারা পড়তে ভালোবাসেন আশাকরি তাদের এই বইটি ভালো লাগবে।