Post ID 111548
বন্ধুরা,
আমি ক্বওমী মাদ্রাসা থেকে শিক্ষা সমাপ্ত করেছি প্রায় আটাশ বছর হয়। গত কয়েকদিন আগে আমাদের এলাকায় একটি ক্বওমী মাদ্রাসায় অবজার্ভে গিয়েছিলাম। জিজ্ঞাস করলাম সিলেবাসের কিছু পরিবর্তন হয়েছে কি না? জানতে পারলাম মান্ধাতা আমলের সিলেবাসই রয়ে গেছে।
অর্থাৎ উর্দু ফার্সির প্রাধান্য। উর্দু ফার্সি ভিনদেশী ভাষা হওয়ায় ছাত্রদেরকে অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে হচ্ছে। মাতৃভাষার প্রাধান্য না থাকায় ক্বওমী পড়ুয়া ছাত্ররা আর্থ সামাজিক উন্নয়নে তেমন টেকসই কন্ট্রিবিউশন বা অবদান রাখতে পারছেন না।
মাতৃভাষা ও আমাদের নিজস্ব শিল্প সাহিত্যের চর্চা ব্যতিরেকে কোন জাতি উন্নতির চরম শিখরে পৌঁছাতে পারছে বলে প্রমাণিত হয়নি।
এ উপমহাদেশে ক্বওমীদের সংখ্যা নিতান্ত কম নয়। তারা যদি এ উপমহাদেশে মুসলিম জাতি ও ইসলামের সত্যিকার কল্যাণ চায়, তাহলে মাতৃভাষার চর্চাকে অধিক গুরুত্ব দিতে হবে।
ক্বওমী মাদ্রাসায় টেকসই শিক্ষা কারিকুলাম না থাকায়, এ দেশের বেশির ভাগ ছাত্র ছাত্রী ক্বওমী মাদ্রাসায় ভর্তি হতে অনিচ্ছুক। অভিজ্ঞজনেরা বলে থাকেন যে,ক্বওমী মাদ্রাসার শিক্ষক মহোদয়গণ যেভাবে ছাত্রদেরকে যত্নের সাথে অল্প পয়সায় শিক্ষাদান করে থাকেন তাদের শিক্ষা কারিকুলাম যদি মূল ধারার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতো; তাহলে ছাত্র ছাত্রীদের ভর্তি করিয়ে কুলাতে পারতো না।
সুতরাং
ক্বওমী মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের কাছে আমাদের সবিনয় অনুরোধ যে, উর্দু ফার্সির নির্ভরতা কমিয়ে মাতৃভাষাকে গুরুত্ব দেয়া হোক। দ্বিতীয় স্টেপে রাখা হোক আরবিকে আর যেহেতু ইংরেজি আন্তর্জাতিক ভাষা, সেহেতু ইংরেজিকে তৃতীয় মাত্রার গুরুত্ব দেয়া হোক।
পাশাপাশি ক্বওমী মাদ্রাসায় বিজ্ঞান বিভাগ, ইকোনমিকস বিভাগ ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করা হোক, তাতে করে ক্বওমী মাদ্রাসার ছাত্র ছাত্রীরা পরনির্ভরশীল না হয়ে সাবলম্বী হতে পারবে এবং তাদের দেশের মূল ধারায় অন্তর্ভুক্তি হওয়ার স্পেস সৃষ্টি হবে ইনশাআল্লাহ।
আমি যতদূর জানি ভারত ও পাকিস্তানের ক্বওমী হযরাতগণ এ দেশের ক্বওমীয়ানদের নিয়ে হাসাহাসি করে যে, আমরা উর্দু ভাষার প্রতি গুরুত্ব দেয় সংগত কারণে যেহেতু আমাদের মাতৃভাষা উর্দু বাংলাদেশের ক্বওমীয়ানরা উর্দু ভার্সনকে গুরুত্ব দেয় কোন দুঃখে!
আমাদের মতো অনেক ক্বওমী হিতাকাঙ্খী রয়েছে, অন্যান্য শিক্ষা ধারার তুলনায় ক্বওমী মাদ্রাসায় আমল আখলাক ও পোশাক আশাকের অধিক গুরুত্ব থাকায় যাদের সন্তানদের ক্বওমী মাদ্রাসায় ভর্তি করাবার প্রবল ইচ্ছা কিন্তু সিলেবাসের অসঙ্গতির কারণে তাদের আশা পুরন হচ্ছে না।
আশা করি ক্বওমী নেতৃবৃন্দ যুগ জিজ্ঞাসার আলোকে বিষয়টি বিবেচনায় রাখবেন বলে দৃঢ় প্রত্যাশী। আল্লাহ তৌফিক দান করুন আমীন।
ওয়ামা আলাইনা ইল্লাল বালাগ। আলাইহি তাওয়াক্কালতু ওয়া ইলাইহি উনিব।
বইপাও থেকে আপনি আর কি কি কন্টেন্ট পেতে চান?