হিজাব : আসমানি সৌন্দর্য লেখক : শাইখ আব্দুল আযীয তারীফি | Hijab : Ashmani Shondorjo – Shaikh Abdul Aziz Tarifi

  • হিজাব : আসমানি সৌন্দর্য
  • লেখক : শাইখ আব্দুল আযীয তারীফি
  • প্রকাশনী : পথিক প্রকাশন
  • বিষয় : পর্দা ও বিধি-বিধান
  • অনুবাদক : ইরফান উদ্দীন
  • পৃষ্ঠা : 192, কভার : হার্ড কভার
  • ভাষা : বাংলা

হিজাব একটি স্বতন্ত্র বিধান। প্রতিটি বিধানের মতো তারও রয়েছে আলাদা রূপবৈচিত্র। কীভাবে হিজাবপালন করবে নারী, তার পোশাক পরিধানের ধরণ কী হবে, পুরুষ কীভাবে দৃষ্টি সংযত রাখবে, তা কুরআন-সুন্নাহয় স্পষ্টভাবে বর্ণিত আছে। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় হিজাব বিষয়ে বিভিন্ন ধরণের ভুল ব্যাখ্যা ছড়িয়ে পড়ে। এ বিধান নিয়ে অনেকের মাঝে সংশয় দেখা দেয়। কেউ কেউ তা অস্বীকার করেও বসে। হিজাব কোনো বিধান নয়, এটা শুধু ঐতিহ্যগত অভ্যাস বলে অনেকে প্রচার করে থাকে। লেখক শাইখ আবদুল আযিয আত-তারিফি হিজাব নিয়ে সকল বিভ্রান্তি দূর করতে এই গ্রন্থ রচনা করেন। তিনি কুরআন-সুন্নাহর স্পষ্ট বাণী, ইমামগণের বক্তব্য এনে দেখিয়েছেন হিজাবের রূপরেখা, তার গুরুত্ব ও বৈশিষ্ট্য।
বইয়ের অনুবাদ নির্ভুল করার জন্য যথেষ্ট চেষ্টা করা হয়েছে। তবুও ভুল থেকে যাওয়া স্বাভাবিক। কোনো সুহৃদ পাঠক ধরিয়ে দিলে উপকৃত হবে সকলে। সর্বোপরি কৃতজ্ঞতা, প্রকাশক ইসমাইল হোসেন ভাইয়ের প্রতি। তাঁর তাগাদাতেই বইটি আলোর মুখ দেখতে পেয়েছে। আলহামদুলিল্লাহ।
মহান রবের কাছে প্রত্যাশা, তিনি যেনো মূল বইয়ের মতোই অনুবাদকেও কবুল করেন। আমিন।
ইরফানউদ্দীন কায়রো, মিশর

লেখকের পরিচয়

শাইখ আবদুল আযিয আত-তারিফি। হাদিস বিষয়ক বিশেষজ্ঞ। ইসলামের প্রধান ও মৌলিক স্তম্ভ ‘আকিদা’ নিয়েও আছে তাঁর যথেষ্ট পড়াশোনা। তিনি সৌদি ইসলামিক এফায়ার্স, দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স-এর সাবেক শরিয়াহ গবেষক। তাঁর রয়েছে বিভিন্ন বিষয়ের ওপর অসাধারণ কিছু গ্রন্থ। তার মধ্যে অনূদিত এই কিতাবটি অন্যতম। তিনি বলেন, লেখেন। উম্মাহকে পারলৌকিক জীবনের প্রতি সজাগ করেন। ডাকেন সিরাতুল মুসতাকিমের পথে। তিনি সমসাময়িক মতবাদ, চিন্তানৈতিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে যেমন বলেন ও লেখেন, তেমনি কোরআন-সুন্নাহর সরল ব্যাখ্যা, ইসলামের বিভিন্ন বিধিবিধান সম্পর্কেও নির্বিবাদ আলোচনা করে যান তাঁর বহমান নদীর মতো লিখনী আর সাগরের তরঙ্গমালার দৃঢ় গর্জনের মতো বক্তৃতার মাধ্যমে।
জ্ঞান-গরিমা আর নববি-সুন্নাহ ধারণকারী এই আলেম জন্মেছেন ১৯৭৬ সালের ২৯ নভেম্বর; কুয়েতে। পরবর্তীতে তিনি চলে আসেন সৌদিআরবে; স্থায়ী হন রাজধানী রিয়াদে। শরিয়াহ বিষয়ক উচ্চডিগ্রি অর্জন করেন ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ ইসলামিক ইউনিভার্সিটি থেকে। তবে তিনি সমসাময়িক আলেমদের সাহচর্যও গ্রহণ করেন। তাঁদের অন্যতম সৌদি আরবের সাবেক গ্রান্ড মুফতি শাইখ আবদুল আযিয বিন আবদুল্লাহ বিন বায, হাম্বলি মাযহাবের বিদগ্ধ আলেম শাইখ আবদুল্লাহ বিন আবদুল আযিয বিন আকিল রাহ.।
শাইখ তারিফির ইসলামের জন্য এই সেবা আরও ব্যাপৃত হোক। ছড়িয়ে যাক বিশ্বময়। আল্লাহ তাঁকে যেকোনো বিচ্যুতি থেকে সর্বাবস্থায় রক্ষা করুন। আমিন।
মুখবন্ধ
সকল প্রশংসা মহান আল্লাহর। তিনি শরিয়াহ প্রতিষ্ঠা করেছেন, মানুষের সহজাত স্বভাব সৃষ্টি করার সঙ্গে সঙ্গে অনিন্দ্য সৌন্দর্য দিয়ে তাদের গঠনও করেছেন। দুরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক সকল নবি-রাসুলের সর্দার প্রিয় নবি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর এবং তাঁর পরিবার, সাথিবৃন্দ ও কিয়ামত পর্যন্ত আগত সকল মুমিনের ওপর।
পরপুরুষের সামনে নারীরা কী ধরনের হিজাব ও পোশাক পরবে-তা স্পষ্টভাবে জানা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। অথচ ইসলামের ইতিহাসে শতাব্দীর পর শতাব্দী পর্যন্ত কোনো ফকিহ এ বিষয়ে স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনা করেছেন বলে প্রমাণ নেই। মাজহাব চতুষ্টয়ের ইমামগণও স্বতন্ত্র কোনো অধ্যায় তৈরি করেননি; অবশ্য অন্যান্য বিধানের আলোচনায় প্রসঙ্গত হিজাব ও পোশাকের আলোচনা করেছেন তাঁরা। কারণ, সে যুগে হিজাবের বিধিবিধান সম্পর্কে সবার সুস্পষ্ট ধারণা ছিল। তাই তাঁরা এসংক্রান্ত স্বতন্ত্র আলোচনার প্রয়োজন বোধ করেননি।
সেই ওহি অবতরণের যুগ থেকেই মুমিন নারীরা হিজাব ও পোশাকবিষয়ক বিধিবিধান ওহি অবতরণের প্রেক্ষাপট অনুযায়ী বর্ণিত দলিলের আলোকে পালন করে আসছিলেন। সাহাবি ও তাবেয়িগণের অনুসরণ করেই মুমিন নারীরা হিজাবের ওপর আমল করছিলেন। কিন্তু বিপত্তি ঘটে হিজরি চৌদ্দ পনেরো শতকে-এসময় অধিকাংশ ইসলামি রাষ্ট্র অমুসলিমদের দখলে চলে যায়। এভাবে যুগ যুগ ধরে বিধর্মীদের শাসনে থাকার ফলে মুসলমানরা সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক আগ্রাসনের কবলে পড়ে। ফলে তারা নানারকম চিন্তা-দর্শনের মিশ্রণে প্রভাবিত হয়ে কুরআন-সুন্নাহর দলিলগুলো অপাত্রে প্রয়োগ করতে শুরু করে। 
ফকিহ ইমামগণের অভিমতগুলোও প্রসঙ্গ উল্লেখ করা ছাড়াই গ্রহণ করতে থাকে। একারণে সময়ের ব্যবধানে মুসলমানরা স্বাধীন নারী ও দাসী, যুবতি ও বৃদ্ধা নারীর মধ্যে কোন্ কোন্ বিধানে কী কী ধরনের পার্থক্য রয়েছে-তা নির্ণয় করার সামর্থ্য হারিয়ে ফেলে! তেমনি কোন্ বিধান পর্দার বিধান ফরজ হওয়ার আগের আর কোটি পরের, কোন্ বিধান অকাট্য আর কোটি সংশয়পূর্ণ; তার মাঝেও ব্যবধান করতে অক্ষম হয়ে পড়ে!
অবশেষে ফকিহ ইমামগণের মাজহাব-বহির্ভূত কিছু মতের প্রচলন ঘটে— যার সঙ্গে তাঁদের দূরতম সম্পর্ক নেই। ‘নারীর মুখাবয়ব আবৃত রাখা শরিয়ার অন্তর্ভুক্ত নয়’ কিংবা ‘ফেতনার আশঙ্কা সত্ত্বেও যুবতি নারীর মুখমণ্ডল পর্দাবৃত করা আবশ্যক নয়; বরং চেহারা অনাবৃত রাখলেও কোনো গুনাহ হবে না’—পর্দার বিধানের মাসআলায় এজাতীয় উক্তিগুলো ইমাম মালেক, ইমাম আবু হানিফা ও ইমাম শাফেয়ি রাহিমাহুমুল্লাহর অভিমত বলে চালিয়ে দেওয়া হয়। ঘরে থাকাবস্থায় নারীর শরীর ঢাকার পোশাক ও সালাতে ব্যবহৃত পোশাক সম্পর্কিত ফকিহ ইমামগণের বক্তব্যগুলোকে পরপুরুষের সামনে ব্যবহৃত পোশাকের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হয়। ফলে এমন অনেক বিপরীতমুখী বর্ণনার কারণে পাঠক মাজহাবগুলোকে অসার, পরস্পর বিরোধী ও সাংঘর্ষিক মনে করে বসে!
নারীর হিজাব ও পোশাকবিষয়ক বিধিবিধান সুস্পষ্টভাবে আলোচনা করার জন্য বিশাল আকারের গ্রন্থ রচনা এবং ফকিহ ইমামগণের সকল বক্তব্য একত্র করার প্রয়োজন নেই। দরকার শুধু কুরআন-সুন্নাহর উদ্ধৃতিসমূহ যথাস্থানে প্রয়োগ করা, ফকিহ ইমামগণের বক্তব্যগুলো স্ব-স্ব প্রসঙ্গে উল্লেখ করা, অস্পষ্ট ও সংশয়পূর্ণ দলিলগুলোকে সুস্পষ্ট ও অকাট্য দলিলগুলোর সঙ্গে মিলিয়ে ব্যাখ্যা করা; এবং এতে যেসব পরিবর্তন ঘটেছে তার বর্ণনা দিয়ে পরিবর্তনের উৎসগুলো বন্ধ করে দেওয়া। যেন মানুষ সঠিক ফিকহ জানতে পারে এবং মাজহাবের ইমামগণ যে বিষয়ে কিছু বলেননি, সে বিষয়ে কেউ মিথ্যা রটাতে না পারে। লক্ষণীয় ব্যাপার হলো, আল্লাহর বাণীতেই যখন সংক্ষিপ্ত ও ব্যাপক এবং অস্পষ্ট ও সুস্পষ্ট বিবরণ রয়েছে, তখন তো ফকিহ ইমামগণের বক্তব্যে তা আরও বেশি থাকবে-এটাই স্বাভাবিক। তাই ভুল বোঝাবোঝি এড়াতে সবসময় সতর্ক থাকা জরুরি।
এই গ্রন্থ রচনা করার একমাত্র উদ্দেশ্য উপরিউক্ত বিষয়গুলো স্পষ্ট করা। আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করছি। তাঁর কাছেই হিদায়াতের প্রেরণা লাভের প্রত্যাশা করছি। তাঁর নিকটই সঠিক পথে অবিচল থাকার তাওফিক কামনা করছি।
আবদুল আজিজ আত-তারিফি ২০/০৪/১৪৩৬ হিজরি
 
বইপাও থেকে আপনি আর কি কি কন্টেন্ট পেতে চান?