February 25, 2024

হাড় | লিখেছেন – নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়

হাড়

লেখক নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়

নারায়ন গঙ্গোপাধ্যায় (১৯১৮-১৯৭০) আমার খুব পরিচিত লেখক নন। তিনি টেনিদা লিখেছেন এইটুকুই জানতাম। মজার ব্যাপার হলো তিনি টেনিদা ছাড়া যে আরো কিছু লিখে থাকতে পারেন এটা কেন যেন মাথায় ছিল না। টেনিদা লিখলে অন্যকিছু লেখা যায় না তা তো নয় এবং এটাই দুঃখজনক ব্যাপার যে, টেনিদার স্রষ্টা হিসেবে তাকে চেনার আগে আকর্ষণীয় ছোটগল্প এবং উপন্যাসের স্রষ্টা হিসেবে তাঁকে চেনাটা উচিত ছিল সবার আগে। খুব সম্ভবত লেখক হিসেবে এটি তাঁর প্রাপ্য ছিল……

তাঁর রচিত ছোটগল্প “হাড়”। সামাজিক স্তরবিন্যাসের ফলে সুস্পষ্ট শ্রেণিবিভাজনের যে ভেদরেখা তা অনুধাবনের মাধ্যমে পাঠককে বিমূঢ় করার প্রয়াস চালিয়েছেন লেখক তার এই ‘হাড়’ গল্পটিতে। গল্পে শুধু উচ্চবিত্ত এবং নিম্নবিত্তের স্বরুপ উন্মোচন করা হয়েছে তা কিন্তু নয়। সমাজে এই দুটি শ্রেণির মাঝামাঝিতে অবস্থান করে মধ্যবিত্তরা। এই শ্রেণিটি ছাড়া শ্রেণিবিন্যাসের আলাপ করাটা অসম্পূর্ণই রয়ে যায়।

গল্পের কথক সেই মধ্যবিত্ত শ্রেণির প্রতিনিধি। প্রতিষ্ঠিত ধনী এবং কথকের বাবার বন্ধুর কাছে লেখক আসে চাকরির সুপারিশের আশায়। কিন্তু বাবার বন্ধুটি তাকে কলম পিষে উমেদারির কাজ না করে অ্যাডভেঞ্চার করা যায়, ভ্রমণ করা যায় এমন কোন কিছু করার ব্যাপারে উৎসাহ দিতে থাকেন এবং তার দেশ ভ্রমনের কাহিনী শুনিয়ে যেতে থাকেন অনবরত যার মধ্যে ছিল একচেটিয়া বড়লোকি আত্মপ্রসাদ ।

এখানে পরিষ্কারভাবে উচ্চবিত্ত শ্রেণি কর্তৃক মধ্যবিত্তদের সীমাবদ্ধতা অনুধাবনের অক্ষমতাই প্রকাশ পায়। সবাইকে দিয়ে সবকিছু সবসময় হয়ে উঠেনা, পারিবারিক দায়-দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিতে অনেক সময় মধ্যবিত্ত শ্রেণিভুক্তদের বিসর্জন দিতে হয় স্বপ্ন-সাধ। তা না হলে বাবার বন্ধুর কাছে সুপারিশের আশায় আত্মসম্মান বিসর্জন দিয়ে অর্থহীন ভ্রমণকাহিনী বাধ্য হয়ে কেউ শুনতো না। কিন্তু এসব বাস্তবতা বোঝার সময় বা প্রয়োজন কোনটাই ছিলনা পিতৃবন্ধু রায়বাহাদুরের। শুধু বাস্তবতাবর্জিত জ্ঞান দেয়াতেই যেন তার সমস্ত দায়, চাকরির বন্দোবস্ত করতে তার যেন বয়েই গেছে।

বাস্তবেও এমন মানুষ আমরা হরহামেশাই দেখি। “আরে কি সারাদিন বিসিএস বিসিএস করো? ব্যবসা কর, উদ্যোক্তা হও” এসব কথা প্রায় বলছেন অনেকেই কিন্তু, ব্যবসা করতে যে মূলধনটুকুর দরকার সেটি কি এইসব উপদেশদাতাদের খুঁজে পাওয়া যায়? উপদেশ দিয়েই খালাস, এরপর?

গল্পের নাম ‘হাড়’ রাখার কারন টা বোঝা যায় পরের অংশে। যখন ভ্রমণপিপাসু ভদ্রলোক একটি বাক্স খুলে লেখককে তাঁর হাড় সংগ্রহের বিচিত্র শখের কথা জানান তখন ধীরে ধীরে হাড়ের ভূমিকা পরিষ্কার হতে থাকে। এই হাড়ের উপযোগীতা শ্রেণিভেদে কিভাবে পাল্টে যায় তাই এই ‘হাড়’ গল্পটির মূল উপজীব্য।

‘হাড়’ গল্পটি ব্যঙ্গ এবং প্রতীক ধর্মী। মন্বন্তরের প্রেক্ষাপটে লেখক না খেয়ে মারা যাওয়া অসংখ্য মৃতদেহের কঙ্কাল এবং না খেয়ে ধুঁকতে থাকা হাজার হাজার হাড় জিরজিরে মানুষের সামনে পুঁজিবাদে দীক্ষাপ্রাপ্ত স্বপ্নবিভোর ধনীদের বিবেকের দরজা বন্ধ থাকা নিয়ে বিদ্রুপ করেছেন।গল্পে রয়েছে প্রচ্ছন্ন শ্রেণিবিপ্লবের ইঙ্গিত। এখানে হাড় বহুমাত্রিক ইঙ্গিতবাহী।

– Maliha Tabassum Momo

Wafilife Books

যোগাযোগ Head Office: House 310, Road 21 Mohakhali DOHS, Dhaka-1206 Phone: 017-9992-5050 096-7877-1365 sales@wafilife.com

View all posts by Wafilife Books →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *