February 26, 2024

সিদ্ধান্ত – ফৌজিয়া খান তামান্না

বইঃ সিদ্ধান্ত
লেখিকাঃ ফৌজিয়া খান তামান্না

জীবনে দ্বিতীয়বার বই উপহার পেলাম। ভীষণ খুশি হয়েছি। বই মানেই তো একটা ভালোবাসা।
এবার বইটা সম্পর্কে কিছু বলি।

আবু হানিফা, গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র। তার জবানীতেই গল্পের কাহিনী অত্যন্ত নিখুঁত সাদামাটা, সহজ-সরল ও প্রাঞ্জল ভাষায় বিবৃত হয়েছে।

আধুনিক যুগের চাকচিক্যময় পরিবেশে বড় হয়ে উঠে আবু হানিফার ৩ সন্তান সায়ন, জাইমা ও লিওন। একাকিত্বে, পিতা-মাতার প্রকৃত স্নেহের অভাবের দরুণ তারা হয়ে উঠে স্বার্থপর। সংসারে পিতাকে মনে করা হয় টাকা কামানোর মেশিন। তাই পিতা শুধু টাকা ই উপার্জন করেন ছেলেমেয়েদের হাল আধুনিকা স্ত্রী জুঁইয়ের উপর ছেড়ে! এদিকে মা ছেলের দোষ, ড্রাগস নেওয়া, বিপথে যাওয়া সবকিছু নিতান্তই ছেলেমানুষী ভেবে প্রশ্রয় দিয়ে চলেছে অবিরত। অপরদিকে সন্তানদের পদস্খলন দেখে বাবার ভাবনা,

“এত কাজ করছি কেন?

টাকা ইনকাম করার জন্য।

এত টাকা দিয়ে কী হবে?

আরাম-আয়েশে থাকবো।”

আসলে কর্মহীন দুশ্চিন্তামুক্ত জীবন কোনো জীবনই নয়। অথচ বাবা তার সন্তানদের সুখের জন্য টাকার মেশিন!!

ভাই-বোনের সহজাত সম্পর্ক যতটা সুন্দর হয় তার স্বাভাবিক গণ্ডি যেন সায়ন-জাইমার মধ্যে অনুপস্থিত। তারা হয়ে উঠেছে পরস্পরের প্রতি হিংসাপরায়ণ!
অনিয়ন্ত্রিত জীবনের ছন্দ কখনোই সঠিক পথে নিয়ে যেতে পারে না।

আবু হানিফা একঘেয়ে জীবনের তরে বিরক্ত হয়েই সালেহা ভাবীর পরামর্শে ছুটে যান ছেলেবেলার গ্রামমাটির সোঁদা গন্ধের, পাখির ডাকের, পুকুরের স্বচ্ছজলে ডুবসাঁতারের, গ্রামমানুষের সহজ-সরল ভালোবাসার! সেখানে গিয়েই যেন তিনি তার শৈশব ফিরে পায়। কিন্তু ব্যত্যয় ঘটে যখন সায়ান এক্সিডেন্ট করে। নিম্মি নামের একটি মেয়ের সাথে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলে সায়ান। যার দরুণ মেয়েটি গর্ভবতী হয় এবং সায়ান সম্পর্ক নষ্ট করে তা উদযাপন করতে তার বন্ধুদের নিয়ে রিসোর্টে যায়। ফেরার পথে মাতাল অবস্থায় ড্রাংক করার কারণে হয় এক্সিডেন্ট।

সায়ানের এক্সিডেন্ট বদলে দেয় পুরো পরিবারকেই। যেন নতুন করে আবার তাদের জন্ম হয়। গ্রামের বাড়িতে গিয়ে স্বাভাবিকভাবে জীবন কাটাতে শুরু করে গোটা পরিবার।

প্রশ্ন আসে যে এতো বিত্ত থাকা সত্ত্বেও বিপথে কেন যায় সায়ান? সে চিন্তায় আবু হানিফার ভাবনা,

“মানুষের চাহিদাই সবসময় উল্টোমুখী। যা পেয়ে গেছি, তার মূল্য নাই। যা পাইনি, তার জন্য হাপিত্যেশ করি। চাওয়া-পাওয়ার যে ব্যালেন্স করতে পারে, সেই সুখী হয়। অনেক পেয়ে কেউ সুখী হয় না।

আমার সায়ান নষ্ট কেন হলো?

টাকা বেশি হওয়ার কারণে?

টাকা কম হলে সায়ান নষ্ট হতো না?

গরিবের ছেলেমেয়ে আর ধনীর ছেলেমেয়ের নষ্ট হওয়ার হার প্রায় সমানই। তাহলে আর টাকা থাকা, না থাকায় কী আসে যায়?

আবার যে বাবা শুধু অর্থ উপার্জনই করে, সংসারে আলাদা করে সময় দেয় না, তার সন্তানই নষ্ট হয়?

তাহলে তো প্রতিটা প্রবাসী বাবার সন্তানই নষ্ট হতো!

আসলে দৃষ্টিভঙ্গিটাই আসল। জীবনবোধটাই বেঁচে থাকার মূলমন্ত্র।”

সায়ান তার কর্মের প্রতিফলস্বরূপ এক চোখ অন্ধ থাকার শাস্তি নিজেই বরণ করে নেয় স্বচ্ছায়!
নতুন করে শুরু করার সময় কখনো শেষ হয়ে যায় না। ইচ্ছাশক্তিটাই যথেষ্ট। তাই তারা আবার নতুন করে শুরু করে বাঁচা।

“সিদ্ধান্ত” ফৌজিয়া খান তামান্নার দ্বিতীয় উপন্যাস।
সমসাময়িক হলেও গল্পটিতে লেখক সমাজের বাস্তব চিত্রের প্রতিফলন ঘটিয়েছেন।🌸

রিভিউ লেখক এবং ছবিঃ জুই

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *