February 25, 2024

শাপমোচন – ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়

শাপমোচন

ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়

ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায় লেখকের ছদ্ম নাম। শাপমোচন ই আমার প্রথম ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায় পড়া এবং প্রথম পড়া বইতেই কপোকাত আমি। এতো সুন্দর শব্দের ব্যবহার, প্রেমের আঁকাবুকি তে মোহিত আমি। বইটা পড়ে শেষ করার পর আমি বেশ খানিকক্ষণ চোখ বন্ধ করে পুরো চিত্রপট টাকে কল্পনা করতে লাগলাম, বিশেষ করে শেষের ২পৃষ্ঠা।
গল্পের মূল কাহিনি প্রেম নির্ভর হলেও লেখক লেখায় অভাব অনটন পিষ্ট হওয়া মানুষকে গল্পে এনেছেন আবার অতিশয় বিত্তশালীদের ও গল্পে টেনেছেন। এই বিত্তশালীদের মধ্যে একধরনের মানুষের কাছে ধনী গরিবের ভেদাভেদ ছিল না আবার অন্যদের কাছে এই ভেদাভেদ টা বড় ফারাকের ছিল।
কলকাতার হাওড়-বাওড়, নদী নালা, দোকান পাট সবকিছুতেই ছিল মাধুরি আর মহেন্দ্রের প্রেমের চিহ্ন। সবাই ছিল তাদের প্রেমের অনানুষ্ঠানিক সাক্ষী।
শাপমোচন গল্পে লেখক প্রেম বিরহ বা বিচ্ছেদ দুই ধরনেরই আবহ তৈরি করেছেন। লেখক তার লেখায় প্রেমের অংশটা এতো বেশি আকর্ষনীয় করে লিখেছেন যে পাঠক হিসেবে আমার কেবল শুধুই মনে হয়েছে কখন মহেন্দ্র – মাধুরী কথোপকথন পড়ব। বিশেষ করে মহেন্দ্রের মেসে থাকাকালীন সময়টা আমার কাছে শাপমোচন এর সেরা অংশ মনে হয়েছে, তবে না মাধুরি খোকন এর শেষের অংশটা সবকিছুকেই ছাড়িয়ে গেছে।
শাপমোচন এ লেখক তার মহেন্দ্র চরিত্রকে একেবারে নিম্ন পর্যায় থেকে উচ্চ পর্যায়ে নিয়ে গেছেন আবার সেখান থেকে ছেঁটেও ফেলেছেন। সবই দিয়েছেন কেবল সেসব উপভোগ করতে দেননি নিজের চরিত্রদ্বয়কে।
ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়ের মাধুরি চরিত্রের প্রেমে যেমন পাঠকরা বারংবার পড়তে চাইবে তেমনি মহেন্দ্রের প্রেমেও পাঠিকরা পড়তে চাইবে বা না পড়ে থাকতে পারবে না। বিশেষ করে তার গানের গলাকে যেভাবে রুপ দিয়েছেন লেখক। সেইসাথে উমেশবাবু, বড় বৌদি, খোকন এদেরও অনেক সুশৃঙ্খলভাবে লেখায় এনেছেন।
শাপমোচনে লেখক প্রেম এবং বিরহ এই দুইধরনের আবহ তৈরি করেছিলেন। এ গল্পের শেষটুকু আপনাকে যেমন আক্ষেপে পুড়াবে তেমনি শেষটুকু ছাড়া বাকি গল্পটুকু অর্থাৎ প্রেমের অংশটুকু পাঠককে পরম ভালোলাগা বা রোমাঞ্চিত করবে। নিস্তেজ বা মৃত হয়ে যাওয়া প্রেম বোধকে জাগিয়ে তুলতেও পারে।লেখকের বিরহ অংশ খুব বড় না হলেও অনেক দীর্ঘ ছিল আর শেষ পৃষ্ঠা তো সবচেয়ে বড় এবং বেদনাদায়ক ছিল।
শাপমোচনের প্রধান দুই চরিত্র বা শুধু মহেন্দ্রকে সংক্ষেপে বর্ণণ করতে হলে আমি এই ভাবে করব- “একজন মানুষ তার সকল চাওয়া গুলোকে যখন পাওয়ায় পরিণত করেছে কেবল সেগুলো ভোগ বা উপভোগ করা বাকি আর তখনই যদি উপরওয়ালা সেই মানুষের জীবন আয়ুর সুতা কেটে দেয় তখন ঠিক কতোটা আক্ষেপ তৈরি হয়?”
পুনশ্চঃ আমি যে বইটা পড়েছি সেটা সম্ভবত অরিজিনাল না অর্থাৎ আমার বইয়ের বানানে অনেকভুল ছিল লেখায় শব্দের কিছুটা এলোমেলো ছিল ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *