February 26, 2024

লেজেন্ড – ম্যারি লু

বই: লেজেন্ড
লেখক: ম্যারি লু
অনুবাদ: এম এস আই সোহান & আমিরুল আবেদীন আকাশ
প্রকাশক: ভূমিপ্রকাশ

ডিস্টোপিয়ান ঘরানার লেখায় লেখক তুলে ধরেন ভবিষ্যতের কোন এক মানবসমাজের গল্প, আর সেইসব সমাজের বৈশিষ্ট্যগুলো হয় ভয়ংকর, মানুষের জন্য মোটেও সুখকর নয় বরং বিষাদে ভরপুর । লেজেন্ড তেমনি একটি ডিস্টোপিয়ান সায়েন্স ফিকশন নিয়ে লেখা বই, আসলেই বইটা মাঝে মাঝে যেমন বিষাদগ্রস্ত করছিলো, আবার রোমাঞ্চকরও ছিলো, সেই সাথে উঠে এসেছে রাষ্ট্রের ভয়ংকর সব রহস্যের গল্প।

বইটির গল্প এগিয়েছে সমাজের প্রভাবশালী গোষ্ঠীর সরকারি উচ্চপদস্থ এক কিশোরী মেয়ে জুন আর সমাজের শোষিত এক পরিবারে জন্ম নেওয়া সবার কাছে মৃত এক কিশোর ডে’ কে নিয়ে। লেখক জুন এবং ডে এই দুই দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে গল্পটি এগিয়ে নিয়ে গিয়েছেন, যেখানে উঠে এসেছে দুই কিশোর-কিশোরীর ব্যক্তিগত আবেক, অনূভুতি আর অন্যদিকে রাষ্ট্র ‘রিপাবলিক’ এর রহস্যময় আচরণ, কর্মকান্ডের গল্প।

এই ঘরানার বই আমি আগে পড়িনি, তাই বইটি প্রথম যখন শুরু করেছিলাম তখন কোনোমতেই আগ্রহ পাচ্ছিলাম না, সেই সাথে সবকিছুই কেমন জানি ধোঁয়াশা মনে হচ্ছিল, পরে অবশ্য বই কোনদিক দিয়ে শেষ করেছি, কোনদিক দিয়ে সময় চলে গেছে নিজেও বুঝতে পারি নি। তাছাড়া প্রথমে রিপাবলিক, কলোনি বিষয় গুলো আসলেই কী, গল্পের মূল থিমটা কি বুঝিনি, তা ধরতে একটু সময় লেগেছে।

ডে আর জুন চরিত্র গুলোকে খুব ভালো লেগেছে, সবথেকে বেশি ভালো লেগেছে ডে কে। রিপাবলিকের সৃষ্ট শ্রেণি বৈষম্য, রহস্যময় আচরণ গল্পে একদম বুঁদ হয়ে যেতে ভূমিকা রেখেছে, তার উপর যুক্ত হয়েছে রহস্যময় নতুন নতুন প্লেগ এর বিস্তার আর তা নিয়ে রিপাবলিকের রহস্যময়তা। আর টুইস্টের কারণে বইটিতে একটা স্বতন্ত্র ভাব এসেছে যদিও বইটি ট্রিলজির প্রথম বই।

অনুবাদের কথা বলতে গেলে এই ঘরানার বই আমার কাছে নতুন বলে প্রথমদিকে বুঝতে পারিনি কাহিনি যদিও অনুবাদ চমৎকার, একদম সাবলীল ছিলো। একই সাথে না বুঝা কাহিনী পরে ক্লিয়ার হয়ে গেছে, এখন পরবর্তী সিকুয়েল এর অপেক্ষায় থাকবো। বইয়ের বাইন্ডিং, প্রচ্ছদ সবই জুতসই ছিলো। বলতেই হবে বইটা দারুণ উপভোগ করেছি।

#পুরাতন_লিখা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *