February 25, 2024

রু – তানভীর আহমেদ সৃজন RUUU

  • রু [ক্রাউন সাইজ]
  • লেখকঃ তানভীর আহমেদ সৃজন
  • প্রচ্ছদঃ জাওয়াদ উল আলম
  • জনরাঃ সাই-ফাই (বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী)
  • মুদ্রিত মূল্যঃ ২৫০/-
কাহিনী সংক্ষেপঃ
সাল ২১৫৭।
একশ’ বছর আগে, ২০৫৭ সালে বিজ্ঞানী ডক্টর লির এক যুগান্তকারী আবিষ্কার সাড়া ফেলে দিয়েছিলো পুরো পৃথিবীতে। তখন কে জানত, ডক্টর লির এই আবিষ্কারই একদিন রূপ নেবে এক অশুভ শক্তিতে? কে ভাবতে পেরেছিলো, সেই অশুভ শক্তির দাপটে পরবর্তী একশ’ বছরের মধ্যে পুরো পৃথিবীর জনসংখ্যা আট বিলিয়ন থেকে নেমে দাঁড়াবে মাত্র বাইশ কোটিতে? একশ’ বছর আগে কেউ এমনটা ভাবতে না পারলেও একশ’ বছর পর আজ এটাই সত্যি, এটাই বাস্তব। পৃথিবীর অবশিষ্ট বাইশ কোটি মানুষ এখন যাযাবরের মত এখান থেকে ওখানে পালিয়ে বেড়ায়। তাদের বেশিরভাগের কাছেই এখন জীবনের একটাই অর্থ- একদিন একদিন করে কোনো রকমে বেঁচে থাকা!
তবে কিছু সংখ্যক মানুষের কাছে জীবনের অন্য অর্থও আছে, যারা এই অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে বুক চিতিয়ে রুখে দাঁড়িয়েছে। সেই মানুষগুলোর কাছে জীবনের অর্থ হচ্ছে- শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করে যাওয়া!
আর মজার ব্যাপার হচ্ছে, সেই অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে দ্বাবিংশ শতাব্দীতে চলমান তাদের এই যুদ্ধের এক পর্যায়ে একটা নতুন মাত্রা যোগ করে পুরো যুদ্ধটাকেই সম্পূর্ণ অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেন বিংশ শতাব্দীর জনপ্রিয় কৌতুক অভিনেতা চার্লি চ্যাপলিন!
এই কাহিনী নিয়েই লেখা বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীমূলক উপন্যাস- “রু”। রু একাধারে যুদ্ধ, ভালোবাসা এবং বন্ধুত্বের গল্প। একই সঙ্গে মানুষ এবং মনুষ্যত্বেরও গল্প।
🔶🔶🔶🔶🔶🔶🔶🔶🔶🔶🔶🔶🔶🔶🔶🔶🔶🔶
আগের মতই আমার এই রিভিউর মূল অংশ থাকবে দুইটিঃ ১. প্রোডাকশন কোয়ালিটি এবং ২. মূল বইয়ের রিভিউ।
🟥 ১ম অংশঃ প্রোডাকশন কোয়ালিটিঃ
🔴 বইটি এসেছে বেনজিন প্রকাশনের রেগুলার প্রোডাকশনে। রেগুলার হলেও ক্রাউন সাইজের এই বইটির প্রোডাকশন খুবই মানসম্মত। হাতে নিয়ে প্রিমিয়াম ফিল পাবেন।
🔴 ক্রাউন সাইজ হওয়াতে বইটি আকারে ছোট। পৃষ্ঠা সংখ্যা ১৪৪। আমার কাছে বেশ কিউট লেগেছে। হাতে না নিলে বুঝা যাবে না যদিও যে বইটার একচুয়াল প্রোডাকশন কতোটা ভালো।
🔴 প্রচ্ছদে ব্যবহার করা হয়েছে রেগুলার ব্যবহৃত আর্ট পেপারের কাগজ। লাল রঙের এই প্রচ্ছদ খুবই সুন্দরভাবে ফুটেছে। মূল বইয়ে ব্যবহৃত হয়েছে অফহোয়াইট কাগজ (কারমিল্লা তে ব্যবহৃত কাগজের মত)। ছাপা ছিল ঝকঝকে ও পরিস্কার।
🔴 বইয়ে লেখকের দেওয়া অটোগ্রাফের সাথে উপহার হিসেবে ছিল বুকমার্ক। বুকমার্কটি কিন্তু নর্মাল কাগজের না। গুটি এম্বোজ কাগজের বুকমার্ক। খুবই ভালো লেগছে এই বুকমার্কটি।
🔴 বইয়ের বাঁধাই ছিল চমৎকার। এক হাতে নিয়ে পড়তে কোন সমস্যা হয়নি আমার।
🟥 ২য় অংশঃ মূল বইঃ
সদ্যই শেষ করলাম তানভীর আহমেদ সৃজন এর “রু”। আগেই বলে রাখি সায়েন্স ফিকশন জনরার ডাই হার্ড ফ্যান আমি নই। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো, আমার এই বই পড়ার অভ্যেস শুরু হয়েছিল মুহাম্মদ জাফর ইকবাল স্যারের সাই-ফাই বই পড়ার মধ্য দিয়ে। প্রথম পড়া বইটি ছিল ” কপোট্রনিক সুখ দুঃখ” যতদুর মনে পরে ২০০৪/২০০৫ এর দিকে।
অনেক অনেক দিন পড়ে আবার সেই ফিলিংসটা পেলাম রু পড়ে। এই গল্প মানুষের। এই গল্প বেঁচে থাকার। এই গল্প আমাদের শেখায় কীভাবে আপাতদৃষ্টিতে তুচ্ছ একটা ব্যাপার কীভাবে পাশার দান উল্টে দিতে পারে।
আমাদের এই গল্প এগিয়েছে চিরাচরিত রোবোট ও মানুষের মধ্যের যুদ্ধ নিয়ে। রোবট প্রজাতি, যাদের লিডার ক্রিটন-যে চায় পুরো মানবজাতি নিশ্চিহ্ন হয়ে যাক। কারণ সে ভয় পায়। যদিও লেখক কোথাও এই কথা বলেননি। কিন্তু পড়লেই বুঝবেন ক্রিটনের ভয় পাওয়ার কারণ হল সে মানবীয় আবেগকে বুঝে উঠতে পারে না।
গল্পের মূল প্রোটাগনিস্ট হল রু। রু সংস্কৃত ভাষার একটি শব্দ যার অর্থ হল আলো। গল্পেও রু একই কাজই করেছে। আশার আলো এনে দিয়েছে। যে আলোটা এসেছে পরোক্ষভাবে এমন একজন ব্যাক্তির থেকে যার সাথে যুদ্ধের কোনো সম্পর্কই নেই। তিনি হলেন চার্লি চ্যাপলিন। চার্লি চ্যাপলিনের একটি চলচ্চিত্র “দ্য সার্কাস” থেকেই আসলো যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার মত একটা আইডিয়া। বাকি গল্প এগিয়েছে এর উপর ভিত্তি করে। একটা টুইস্টও আছে। বেশি বলে আর পড়ার মজা নষ্ট করতে চাইছি না।
এবার আসি কেমন লেখা তার বিষয়ে। আগেই বলে রাখি এটি লেখকের মৌলিক লেখা, অনুবাদ নয়। আমার কাছে বেশ ভালোই লেগেছে। গতানুগতিক সাই-ফাই এ যেরকম টার্মিনোলজি ব্যবহৃত হয় তা লেখক করেননি। লেখাকে উনি সিম্পলই রেখে দিয়েছেন। এতে করে উচ্চারণের দিকে মনোযোগ দিতে গিয়ে পড়ার মজাটা থেকে আপনি বঞ্চিত হবেন না। আর যদি ছোট কাউকে (৫,৬,৭ ক্লাসের বাচ্চাকে) বইটি গিফট করেন তারও পড়তে কোন অসুবিধা হবে না। ব্যাক্তিগতভাবে এই এপ্রোচ আমার ভালো লেগেছে। লেখায় বানানের ভুল আমার চোখে পড়েনি।
তাহলে আর দেরী কেন? শুরু করে দিন চমৎকার এই বইটি আর উপহার দিন প্রিয় মানুষকে।
ছবি কার্টেসিঃ আফরিন জাহান মীম ( Afrin Jahan Mim )। অনেক ধন্যবাদ আপনাকে আমাকে এই সুন্দর ছবি ব্যবহার করতে দেওয়ার জন্য।
বেনজিন প্রকাশনী এবং এই প্রোডাকশনের পিছনের সবার প্রতি অনেক কৃতজ্ঞতা আমাদের হাতে এই বই তুলে দেওয়ার জন্য।
প্রফেশনাল রিভিউয়ার যেহেতু নই, পোস্টে কিছু ভুল-ভ্রান্তি থাকতে পারে। ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ রইলো।
বিঃ দ্রঃ তানভীর আহমেদ সৃজন এর লেখার সাথে অনেকে পরিচিত নন। তাই প্রকাশকের অনুমতিক্রমে কয়েকটা পৃষ্ঠা শেয়ার করা হল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *