February 26, 2024

ভাঙা কাচের আয়না – শারমিন নআঞ্জুম

 

সম্প্রতি পড়ে শেষ করলাম ‘ভাঙা কাচের আয়না’ বইটি। লেখক শারমিন আঞ্জুম সম্পাদিত গোয়েন্দা উপন্যাস ‘ভাঙা কাচের আয়না’। সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হচ্ছে, উপন্যাসটি লিখেছেন ১০ জন লেখক। জনপ্রিয় ফেইসবুক গ্রুপ ‘রোদ্দুর’এর ‘রোদ্দুর গল্পের ভ্রমণ’ সিজন থ্রি আয়োজিত উপন্যাস ‘ভাঙা কাচের আয়না’। নীচে উপন্যাসটি নিয়ে আলোচনা করছি:

পর্ব ১: গোয়েন্দা উপন্যাসটির প্রথম পর্ব লিখেছেন লেখক শারমিন আঞ্জুম। উপন্যাসটির শুরু হয়েছে অনি নামের এক লাস‍্যময়ী তরুণীকে নিয়ে। নতুন জীবন শুরু করার আগে অনি আগের সব পুরোনো ময়লা ঝেড়ে ফেলতে চায়। কিন্তু, মানুষ যা ভাবে, সবসময় কি তা হয়! নির্মমভাবে খুন হয় অনি। কে বা কারা আছে এই নৃশংসতার পিছনে?

পর্ব ২: দ্বিতীয় পর্বটি লিখেছেন লেখক ফৌজিয়া খান তামান্না। এই পর্বটিতে মূলত খুনের তদন্ত শুরু হয়। সাব-ইন্সপেক্টর সাদীর প্রবেশ পর্বটিতে দেখা যায়। খুনের তদন্তে বেরিয়ে আসে বেশ কিছু অজানা তথ্য।

পর্ব ৩: লেখক ফারহানা সিনথিয়া এই পর্বটি লিখেছেন। ডিবি অফিসে অনির কেস সমাধানের দায়িত্ব যাওয়ায়, চৌকস ডিবি অফিসার ইভান আহমেদ খুনের তদন্তে নেমে পরেন। খুনের তদন্তটি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠে। জিজ্ঞেসাবাদে বেরিয়ে আসে নানা তথ্য।

পর্ব ৪: চতুর্থ পর্বটি লিখেছেন লেখক আসাদুল লতিফ। পর্বটিতে গল্পের মোড় ঘুড়ে গেছে। অনি ও তার মা-বাবা, চাচা সম্পর্কিত নানা তথ্য বেরিয়ে আসে। এছাড়া রাজীব ও সাকিব সম্পর্কিত চমকপ্রদ কিছু তথ্য জানা যায়। ইভান, সাদী ও নাফিসা মিলে কী রহস্যের জটগুলো খুলতে পারবে?

পর্ব ৫: বেশকিছু নতুন সন্দেহভাজন বেরিয়ে আসে পর্বটিতে। অনির দুই বন্ধু থেকে সত্য কিছু তথ্য পুলিশ বের করে। চমৎকার এই পর্বটি লিখেছেন লেখক সালমা মন্জুলিকা।

পর্ব ৬: সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে একের পর এক তথ্য। রহস্যের জট খুলার বদলে, রহস্য আরো গাঢ় হয়। এই পর্বটি লিখেছেন সাবিকুন নাহার নিপা।

পর্ব ৭: সপ্তম পর্বটি লিখেছেন সুরাইয়া শারমিন। অনির অতীত সম্পর্কিত তথ্য বেরিয়ে আসে পর্বটিতে। সন্দেহের তালিকায় যুক্ত হয় আরো নতুন কিছু নাম।

পর্ব ৮: এই পর্বটির লেখক সুমাইয়া আমান নিতু। কেসটি প্রথমে দেখতে যত সহজ-সরল ছিল, ক্রমে তা জটিল হয়ে উঠছে। অনির বন্ধু সাকিব, জাহিদ স্যার, অনির বাড়িওয়ালা আর অনির হবু স্বামীর আদৌ কী অনির খুনে কোন ভূমিকা ছিল?

পর্ব ৯: নবম পর্বটি লিখেছেন পলাশ পুরকায়স্থ। অনির মৃত্যুর কেসটি নিয়ে ইভান, নাফিসা আর সাদী গোলগোল ঘুরছে। গুরুত্বপূর্ণ কোন একটি বিষয় তাদের অলক্ষ্যে থেকে যাচ্ছে। ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে কেসটি।

পর্ব ১০: অনির কেসটি যেন গোয়েন্দাদের কাছে একটি জটিল ধাঁধা হয়ে উঠেছে। উশৃঙ্খল জীবন-যাপন করা অনির সম্পর্কে পর্বটিতে বেরিয়ে এসেছে নতুন কিছু তথ্য। পর্বটির লেখক নুসরাত জাহান লিজা।

পর্ব ১১: অবশেষে রহস্যের জট একটু একটু করে খুলতে শুরু করেছে। ইভান, নাফিসা ও সাদী- মিলে কী পারবে রহস্যের সবগুলো জট খুলতে? এই পর্বটি লিখেছেন ফারহানা সিনথিয়া।

শেষ পর্ব: সূচনা পর্বটির মত সমাপ্তি পর্বটিরও লেখক শারমিন আঞ্জুম। অনি হত্যার কেসটির অজানা সব প্রশ্নের উত্তর বের হয়ে আসে। জঘন্য এই হত্যাকাণ্ডের পিছনের অপরাধী কে জানা যায়। এছাড়াও সমাজের জঘণ্য এক অপরাধের কথাও বর্ণিত হয়েছে। লেখক চমৎকারভাবে উপন্যাসটির সমাপ্তি টেনেছেন।

উপন্যাসটি শুরু থেকেই পাঠককে ধরে রাখতে সক্ষম। একটি পর্বের সমাপ্তির পর, অজানা প্রশ্নগুলোর উত্তর জানার জন্য আগ্রহের সাথে পরের পর্বগুলো পড়তে হয়েছে। কোনক্রমেই রহস্যের জট খোলা যাচ্ছিল না। ১০ জন লেখকের সবাই তাঁদের লেখা পর্বগুলোতে রহস্যের জাল যেন ঘন করছিলেন। সূচনার মত উপন্যাসটির সমাপ্তিও ছিল চমৎকার। পুরো উপন্যাসটি পড়ে একবারও একঘেয়েমি আসেনি। উপন্যাসটির মধ্যে নতুনত্ব ছিল।
এছাড়া, বইয়ের কোয়ালিটি, বাইন্ডিংও ভালো ছিল। প্রচ্ছদটিও উপন্যাসটির সাথে একদম মানানসই। সবমিলিয়ে, শারমিন আঞ্জুম সম্পাদিত গোয়েন্দা উপন্যাস ‘ভাঙা কাচের আয়না’ বইটি আমার কাছে দারুণ লেগেছে। গোয়েন্দা উপন্যাসপ্রেমীরা বইটি পড়ে দেখতে পারেন, আশা করি আপনাদের ভালো লাগবে।

■ বই পরিচিতি:

বই: ভাঙা কাচের আয়না
সম্পাদনা: শারমিন আঞ্জুম
প্রকাশনী: চলন্তিকা
প্রচ্ছদ: আরাফাত রহমান রানা
প্রকাশকাল: অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০২২
মুদ্রিত মূল্য: ৩৫০ টাকা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *