February 26, 2024

দেরিতে সন্তান নেওয়ার সম্ভাবনা ও ঝুঁকি – সিলভিয়া অ্যান হিউলেট

| দেরিতে সন্তান নেওয়ার সম্ভাবনা ও ঝুঁকি |

প্রথমত, ৬৩ বছর বয়সি, প্রথমবারের মতো মা হয়েছেন—এমন নারী পৃথিবীতে থাকা সত্ত্বেও, উর্বরতার প্রেক্ষিতে বয়স অতীতের মতই বিশাল একটি সমস্যা রয়ে গেছে। এটা সত্য যে, আজকের নারীরা আগের প্রজন্মের নারীদের তুলনায় অনেক বেশি সুস্থ এবং অনেক বেশি দিন বাঁচে; কিন্তু সামগ্রিকভাবে তারা তাদের মায়েদের তুলনায় কিছুটা কম উর্বর, এমনকি নতুন প্রযুক্তির প্রভাবকে বিবেচনায় ধরেও। এখনকার যুগের নারীদের অনেকজন করে যৌনসঙ্গী থাকাটা স্বাভাবিক হয়ে গেছে, তাই অতীতের নারীদের তুলনায় তাদের মধ্যে পেলভিক ইনফ্ল্যামেটরি ডিজিজ (পিআইডি) অনেক বেশি মাত্রায় দেখা যায়। পিআইডিতে আক্রান্ত নারীর ফ্যালোপিয়ান টিউবে (ডিম্বনালী) ক্ষত তৈরি হয় যা ডিম্বাণুর জরায়ুতে অগ্রসরের পথ বন্ধ করে দিয়ে বন্ধ্যত্ব সৃষ্টি করতে পারে। সেই সাথে তারা সাধারণত বয়স ২০-৩০-এর মধ্যে উর্বরতার মূল সময়টাকে কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়৷ ফলাফল: বন্ধ্যত্বের হার বৃদ্ধি।

৩০ বছর বয়সের পরে মেয়েদের উর্বরতার পতন শুরু হয়, ৩৫-এ গিয়ে পতনের গতি বেড়ে যায়। মায়ো ক্লিনিকের পরিসংখ্যান অনুসারে, সর্বোচ্চ উর্বরতার সময়কাল ২০ থেকে ৩০ বছর। ৩০ বছর বয়সের পরে উর্বরতা ২০% কমে, ৩৫ পর ৫০% কমে এবং ৪০ বছর বয়সের পরে ৯৫%। ২৮ বছর বয়সি নারীদের মধ্যে ৭২% এবং ৩৮ বছর বয়সিদের মাত্র ২৪% এক বছর চেষ্টা করার পর গর্ভবতী হয়।

বয়সের সাথে উর্বরতার এই দ্রুত পতনের কথা শুনে অনেকেই প্রচণ্ড ধাক্কা খায়। ডায়ান অ্যারন্সন আমাকে এই ব্যাপারে বলেন: ‘আমি আপনাকে বলে শেষ করতে পারব না যে, আমাদের হেল্পলাইনে কত মানুষ ফোন করে কাঁদতে কাঁদতে বলেছে যে, তাদের কোনো ধারণাই ছিল না যে, বয়স বাড়ার সাথে সাথে উর্বরতা এতটা কমে যায়’। ডায়ান হলো RESOLVE নামক একটি সহায়তা নেটওয়ার্কের একজন প্রাক্তন নির্বাহী পরিচালক। এই নেটওয়ার্কটি বন্ধ্যত্ব এবং সন্তান হারানোর বেদনায় জর্জরিত নারী এবং পুরুষদের সহায়তা দেয়৷

‘এই ব্যাপারটা সবাইকে জানানো উচিত যে বয়সের সাথে সন্তান জন্ম দেওয়া অনেক বেশি কঠিন হয়ে যায়।’

মূল সমস্যা হলো নারীদের ডিম্বাণু ফুরিয়ে যাওয়া। প্রতিটি মেয়ে শিশু তার দুটো ডিম্বাশয়ে তার সারা জীবনের ডিম্বাণুর সরবরাহ (কয়েক লক্ষ) নিয়ে জন্মায়। বয়ঃসন্ধির পর থেকে মাসে একবার করে তার যেকোনো একটি ডিম্বাশয় একটি ডিম ছাড়ে এবং এভাবে সরবরাহ ধীরে ধীরে কমতে থাকে। অবশেষে মেনোপজে পৌঁছে তার সরবরাহ পুরোপুরি ফুরিয়ে যায়।

নিউইয়র্ক প্রেসবিটারিয়ান মেডিক্যাল সেন্টারের ক্লিনিক্যাল প্রসূতি ও গাইনোকোলজির সহকারী অধ্যাপক ডক্টর ক্রিস্টিনা মাতেরার ভাষায়, ‘(বয়স্ক) নারীরা যা বোঝেন না, তা হলো—যদিও তারা এখনো সুন্দরী আছেন এবং প্রাণবন্ত জীবনযাপন করছেন, তবুও তাদের ডিম্বাশয়ের বয়স থেমে নেই।’

বয়স বৃদ্ধিই বন্ধ্যত্বের একমাত্র কারণ নয়। আনুমানিক ৬০ লক্ষ আমেরিকান নারী এবং তাদের সঙ্গীরা বন্ধ্যত্বের শিকার এবং এই দম্পতিদের মধ্যে মাত্র একটি সংখ্যালঘু দল বয়সের কারণে বন্ধ্যত্বে ভুগছে। বাকিদের বন্ধ্যত্বের কারণ সাধারণত হয় ডিম্বনালিতে ব্লক বা বীর্যপাতে শুক্রাণুর স্বল্পতা এবং এই দুটো পরিস্থিতিতেই এআরটি অত্যন্ত কার্যকরী।

তবে বয়সজনিত বন্ধ্যত্ব নিরাময়ে এআরটির ভূমিকা অনেক কম। ডা. জেভ রোজেনওয়াকস্ নিউইয়র্ক হাসপাতাল-কর্নেল মেডিক্যাল সেন্টারের প্রজনন চিকিৎসা এবং বন্ধ্যত্ব কেন্দ্রের পরিচালক। তিনি এই বিষয়ে খুব স্পষ্ট মতামত দেন: ‘যদি আপনার বয়স চল্লিশের বেশি হয়, তাহলে এআরটি দিয়ে আপনার বন্ধ্যত্ব সমস্যার সমাধান করা দায়।’

~ সিলভিয়া অ্যান হিউলেট
[‘সফলতার কান্না’ বই থেকে নেওয়া…]

অর্ডার লিংক কমেন্টে…

সিয়ান | বিশুদ্ধ জ্ঞান | বিশ্বমান

Sean Publication

View all posts by Sean Publication →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *