February 26, 2024

চায়ের গর্জন – কামরান চৌধুরী

. চায়ের গর্জন

ম্যানেজার বাবু বললেন–“যা তো রমেশ,এক কাপ চা নিয়ে আয়। সাথে লেক্সাস বিস্কিট’’
রমেশ চায়ের কেতলি ধুতে গিয়ে দেখে—চায়ের বাগান থেকে বজ্রধ্বনির মতো আওয়াজ শোনা যায়।

রমেশ দৌড়ে এসে ম্যানেজারের রুম দরজায় নাড়লো কড়া,
কিরে রমেশ কি হয়েছে আবার,চা আনতে লাগবে নাকি ভাড়া?

না গো সাহেব, চা আনতে কিসের ভাড়া! ছাদনাতলায় গিয়ে দেখুন একবার—জনসমুদ্রের প্রতিবাদ দেখেছেন কি বহুবার?

ম্যানেজার তৎক্ষনাৎ চেয়ার ফেলে দিলো একদৌড় ছাদনাতলায়—
গিয়ে দেখে তার চোখ কপালে,একি!চা-শ্রমিকদের হঠাৎ বিদ্রোহী স্লোগান?

১২০ টাকা দৈনিক মজুরি দিয়ে তাদের জীবন যায় যায়,
৩০০ টাকা তারা দৈনিক মজুরি চায়!

রমেশ শুধায় ম্যানেজারকে—কি দেখলেন জনাব?
ম্যানেজার বলেন— গরীব খেতে পারলে শুতে চায়! তবেই পুলিশ ডেকে পন্ড করে,দিবোই তাদের জবাব!

আপনি পারবেন জনাব তবে আমরা গরীর বলে,
জুলুম–অত্যাচার যুগ যুগ ধরে এই মাতৃভূমির কোলে।

ম্যানেজার বলেন— যা বেতন পাস,তা নিয়ে চুপ থাক!
রমেশ বলে—আপনারা তবে গরম ধোঁয়া উঠা চায়ের কাপে, চায়ের বদলে আমাদের রক্ত চুষে খান।

সপ্তাহের পর সপ্তাহ গেল
থামেনি চা শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির মিছিল,
বড় বাবুরা নাকি করবেন বৈঠক,
দিন যায়,মাস যায়,বছর যায়—
তবুও কি বাড়বে মজুরি,নাকি চায়ের গর্জনে বিবেক মোদের করবে তাড়া?

লেখাঃ
কামরান চৌধুরী
হেড অব কন্টেন্ট রাইটিং টিম
রাইটার্স ক্লাব বিডি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *