February 26, 2024

গয়নার বাক্স – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যান

 

বইয়ের নামঃ গয়নার বাক্স
লেখকঃ শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ১২১ (লোকাল প্রিন্ট)
রেটিংঃ ৪/৫

অস্বচ্ছল পরিবারের মেয়ে সোমলতা। সে বিয়ে হয়ে আসে এক জমিদার পরিবারে। তবে নামে জমিদার অবশ্য। বংশের ধন দৌলত সব শুন্যের কোটায়। সেজন্যে যা না আছে তারচেয়ে দেখাতে ব্যস্ত বেশী৷

সোমলতার স্বামীটির নাম চকোর মিত্র। তিনি বিএ পাশ কিন্তু অবসরে তবলা বাজানো ছাড়া বিশেষ কোনো কাজ করেন না। বংশপরম্পরায় বাড়ির পুরুষেরা পেয়ে আসছেন “কুঁড়েমি” সাথে কিঞ্চিৎ কুঅভ্যাস ও আছে বইকি। কারণ এপরিবারের কর্তারা মনে করেন পূর্বপুরুষের জমি-জমা, সোনা-দানা বেচেই রোজগারের জোগাড় হবে। কিন্তু কথায় আছে বসে খেলে রাজার ভান্ডারও ফুরোয়। এই নিয়ে সোমলতার দুশ্চিন্তার শেষ নেই।

সোমলতার পিসিশ্বাশুড়ি মহা জাঁদরেল মহিলা ছিলেন। পেল্লায় জমিদার বাড়ির দোতলায় বড় দুটো ঘর জুড়ে তিনি থাকতেন। একে বাল্যবিধবা তার উপর কাওকে বিন্দুমাত্র বিশ্বাস করতেন না। পিসিমা বৈবাহিক এবং পৈতৃকসুত্রে ১০০ ভরি গয়না পেয়েছিলেন। এই গয়নার বাক্স তিনি যক্ষের ধনের মতো আগলে রাখতেন। এই বাক্স ঘটনাচক্রে চলে আসে সোমলতার হাতে কিন্তু কি করে?

এই বইটির পরিসর ছোট্ট হলেও এর শিক্ষা অতি বিস্তারিত। লেখক প্রথমে তৎকালিন জমিদার বংশের পুরুষদের গোড়ামি এবং কুড়েমি দেখিয়েছেন। সাধারণত এমন অবস্থায় বাড়ির বউ মেয়েদের সব মেনে মুখ বুঝে থাকতে দেখা যায়। কিন্তু এখানেই পেয়েছি ব্যতিক্রম। বাড়ির বউ সব সংশয় ঝেড়ে স্বামীকে শোধরানোর চেষ্টা শুরু করে যাতে পরিবারটির অর্থনৈতিক অবস্থা আবার আগের অবস্থায় ফিরতে পারে। চকোর মিত্রও নিজের সমস্ত ভুল শুধরে নেয়।

এরপরে দেখানো হয় ৩য় প্রজন্ম, সোমলতার মেয়ে, বসন। অনেকেই বলেন বইটির এই অংশটি খাপছাড়া কিংবা অনেকে বুঝতে পারেন নি। তবে ধারণা সেটি ভুল৷ প্রথম প্রজন্ম সোমলতার পিসিশ্বাশুড়ি যিনি মরে ভুত হয়ে সোমলতার ঘাড়ে চেপেছিলেন তিনি আক্ষরিকঅর্থে সারাজীবনে কষ্ট ছাড়া কিছুই পাননি। নিয়মের বেড়াজালে তিনি নিজের শৈশব, কৈশোর, যৈবন, বার্ধক্য চারকালেই আবব্ধ ছিলেন। এখানে লেখক বিধবাদের দুঃখ দুর্দশা দেখিয়েছেন। ২য় প্রজন্ম সোমলতা, যে মোমের মতো নরম কিন্তু ইস্পাতের মতো কঠিন। সে নিজের ইচ্ছাশক্তি, বুদ্ধি, পরিশ্রম এবং ভালোবাসা দিয়ে সব কিছু অর্জন করে নিয়েছিলো। একই সাথে বড় সমর্থক হিসেবে পেয়েছিলো নিজের স্বামীকে এবং পরবর্তীতে পুরো পরিবারকেই। ৩য় প্রজন্ম বসন, সে ছিলো সম্পূর্ণ স্বাধীন। পরিবার তাকে সমস্ত স্বাধীনতা, ভালোবাসা দিয়েছিলো একঅর্থে না চাইতেই সব পেয়েছিলো সে। বসন ছিলো পুরো মিত্র পরিবারের চোখের মনি। কুসংস্কারাচ্ছন্ন আবহাওয়া থেকে পুরো পরিবারটি একটি আধুনিক রুচিবোধ সম্পন্ন পরিবারে রুপান্তরিত হয়েছিলো এভাবেই।

আমি বলবো লেখক হাস্যরস এবং রুপক দিয়ে সুক্ষ্ণ সুক্ষ্ম ব্যাপার গুলো খুব সুন্দর তুলে ধরেছেন অতি স্বল্প পরিসরে। যদিও রহস্যের গন্ধ অল্পই ছিলো। এই বইটা পড়ার খুব শখ ছিলো এবং পড়ে আরাম পেয়েছি। যারা খুব গভীরভাবে চিন্তা করতে পারেন তারা বইটি পড়ে আমার মতোই আনন্দ পাবেন আশাকরি।

Sukanya Naz Islam
Volunteer Content Writer
Writer’s Club BD

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *