March 2, 2024

কারো সম্মানার্থে দাঁড়ানো অপছন্দনীয়!

বিষয়ঃ কারো সম্মানার্থে দাঁড়ানো অপছন্দনীয়।
(ক) আসলে বাপ-দাদার করতো বলে বলে এই দেশের মানুষ অর্থাৎ আমরা অনেক কিছুকে আমাদের ইসলাম ধর্মের ভেতর বেশ কিছু বিষয়ের অনুপ্রবেশ ঘটিয়েছি। তন্মধ্যে একটি হলোঃ
“কাউকে সম্মান দেখানোর উদ্দেশ্যে দাঁড়িয়ে যাওয়া।”
এই এমন ব্যাধি আকারে রুপান্তরিত হয়েছে, আমরা নিজেরা কোন হালতে আছি নিজেরা খেয়াল না করেই নিজের চেয়ে দামী মানুষকে সম্মান দেখানোর জন্য ঐ হালত থেকে লাফ দিয়ে দাঁড়িয়ে যায়। সব কিছুর-ই একটা সীমা থাকে, কিন্তু আমাদের কাজ হলো সেই সীমার বাহিরে গিয়ে এমন কিছু কাজ করা যা মোটেও ইসলামী শরীয়তের সাথে মানানসই নয়।
ইসলাম সম্পর্কে আমাদের ধারণা এতটাই কম যে, আমরা অনেকেই জানি না, এই রকম আচরণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘৃণা করতেন। হাদিসের পাতা থেকে আপনাদের জানার স্বার্থে তুলে নিয়ে এলাম এমন সুন্দর একটি হাদিস –
◍ আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
.
তিনি বলেন, “সাহাবীদের নিকট রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর চাইতে বেশি প্রিয় ব্যক্তি আর কেউ ছিলেন না। অথচ তারা তাঁকে দেখে দাঁড়াতেন না। কেননা তারা জানতেন যে, তিনি এটা পছন্দ করেন না।” [১]
(খ) জাহান্নাম নিজের জন্য নির্দিষ্ট করাঃ জ্বী, কথাটি একদম শতভাগ সত্য। যে সকল মানুষ অর্থাৎ আমরা যারা চাই, আমাদের জন্য কেউ বসা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে থাকুক পুতুলের মত, জেনে রাখুন, জাহান্নাম আমরা নিজেদের বাসস্থান নির্দিষ্ট করে ফেলছি, এই রকম আচরণে। কথা বিশ্বাস করতে চাইবো না আমরা অনেকেই, কারণ এটাকে অনেক অনেক রকম ব্যাখ্যা দিতে চাইবেন। তাই কষ্ট না করে, নিচের আরেকটি হাদিস পড়ে নিন ঝটপট –
◍ আবূ মিজলায (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, মু‘আবিয়াহ্‌ (রাঃ) বাইরে বের হলে তাকে দেখে ‘আবদুল্লাহ ইবনুয যুবাইর ও ইবনু সাফ্‌ওয়ান দাঁড়িয়ে গেলেন।
.
তিনি বললেন, “তোমরা দু’জনেই বস।”
.
আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছিঃ
.
❛এতে যে লোক আনন্দিত হয় যে, মানুষ তার জন্য মূর্তির মত দাঁড়িয়ে থাকুক, সে যেন জাহান্নামে তার বাসস্থান নির্দিষ্ট করে নেয়।❜ [২]
▧ উৎসঃ
[১] জামে’ আত-তিরমিজি, ২৭৫৪
[২] জামে’ আত-তিরমিজি, ২৭৫৫
▧ কিছু কথাঃ
এক কথায় দাম্ভিকতা পরিহার করতে হবে আমাদের সকলকে। দাম্ভিকতার কয়েকটি স্তর রয়েছে। তন্মধ্যে তৃতীয় স্তরটি হলো সাধারণ মানুষের সাথে উদ্ধত আচরণ করা। বিভিন্নভাবে এর প্রকাশ ঘটে। যেমনঃ নিজেদের সাথীদের থেকে অনেকে অহংকারবশত মুখ ফিরিয়ে নেয়, এড়িয়ে চলে বা আকারে-ইঙ্গিতে-চাহনিতে তার চেয়ে নিচুজাতের বোঝাতে চায়। মানুষ যখন তাকে সম্মান জানাতে দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানায় বা তার কাজ করে দিতে চায়, তখন এ ধরনের লোকেরা প্রচুর আত্মতুষ্টিতে ভোগেন। আল্লাহ সুবহানাহু তা’আলা আমাদের সকলকে সব রকম অহংকার এবং দাম্ভিকতা থেকে বাঁচিয়ে রাখুন। (আমিন)
.
দয়া করে এই বিষয়গুলো আপনার পরিবার, বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়স্বজন, এবং সকল স্তরের মানুষদের জানিয়ে সওয়াবের ভাগিদার হোন। আমরা কেউ যেন ভুলেও এমন আচরণ না করি কারো সাথে সেই দিকে সচেষ্ট হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *