March 2, 2024

কারিতা : ফাহ্‌মিদা বারী | Karita : Fahmida Bari

২০১৯ সালের প্রথমদিকে এই লেখাটি শুরু করেছিলাম আমি।

একবার উদ্দেশ্যহীনভাবে নেট ব্রাউজিং করতে করতে একজন ল্যাটিন সঙ্গীতশিল্পীর কথা জানতে পারি। সেলেনা কুইন্তালিনা পেরেজ। ‘সেলিনা’ নামেই তিনি বেশি পরিচিত ছিলেন। তাকে ‘তেজানো সংগীতের রানি’ বলা হত। এটি ল্যাটিন আমেরিকার সঙ্গীতের একটি পুরষ্কারের নাম যা একাদিক্রমে নবমবার পেয়ে রেকর্ড সৃষ্টি করেছিল সেরেনা। বিশ শতকের শেষ ভাগের মেক্সিকো-মার্কিন সাংস্কৃতিক জগতের সাড়া জাগানো এই সঙ্গীতশিল্পীকে ‘বিলবোর্ড’ পত্রিকা গত শতকের শেষ দশকের শ্রেষ্ঠ লাতিন শিল্পী বলেছে। শুধু তাই-ই নয়, লাতিন সংগীত জগতের সর্বকালের সেরা শিল্পীর আসনে তাকে বসানো হয়।
মাত্র চব্বিশ বছরের ক্যারিয়ারে অবিশ্বাস্য উত্থান ঘটেছিল এই তারকা শিল্পীর। দারূণ ক্যারিশমাটিক, অপরূপ সৌন্দর্যের মোহময়ী এই শিল্পী মঞ্চে ঝড় তুলতে পারতেন। অর্থ খ্যাতি তার পায়ের নীচে লুটোপুটি খেতো।

এই শিল্পীর মৃত্যু ঘটেছিল খ্যাতির চুড়ায় অবস্থানরত অবস্থাতেই। তার শেষ কনসার্টের অল্প কিছু পরেই। শেষ কনসার্টে অংশ নেওয়া তার ছবিগুলো দেখতে দেখতে ভাবছিলাম, গুলিটা তো সেদিন ঐ মঞ্চেও চলতে পারতো। এভাবেও তো কত শিল্পীর মৃত্যু ঘটেছে! কিন্তু গুলিটা সেদিন মঞ্চে চলেনি। চলেছিল খুবই বিশ্বস্ত একজনের কাছ থেকেই, একেবারে অপ্রত্যাশিত ভাবে তার নিরাপদ পরিমণ্ডলেই। সেলিনার মৃত্যু ঘটেছিল বিশ্বাসঘাতকতা আর ঘৃণার বলি হয়ে।

গেঁথে গিয়েছিল সেলিনার সেই ঝলমলে মুখ আর দাপিয়ে বেড়ানো প্রতিভার স্ফুরণ। বেঁচে থাকলে আজ তার বয়স হতো একান্ন বছর। বলিরেখার দাপুটে ছোবল হানা দিতো তার দাগবিহীন মসৃণ ত্বকে। কিংবা কে জানে, হয়ত এই বয়সেও সেলিনা থাকত তরুণী হয়ে। একই উদ্যমে ঝাঁপাঝাঁপি করেই দিন যেত এখনো।

কিন্তু সেটা হয়নি। আততায়ীর গুলিতে চব্বিশেই স্তব্ধ হয়ে গেছে সময়!
আমার উপন্যাস ‘কারিতা’ অবশ্যই সেলিনার জীবনী নয়। তবে তার জীবনের এই বেদনাদায়ক পরিণতি দ্বারা অনেকখানি প্রভাবিত।

পাঠকদের উদ্দেশ্যে আমার শুধু এটুকুই বক্তব্য থাকবে, দুই জীবনের মাঝে কেউ যাতে কোনো মিল খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা না করেন। আমি শুধু সেলিনার জীবনের বিয়োগান্তক পরিণতিকেই আমার লেখার মূল উপজীব্য হিসেবে তুলে আনতে চেয়েছি মাত্র। তার পুরো জীবনকে তুলে আনা বা সেই জীবনে কিছুমাত্র আলোকপাত করাও আমার উদ্দেশ্য ছিল না!
………………………………………………

‘কারিতা’র প্রি অর্ডার চলছে। বইটি প্রকাশিত হতে যাচ্ছে ‘উপকথা’ প্রকাশনী থেকে। বইটির প্রচ্ছদ করেছে সুলতান আজম সজল।

#ফাহ্‌মিদা_বারী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *