February 25, 2024

একাত্তরের চিঠি

 

বই এর নামঃ একাত্তরের চিঠি
প্রকাশকঃপ্রথমা প্রকাশনা
পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ১২৭
গায়ের দামঃ২৫০৳
বইয়ের ধরনঃ১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধাদের তাদের আত্মীয় পরিজনদের কাছে লেখা চিঠির সংকলন।

পাঠ সংক্ষেপঃ এতো গৌরবময়, এত বেদনাময় বছর বাঙালির জীবনে কখনও আসেনি। একাত্তরের চিঠি বইটি মূলত ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে লেখা ৮৬ টি চিঠির একটি সংকলন।দৈনিক প্রথম আলো ও গ্রামীনফোন যৌথউদ্যোগে চিঠি গুলো সংগ্রহ করা হয়। প্রকাশিত হয়
চৈত্র ১৪১৫,মার্চ ২০১৯.
ইতিহাসবিদ অধ্যাপক সালাউদ্দিন আহমদ ছিলেন সম্পাদনা পরিষদের সভাপতি।
কোন মহৎ কাজ বৃথা যায় না।দেরীতে হলেও চিঠিগুলো সংকলনের মহৎ প্রচেষ্টা বৃথা যায়নি।
চিঠিগুলোর মধ্যে রয়েছে কন্যা বা পুত্রকে লেখা উদ্বিগ্ন পিতার চিঠি,
কন্যা ও জামাতার বন্ধু র চিঠি,
প্রেমময়ী স্ত্রী র কাছে লেখা দায়িত্ববান স্বামীর চিঠি,
মুক্তিযুদ্ধ,সশস্ত্র বাহিনীর যুদ্ধ সংশ্লিষ্ট নির্দেশ সংবলিত চিঠিও রয়েছে।
মা ও স্বদেশ সমার্থক শব্দ বলেই হয়তো মায়ের কাছে লেখা চিঠির সংখ্যাই বেশি।

বইটা পড়তে গিয়ে একদিকে যেমন পাওয়া যাবে কষ্টে বুক ব্যাথা আর চোখের পানি ঝরানো অনুভুতি
এরকম—-
মুক্তিযোদ্ধা রহিম,
দশদিন যাবত গ্রেনেডের স্প্লিন্টার -এর যন্ত্রণায় হাসপতালের সার্জারী ওয়ার্ডে বসে তার মা কে লিখেছে তার কষ্টের কথা ,ব্রাশফায়ারে তলেপট আর দুই উরুতে মারাত্মক জখম,প্রচন্ড শীত, অবিরাম রক্তক্ষরণ, বৃষ্টি র ন্যায় গোলাবর্ষণে কিভাবে বেঁচে গিয়ে লিখেছে সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতা র বর্ণনা।
অন্যদিকে পাওয়া যাবে
প্রেমময়ী স্ত্রী অনু কে ভালোবেসে তার স্বামী নয়নের লেখা– ওগো ঝর্ণার ধারা তুমি সমতলে গিয়ে আমার অনুকে এ বারতা দিয়ে বলো,তাকে আমি একান্ত কাছে পাই সবাই ঘুমিয়ে গেলে,নিকষ কালো অন্ধকারের একাকিত্ব তখন আর থাকে না।মনের আলোয় আমি সব দেখতে পাই,দূরকে আর দূর মনে হয় না সব একাকার হয়ে যায়।
শহীদ জননী জাহানারা ইমাম ও সৈয়দ মোস্তফা কামাল পাশা দম্পতির সন্তান শহীদ মুক্তিযোদ্ধা শাফী ইমাম রুমী র লেখা চিঠিও রয়েছে।
মুক্তিযোদ্ধা পাটোয়ারী নেসারউদ্দিন নয়ন তার স্ত্রী ফাতেমা বেগম অনুকে লেখা ভালবাসায় মোড়ানো চিঠির শেষে একটি চমৎকার রহস্যময় একটা ধাঁধা রেখেছেন।
সন্মানিত পাঠক আপনারা যদি বইটি পড়ার পর উক্ত ধাঁধার উত্তর বুঝতে পারেন,আমাকে অবশ্যই কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না।

পাঠ অনুভূতি :অবাক হয়েছি, কোন চিঠি পড়ে আমার মনে হয়নি যে কেউ যুদ্ধ বাদ দিয়ে বাড়ী ফিরে আসতে চেয়েছেন।
যেহেতু বেশির ভাগ চিঠি মা কে লেখা এবং অনেকেই মা কে না জানিয়ে বা অমতে যুদ্ধ করতে এসেছেন তাই দোয়ার পাশাপাশি ক্ষমাও চেয়েছেন। সেক্ষেত্রে নিজের জন্য যেটুকু দোয়া চেয়েছেন তার চেয়ে অনেক বেশি দোয়া চেয়েছেন সবার জন্য,যেন দেশকে হানাদার মুক্ত করতে পারে।

ব্যাথিত হয়েছি,
কিছু চিঠি ছিলো রমজান মাসের। সারাদিন রোজা রেখে যখন সবাই একত্র হবে ইফতার করতে বসেছেন তখন নিরস্ত্র মানুষের উপরে তারা আক্রমণ করেছে। তারা তারাবির নামাজে পড়া অবস্থারত নামাযীদের হত্যা করেছে। শেষে ইদের দিন টিও বাদ যায় নি। এক মুক্তিযুদ্ধা তার মা কে শেষ ইদ মোবারক জানিয়েছে। তার পরে আর কোনো চিঠি সে পাঠাতে পারেনি। এমন অনেকের হয়েছে।

বইটা পড়লে আমার থেকেও ভালো উপলব্ধি করতে পারবেন আশা করি।
এলোমেলো বর্নগুলোকে ভাষায় রুপদান করাটা এতই কি সহজ!
এটি আমার প্রথম বুক রিভিউ লেখা।
ধন্যবাদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *