February 27, 2024

আমার উম্মতের জন্য আমি সবচেয়ে বেশি ভয় করি ছোট শিরকের।’

আমার উম্মতের জন্য আমি সবচেয়ে বেশি ভয় করি ছোট শিরকের।’
.
সাহাবারা জানতে চাইলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ, ছোট শিরক কী?
.
নবীজি (সা.) শুধালেন, ‘রিয়া বা লৌকিকতা। (যাদের মধ্যে রিয়ার স্বভাব আছে) তাদেরকে আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিন আমলের প্রতিদান দেবার সময় বলবেন, “দুনিয়ায় যাদেরকে দেখিয়ে দেখিয়ে আমল করতে, তাদের কাছে গিয়ে দেখো কিছু পাও কিনা।”‘
.
রিয়া, খুব সূক্ষ্ম একটি বিষয়। এজন্য এটাকে ছোট শিরক বা গোপন শিরক বলা হয়। রিয়া কয়েক প্রকারের হয়। এর একটা ধরণ হচ্ছে, দ্বীনের বিষয়ে রিয়া এবং এটাই আমাদের সমাজে ব্যাপক। আসুন, ইমাম গাযালী (রহ.)-এর ইহইয়াউ উলূমিদ্দীন গ্রন্থের আলোকে জানি, দ্বীনি বিষয়ে কত ধরনের রিয়া হয়:
.
১) শরীরের রিয়া
মানুষকে শারীরিক দুর্বলতা ও রং পরিবর্তনের কথা শুনিয়ে নিজের মেহনত ও আখিরাতের ভয়ের প্রাবল্য বোঝানো। এমনিভাবে উস্কুখুস্কু চুল দেখিয়ে এ-কথা বোঝানো যে, দ্বীনের চিন্তায় সে এত মগ্ন, চুল ঠিক করার সময়টুকুও পায় না। ইবাদত করতে করতে শারীরিকভাবে ক্লান্ত হয়ে যাওয়া, রঙ পরিবর্তন হওয়া, দ্বীনের চিন্তায় মগ্ন থাকা—এগুলো কোনোটাই নিন্দনীয় নয়। কিন্ত কেউ যখন এগুলো লোকদেখানো উদ্দেশ্যে করে, তখনই সেগুলো গুনাহের বিষয়ে পরিণত হয়।
.
২) পোশাকের রিয়া
যেমন : হাঁটার সময় নিচের দিকে তাকানোর ভান করে হাঁটা। লোকদেখানো উদ্দেশ্যে চেহারায় সাজদার চিহ্ন রাখা। সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও মোটা কাপড় পরা। পশমি কাপড় পরা। জীর্ণ কাপড় পরা। আস্তিন খাটো রাখা এবং পোশাক অপরিচ্ছন্ন রাখা।
.
৩) কথার লৌকিকতা
দ্বীনদারদের কথায় লৌকিকতা হয় ওয়াজ-নসীহতের মধ্যে লৌকিকতা করার দ্বারা; মানুষের সম্মুখে জ্ঞানের প্রাচুর্য এবং পূর্বসূরিদের আদর্শের প্রতি অধিক মনোযোগী ভাব প্রদর্শন করে, মানুষের সম্মুখে ঠোঁট নাড়াচাড়া করে যিকির করে, জনতার মাঝেই কোনো অন্যায়ের ব্যাপারে ক্রোধ দেখিয়ে এবং ক্ষীণ ও নম্র স্বরে কুরআন তিলাওয়াত করে, বিষণ্ণতা ও চিন্তিত ভাব প্রকাশ করে। মানুষ যখন এসব লোকদেখানো উদ্দেশ্যে, বাহ বাহ পাবার উদ্দেশ্যে করে, তখন কাজগুলো রিয়ায় পরিণত হয়।
.
৪) আমলের লৌকিকতা
সমাজে সবচেয়ে রিয়া প্রকাশ পায় আমলের দ্বারা। যেমন কোনো সালাত আদায়কারী ব্যক্তি অন্যদেরকে দেখিয়ে দেখিয়ে দীর্ঘক্ষণ সালাতে দাঁড়িয়ে থাকে, রুকু-সিজদা লম্বা করে, একনিষ্ঠতা প্রকাশ করে ইত্যাদি। এরকম রিয়ার মধ্যে আছে, লোকদেখানো উদ্দেশ্যে বেশি বেশি দান সদকা করা, একাধিকবার নফল হজ্জ করা, গরীব-দুঃখিদের দান করা, বিভিন্ন মসজিদ মাদরাসা তৈরি করা ইত্যাদি।
.
৫) শাগরিদ, দর্শক ও অতিথিদের দ্বারা রিয়া করা
যেমন : এই কামনা করা যে, কোনো আলিম অথবা আবিদ তার কাছে আসুক, আর মানুষ বলুক—‘অমুক ব্যক্তির কাছে আজ অমুক আলিম অথবা আবিদ এসেছিল….” অথবা “বড় বড় আলিম ও দ্বীনদার ব্যক্তিরা প্রায়ই তার কাছে আসে এবং বরকত নেয়।” কেউ কেউ বিভিন্ন শাইখের কাছে যায়, যেন মানুষ এ-কথা বলে যে, সে অমুক অমুক শাইখের সান্নিধ্যপ্রাপ্ত। তাঁদের কাছ থেকে উপকৃত হয়েছে।
.
এভাবে অনেক রিয়াই আমাদের দ্বারা হয়ে যায়। রিয়ার বাকি প্রকার, ক্ষতি এবং বাঁচার উপায় জানতে পাঠকদের বলব, ইহইয়াউ উলূমিদ্দীন গ্রন্থটি পড়ুন।

Wafilife Books

যোগাযোগ Head Office: House 310, Road 21 Mohakhali DOHS, Dhaka-1206 Phone: 017-9992-5050 096-7877-1365 sales@wafilife.com

View all posts by Wafilife Books →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *