February 25, 2024

Big- জ্ঞানে অগ-Gun লেখক নাঈম হোসেন ফারুকী

  • Big- জ্ঞানে অগ-Gun
    লেখক- নাঈম হোসেন ফারুকী
  • মূল্য: ৳২০০
    পৃষ্ঠা: ১২৪
এটা গল্পের বই
বিজ্ঞানের গল্প।
বইয়ের ভূমিকা থেকে লেখকের ব্যক্তিগত আগ্রহ, ভালো লাগা, ভালবাসা ইত্যাদি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। খুব অল্প বয়স থেকেই বিজ্ঞানের নানা বিষয়ে আকর্ষণ লেখককে নিয়ে গেছে বইয়ের রাজ্যে। দেখা যায় তিনি ছোটো কাল থেকে ডাইনোসর, ব্লাকহোল, তারা ইত্যাদি নিয়ে লেখা ছোটোদের বই গুলো গো গ্রাসে গিলতেন। এমনকি পড়তে শেখার আগে থেকেই পিতা-মাতার মুখে এসব শুনে শুনে রোমাঞ্চিত হতেন। এর ওর মুখ থেকে আমরা সাধরণত বিবর্তন তত্ত্বকে ভুয়া বলেই জেনে এসেছি। কিন্তু লেখক বিবর্তনের গল্পগুলো ছোটো কাল থেকেই শুনে আসছেন। প্রাণিজগতের শ্রেণি বিন্যাস সম্পর্কে ঘাটাঘাটি করে সুদুর অতীতের ও বর্তমানের নানান চিত্তাকর্ষক প্রাণীর দেহাবয়, আচরণ ও তাদের মধ্যে আন্তসম্পর্ক নিয়ে লেখক ভাবতেন। তাছাড়া গভীর সাগরের হরেক রকম কৌতুহলী প্রাণী কিংবা আমাজনের গভীর থেকে গভীরতম বনের উদ্ভিদ-প্রাণী বা সুদুর মহাকাশে জ্বলজ্বলায়মান তারারা লেখককে শিশুকাল থেকেই ভাবিয়েছে।


স্টিফেন হকিং এর বিশ্বখ্যাত ‘ব্রিফ হিস্ট্রি অফ টাইম’ বইটি লেখকের মনে এতই দাগ কেটেছে যে তিনি যে কাউকে পদার্থবিজ্ঞানে আগ্রহী করতে এই বই পড়ার পরামর্শ দেবার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
আব্দুল্লাহ আল মুতির লেখা লেখক নাঈম হোসেন ফারুকীকে বিশেষভাবে ছুঁয়ে গেছে।
এই বইটাতে সর্বোপরি তিনি চেয়েছেন আব্দুল্লাহ আল মুতির মত করে মানুষকে স্বপ্ন দেখা শিখাতে, স্টিফেন হকিং-এর মত সন্ধান দিতে বিজ্ঞানের আশ্চর্য রহস্যময় জগতের, কার্লো রভেলির মত বলতে- দেখো, বিজ্ঞানে কোনো ভয় নেই, একটু চিন্তা করো সব বুঝে যাবে।


১.
বইয়েত প্রথমেই প্রাচীন পৃথিবীর আশ্চর্য সব জীব-যন্তুর সাথে দেখা হয়ে যাবে পাঠকের। প্রায় এক ফুট চওড়া, সারা গা লোমে ঢাকা এক জাতের মাকড়সা, এগারো ইঞ্চি, ১৭৫ গ্রাম চওড়া হেলিকপ্টার সাইজের মশা যারা পাখিও খেয়ে ফেলে, বিধায় নাম হয়েছে বার্ড ইটিং ট্যারান্টুলা; এক ফুট লম্বা অ্যাটলাস মথ আর সমান লম্বা প্রজাপতি; টানা দুই ইঞ্চি লম্বা পিঁপড়ে; এক ফুট লম্বা তেলাপোকার দেখা মেলে প্রথম অধ্যায়েই।


তবে এত বড় বড় প্রাণীরা যদি সত্যিই একসময় পৃথিবীতে ছিল তবে আজ সব গেল কোথায়? নেই কেন আজকালকার দুনিয়ায়? এসব প্রাণীদের হারিয়ে যাওয়ার কারণ কী? কেনই বা আজকালকার পোকামাকড় রা এত ছোট সাইজের? কিসের অভাবে অত্ত বড় সব প্রাণীরা আজ ক্ষুদে সাইজ নিয়ে জীবনযাপন করছে?
জানা যাবে বইয়ের শুরুর দিকেই।


পোকামাকড় যদি এত্ত বড় বড় হয়ে থাকে তবে গাছও কি পিছিয়ে ছিল? তারাও কি বিশাল বিশাল আকৃতি নেয়নি?
যদি নিয়েই থাকে তবে তার ফল কী হয়েছিল? সবুজ পৃথিবী মরুভূমিতে পরিণত হওয়ার জন্য স্বয়ং গাছই কি দায়ী ছিল?
সারা পৃথিবীর সব মহাদেশ মিলেমিশে একাকার হয়েছিল কবে? কত কোটি বছর আগে? তা জানা যায় ২১ পৃষ্ঠা পড়লেই। সে যুগকে বলা হয় পার্মিয়ান যুগ।


এই পার্মিয়ানবাসীর ওপর আবার কেয়ামত নেমে আসলো ২৫ কোটি বছর আগে। কেন ওরকম দৈত্যাকার সব প্রাণি, যাদের গল্প পড়ে আমরা শিহরিত হলাম একটু আগেই ওদের ওপর গজব নেমে এলো? কোটি কোটি পার্মিয়ান প্রাণীর বংশ নির্বংশ হয়ে সৃষ্টি হলো ট্রায়াসিক এক্সটিঙ্কশন।
তাহলে পার্মিয়ান-ট্র‍্যাসিক এই এক্সটিঙ্কশনকে কি পৃথিবীর ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ মার্ডার মিস্ট্রি বলা যাবে না?
চারপাশের লাশের স্তুপ থেকে কে ও মাথা তুলে তাকায়? এত বড় ধ্বংস যজ্ঞের পরেও বেঁচে আছে কার আশির্বাদে? এত বড় আঘাত সয়ে যখন ও বেঁচে আছে তখন ওর পরবর্তী প্রজন্ম কি ভবিষ্যতে সারা পৃথিবী দাপিয়ে বেড়াবে নাকি? সেই অত কোটি বছর পরেও ওর কোন কোন উত্তরসূরী দুনিয়া কাপাচ্ছে?


২.
এই বঙ্গদেশে তো আমাজানের জঙ্গল নাই। কিন্তু রেমা-কালেঙ্গা তো আছে!
রোমাঞ্চপ্রিয় লেখক তাই কোনো এক নিশুতিরাতে পৌঁছেছিলেন রেমা-কালেঙ্গায়। শায়েস্তাগঞ্জ হতে চুনারুঘাট হয়ে রেমা-কালেঙ্গায় যাওয়া যায়। অ্যাডভেঞ্চারের নেশায় বুঁদ হয়ে সেখানে পৌঁছান লেখক। সাথে একজন সহচর। এই জঙ্গলের গাইডের সর্দারের আতিথেয়তা, রাতে তাবু ঘাটিয়ে জঙ্গলের ঘ্রাণ, শব্দ শুষে নেয়া, হঠাৎ পথ হারিয়ে দিগ্বিদিক হয়ে পড়া, আচমকা বৃষ্টির পানিতে ভিজে চুপচুপ হওয়া, দূর দিগন্তে চিতাবাঘের অস্তিত্বের কথা জেনে শিহরিত হওয়া সহ রেমা-কালেঙ্গা ভ্রমণের চমৎকার শৈল্পিক বর্ণনা পাওয়া যায় বইয়ের প্রথম অধ্যায়েই।


৩.
কনশাসনেস সিরিজ।
“আমি সুস্থ মস্তিষ্কে, সজ্ঞানে অত্র চুক্তিনামায় স্বাক্ষর করিলাম” এই কথা সব দলিল-পত্রেই লেখা দেখি। আসলে সজ্ঞানে বলতে বুঝায় টা কী? আমি দেখি, শুনি, বলি। আমার মোবাইল ফোনটাও তো দেখে (ক্যামেরা) শোনে (মাউথার), বলে (স্পিকার)। তাহলে আমার জ্ঞান থাকলেও মোবাইল ফোনের নেই কেন? কী আমাকে যন্ত্র থেকে আলাদা করলো? জ্ঞান কি সব প্রাণিরই আছে? তা জানা যাবে এই বেলায়।
রিয়ালিটি, অর্থাৎ বাস্তবতা আসলে কী? চোখ দিয়ে আলো গিয়ে ব্রেনে উদ্দীপনা দেয় বলে আমরা দেখি।
কী হবে যদি চোখে আলো না ফেলে ব্রেনের যে অংশ আমাদের দেখার অনুভূতি যাগায় সেখানে সরাসরি সিগনাল দেয়া হয়?
একটা সময় লাইফিকে অতিপ্রাকৃতিক কোনো বস্তু ভাবা হতো। অনেকেই গর্ব মুখ ভেংচি দিয়ে বলে, ” বিজ্ঞানীরা এত কিছু পারে, পারলে একটা প্রাণ বানায় দেখাতে বলো”।


আমরা জানি জীবদেহ কোটি কোটি কোষ দিয়ে গঠিত।
কিন্তু একটা কোষ দিয়ে গঠিত প্রাণীও তো আছে। কী হবে ওই একটা কোষওয়ালা প্রাণি যা যা দিয়ে তৈরি তা তা যদি ল্যাবে একত্রিত করে উপযুক্ত পরিবেশ দেয়া হয়! তবে কী হবে? ওটা কি বেঁচে উঠবে? না কি পণ্ডশ্রম হবে? জানা যাবে এই পর্বে।


যগতে এমনও প্রাণী আছে যাকে কেটে দু’টুকরো করে ফেলেও দুই অংশ আলাদা করে বেঁচে থাকতে পারে। জানতেন আগে? জানতে পারবেন এই বইয়ে।
আমাদের হাত-পা নাড়াচাড়া, কথা বলা ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণ করে ব্রেনের যে অংশ তার নাম+ কর্টেক্স। কী হবে যদি কর্টেক্স কাজ করা বন্ধ করে দেয় অথচ অন্যান্য ব্রেনের অন্যান্য অংশ সচল থাকে?


৪.
ভূত পেত্নি নিয়ে বিজ্ঞান কী বলে? শুনেছি বিজ্ঞান নাকি ভূতে বিশ্বাস করে না? কিন্তু আমার মামা যে নিজের চোখে ভূত দেখেছে তার কী হবে? আর পাড়ার ওই চাচা যে একবার ভূতের সাথে লড়াই করলো তারই বা কী হয়েছিল তাহলে? আচ্ছা, মানলাম ভূত নাই। কিন্তু এলাকার ওঝা যে প্রায়ই এর ওর ঘাড় থেকে জিন তাড়ায়? ওসব কিছু না থাকলে তাহলে জিন তাড়ানোর পরেই মানুষ ভালো কেন হয়ে যায়? এসব বিশ্লেষণ বিজ্ঞানের আলোকে এই পর্বে দেয়া আছে।


৫.
কেন মানুষ গেমে আসক্ত হয়ে পড়ে? কেন সিরিয়াল কিলাররা একের পর এক মানুষ মারে? ওদের কি জেলের ভয় নাই? ওদের কি ফাঁসির ভয় নাই? ওর ডিসিশন কে নেয়? একজন মানুষের ব্রেন ভাগ হয়ে একই সাথে কি দুইজনের ন্যয় আচরণ করত পারে? ব্রেনে তার-টার, নাট-বল্টু লাগিয়ে কি আমি কী ভাবছি তা কি বের করা সম্ভব?


এ ছাড়াও এই পর্বে নিউরাল নেটওয়ার্কের গল্প, (IIT) ইন্টিগ্রেটেড ইনফরমেশন থিওরি নিয়ে মাথা হ্যাং করা বিষয়গুলো পানির মত করে বুঝানো হয়েছে। IIT বুঝতে কষ্ট হবে না কিন্তু এ নিয়ে একটু ভাবলেই মাথা হ্যাং হয়ে যাবে।
চেতনা কি পরিমাপ করা যায়? গেলে এর একক কী? আমরা যা ব্রেনে ধরে রাখি তাইই তো মেমোরি। কিন্তু আপনি জানেন কি মেমোরি ‘সত্য মেমোরি’ আর ‘মিথ্যে মেমোরি’ নামের আলাদা আলাদা মেমোরি হতে পারে। এই মিথ্যে মেমোরি আবার কী, তা জানা যাবে বইটি হতে।


৬.
মহামতি অ্যারিস্টটল এর নাম আমরা সবাইই জানি।
তিনি একাধারে দার্শনিক, পদার্থবিদ, রসায়নবিদ, জীববিজ্ঞান, সমাজবিজ্ঞানী, রাষ্ট্রবিজ্ঞানি আরও কত কী? যে বইই খুলি দেখি তার জনক অ্যারিস্টটল! এতকিছুর জনক হতে গিয়ে তার মাঝে কি হিরো আলমের বা সেফুদার ছাপ দেখা গেল নাকি? (হিরো আলম যেমন একাধারে লেখক, পরিচালক, নায়ক, গায়ক, প্রযোজক ইত্যাদি; আবার সেফুদা স্বঘোষিত লেখক, শিক্ষক, দার্শনিক, ইঞ্জিনিয়ার, বিজ্ঞানি, কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক ইত্যাদি)।


হাস্যকর সব কাজের মাধ্যমে সেরাদের সেরা বনে গেলেন নাকি মহামতি অ্যারিস্টটল? তা ছাড়া এডওয়ার্ড মুর নামের এক মহান কাল্পনিক লোক কিভাবে লেখক মনে যায়গা করে নিল? কিভাবে লেখককে বিভিন্ন তরি পার হতে সাহায্য করলো এই ওয়েস্টার্ন মনিষি তাও জানা যাবে।


৭.
ইগ নোবেল নামের একটা নোবেল প্রাইজ আছে যা হাস্যকর সব বিরাট কাজের জন্য প্রদান করা হয়।
এই যেমন হাইড্রোজেন বোমা আবিষ্কার করে শান্তি শব্দের মানেটাই পরিবর্তন করে দেয়ায় একজন পেল ‘শান্তিতে’ ইগ নোবেল, আবার আবার ২০০১ সালে নিজেকে চাকা আবিষ্কারক দাবী করে একজন পেয়ে গেল ‘টেকনোলজিতে’ ইগ নোবেল। এরকম আরো বেশ কিছু হাস্যকর কাণ্ড করে কে কে নোবেল পেয়েছে তা জানা যাবে। আবার এই প্রবন্ধের শেষে ওয়েব লিংকও দেয়া হয়েছে যেন আমরা ইগ নোবেলের আরো বেশ কিছু তালিকা দেখতে পাই।


৮.
আলো!
এক রহস্যময় জিনিস। না ধরা যায়, না ছোঁয়া যায়, না ওজন পরিমাপ করা যায় অথচ তার কী অসীম মূল্য!
আলো কি কনা? নাকি তরঙ্গ? নাকি উভয়ই? উভয় হলে একটা জিনিস একই সাথে দুই রুপ কীভাবে পায়? এই অধ্যায়ে ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ওয়েভ ও ফোটন নিয়ে আলোচনা আছে।


৯.
ইন্টারস্টেলার ট্রাভেল সিরিজ নামের একটা অধ্যায় আছে। এই অধ্যায়ে দুটি স্পেসশিপ ভয়েজার-১ আর ভয়েজার-২ অনন্ত অসীমের পথে উড়ে যেতে যেতে কী কী আশ্চর্য জনক ব্যপার স্যাপার দেখলো তার সংক্ষিপ্ত বর্ণনা আছে। এই অধ্যায়টা ছোটো হওয়াতে আমার মন ভরেনি। আরেকটু বড় হলে আশ মিটতো।


১০.
বইটাতে রিলেটিভিটি সিরিজ নামের একটা অধ্যায় আছে।
এ অধ্যায়ে কিছু গুরুগম্ভীর বিষয়াদির অবতারণা করা হয়েছে। কিছু কিছু ছোটোখাটো হিসাবনিকাশ দেয়া আছে যা বুঝতে পোলাপানদেরও অসুবিধা হবে না।
টাইম কিভাবে স্লো হতে পারে আবার ফাস্টই বা হয় কিভাবে? এর উত্তর পাওয়ার পাশাপাশি ব্লাক হোল, ওর্ম হোল, স্পেস টাইম, জেনারেল রিলেটিভিটি, স্থান কালের বক্রতা, স্পেস টাইম ইত্যাদি সম্পর্কে মুটামুটি ধারণা পাওয়া যাবে।


১১.
সলিড নামের অধ্যায়টিতে সলিড বস্তু যেমন মার্বেল, ইট, পাথর ইত্যাদি জিনিসগুলোর ভিতরে ঢুকে যাওয়া হয়েছে। দেখা হচ্ছে সলিড বস্তুর রহস্য। কোয়ান্টাম থিওরির আশ্চর্য যগতেও পাঠককে স্বাগত জানাবে এ অধ্যায়।


১২.
অন্যান্য ভিন্ন ভিন্ন অধ্যায়ের মাধ্যমে নক্ষত্রের জীবন-মরণ, উত্থান-পতনের আশ্চর্য সব গল্পের দেখা পাওয়া যাবে। পাওয়া যাবে ‘এনট্রপি’ নামের বিশৃঙ্খলার জটিল টপিক সহজ করে বুঝে তারপর ডিপে ঢোকার অধ্যায়টি।


১৩.
আবার ‘মনস্টার সিরিজ’ নামের অধ্যায়টিতে আশ্চর্য সব দানব যেমন মাংস খেকো বেশ কিছু আলাদা গাছ, কই মাছের প্রাণের চেয়ে হাজার গুন শক্ত প্রাণ যাদের হত্যা করতে মানুষের কালঘাম ছুটে যাবে তার বিবরণ, বাস্তবের চেয়েও ভয়ঙ্কর জম্বির বিবরণ যা মানব দেহের কন্ট্রোল নিয়ে নিজের কাজ হাসিল করতে পারে। এমন সব দানবের বিবরণ পড়তে পড়তে শিহরিত হতে হবে।


লেখনশৈলী: বইটি লেখার সময় লেখক যখন তখন অতীত, বর্তমান কালের সীমা অতিক্রম করে এদিক সেদিকে টুস করে স্লাইড করে ঢুকে যায়। এরকম যেমন এই বাক্যগুলো—
“অত্যন্ত মজার এই ডাবল স্লিট এক্সপেরিমেন্ট থেকেই কিন্তু একদিন কোয়ান্টাম থিওরি জন্ম নেবে।”,
আগামী ১৫ কোটি বছর ম্যামালরা ইঁদুর-ছুঁচোর আকৃতি নিয়ে ভয়ে ভয়ে লুকিয়ে দিন কাটাবে।”
আবার “একদিন এই আর্কোসরের বংশধররা চারটা ভাগ হয়ে ছড়িয়ে পড়বে সারা পৃথিবীতে”। এভাবে অতীত কালের জবানিতে লেখা বাক্য দেখলে মনে হয় বুঝি পনের কোটি বছর আগে চলে এসেছি এবং ভবিষ্যতে কী হতে যাচ্ছে তা পড়ছি। বেশ চমৎকার অনুভূতি।


সর্ব শেষের ‘সম্মান’ নামের অধ্যায়টিতে লেখক তার পরম শ্রদ্ধেয় মায়ের ওপর অশেষ কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনের সাথে সাথে বিজ্ঞানের সব মহান মহান সারথিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেছেন যারা বেঁচে থাকতে তাঁদের প্রাপ্য সম্মান পাননি। এবং তাঁদের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফসল আমরা ভোগ করছি আজও।
দাবী: লেখকের প্রতি অনুরোধ— যে সকল ওয়েবসাইটের লিংক দেয়া হয় সেগুলোর QR কোড যেন দেয়া হয়। তাতে আমরা সহজেই ওয়েবসাইট অ্যাক্সেস করতে পারি।


আফসোস: বইয়ের কিছু অধ্যায় অনেক সংক্ষিপ্ত। আরো একটু বিস্তৃত হলে মজাটা আরো একটু বাড়তো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *