March 1, 2024

সুস্থ থাকতে প্রোবায়োটিক – ঐশ্বর্য্য বিজয়া দাস

 

🔳বর্তমানে বাংলাদেশে করোনার অবস্থা খুবই ভয়াবহ। প্রতিদিন প্রায় ২৫০ জন এর মতো কাছাকাছি মানুষ মারা যাচ্ছে। শনাক্তকৃত রোগীর হার প্রায় প্রতিদিনই থাকছে ৩০%। এমতাবস্থায় আমাদের জীবনযাত্রায় এসেছে পরিবর্তন। সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি শারীরিক সুস্থতাটাও নিশ্চিত করতে হবে এখন। বিশেষজ্ঞদের মতে আমাদের বাড়াতে হবে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা। প্রোবায়োটিক সমৃদ্ধ খাবার এক্ষেত্রে খুব উপকারী। চলুন তাহলে আজকে আমরা জেনে নিই প্রোবায়োটিক এবং এই সমৃদ্ধ খাবার সম্পর্কেঃ

◾প্রোবায়োটিক কীঃ

দুটি গ্রিক শব্দ মিলে গঠিত হয়েছে প্রোবায়োটিক কথাটি। গ্রিক শব্দ ‘প্রো’ কথার ইংরেজি প্রতিশব্দ ‘ ‘প্রোমোটিং’। বাংলা অর্থ উন্নয়ন করা। আর ‘বায়োটিক’ কথার ইংরেজি অর্থ হলো ‘লাইফ’, যার বাংলা প্রতিশব্দ জীবন। এবার এই দু’টিকে জুড়লে দাঁড়ায় জীবনের উন্নয়ন করা।

প্রোবায়োটিক হলো কিছু ভালো ব্যাকটেরিয়া যা ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার সাথে লড়াই করে আমাদের মেটাবলিজম বৃদ্ধিতে সহায়তা করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।

২০ শতকের গোড়ার দিকে রাশিয়ান নোবেল বিজ্ঞানী এলি মেচনিকফ প্রথম এই প্রোবায়োটিক সম্পর্কে ধারণা দেন। আমাদের শরীরে আনুমানিক ৪০০ রকমের জীবাণু বাস করে। অর্থাৎ একজন মানুষের গড়ে ৩-৪ কেজি আন্ত্রিক জীবাণু থাকে। প্রোবায়োটিক গ্রহণ করলে আন্ত্রিক জীবাণু ভালো থাকে যা পরিপাক নালীর কার্যক্রমকে ভালো রাখে।

◾প্রোবায়োটিক এর কাজ বা উপকারিতাঃ

▪️পরিপাক ক্রিয়া উন্নত করে।
▪️ক্ষতিকর জীবাণু সংক্রমণ প্রতিরোধ করে।
▪️রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
▪️অন্ত্রে রক্ত প্রবাহ বাড়িয়ে দেয়।
▪️সিরাম কোলেস্টেরল হ্রাস করে।
▪️ভিটামিন বি এবং ভিটামিন কে এর সংশ্লেষণ বৃদ্ধি করে।
▪️এমোনিয়া নামক বিষাক্ত পদার্থ বের করতে সাহায্য করে।
▪️উপকারী ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা বৃদ্ধি করে।
▪️ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়াকে অন্ত্রের সাথে সংযুক্ত হতে বাধা দেয়।
▪️ধকলজনিত কারণে ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা বৃদ্ধি প্রতিরোধ করে।
▪️খাবারের রুচি বৃদ্ধি করে।
▪️ক্ষুধামান্দা দূর করে।
▪️প্রদাহ বা ব্যাথাজনিত প্রতিক্রিয়া হ্রাস করে।

◾কী কারণে প্রোবায়োটিক কমে যেতে পারে দেহেঃ

▪️এন্টিবায়োটিকের যথেচ্ছ ব্যবহার।
▪️কোন রোগের কারণে।
▪️অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন।
▪️সুষম খাদ্যের অভাব।
▪️মদ্যপান।
▪️অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার।
▪️ফাস্টফুড ও কম আঁশযুক্ত খাবার খাওয়া।
▪️শরীরে বিভিন্ন রাসায়নিক প্রভাব।

এই কারণ গুলোর জন্যই আমাদের শরীরে উপকারী জীবাণুগুলো ধ্বংস হয়ে যায়। যা মেটাবলিজমের উপর প্রভাব ফেলার সাথে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকেও কমিয়ে দেয়।

কাজেই আমাদের প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় প্রোবায়োটিক যুক্ত খাবার গ্রহণ করার অভ্যাস করতে হবে। কিছু প্রোবায়োটিক সমৃদ্ধ খাবার এর তালিকা নিম্নে দেয়া হলোঃ

◾টকদই

প্রোবায়োটিকের সবচেয়ে ভালো উৎস হচ্ছে টকদই। দুধের ব্যাকটেরিয়াল গাঁজন দ্বারা দই তৈরি করা হয়।
টকদই এ রয়েছে ক্যালসিয়াম, ভিটামিন বি৬,বি১২, রিবোফ্লাভিন, পটাসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম। টকদই এর এই উপাদান গুলো অন্ত্রকে সুস্থ রাখে, হজমে সহায়তা করে এবং হাড় ভালো রাখে। টকদই এ গ্যাসের সমস্যা, ডায়রিয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য এবং ওজন কমাতে সহায়তা করে। টকদই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতেও সহায়তা করে। এছাড়াও মস্তিষ্কের কার্যক্রম বৃদ্ধিতে, টাইপ ২ ডায়েবিটিস প্রতিরোধে, good cholesterol HDL বাড়াতে এবং ব্লাড প্রেসার কমাতে ও সাহায্য করে এই প্রোবায়োটিক।

◾পনির

পনিরে প্রোবায়োটিক ছাড়াও ভিটামিন এ,বি ১৩, ফসফরাস, ক্যালসিয়াম, রিবোফ্লাভিন পাওয়া যায়।

◾ঘোল

ঘোলও প্রোবায়োটিক এর একটি ভালো উৎস।

◾আচার

বাঙালির খুব প্রিয় একটা খাবার হচ্ছে আচার। আচারেও কিন্তু প্রচুর প্রোবায়োটিক আছে। এটি হজম শক্তি বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। মৌসুমি ফল ও সবজি দিয়ে আমাদের দেশে আচার বানানো হয়। ঘরে তৈরি আচার খাওয়ার চেষ্টা করুন। তবে উচ্চ রক্তচাপ থাকলে লবণ এড়িয়ে চলুন।

◾সয়া দুধ

সয়াবিন থেকে তৈরি খাবারগুলোতে ল্যাকটোজ থাকে।এগুলো ভালো প্রোবায়োটিক হিসেবে কাজ করে।

◾ডার্ক চকোলেট

ডার্ক চকোলেট একটা ভালো মানের প্রোবায়োটিক। এছাড়াও এতে আছে এন্টিঅক্সিডেন্ট।

এছাড়াও ফুড সাপ্লিমেন্ট হিসেবে প্রোবায়োটিক পাওয়া যায়।

◾প্রোবায়োটিক ব্যবহারে কিছু টিপসঃ

▪️কোনো কারণে এন্টিবায়োটিক এর কোর্স করতে হলে ডাক্তার এর কাছে জেনে নিন কী প্রোবায়োটিক খেতে হবে।

▪️আজকাল বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদিত প্রোবায়োটিক ট্যাবলেট, ক্যাপসুল, পাউডার, দই বা দুধ পাওয়া যায়। ডাক্তার এর পরামর্শ অনুযায়ী এগুলো সেবন করুন।

▪️অতিরিক্ত যেকোনো কিছু ই খারাপ। অতিরিক্ত প্রোবায়োটিক খেলে গ্যাস, পেট খারাপ, কোষ্ঠকাঠিন্য ইত্যাদি হতে পারে। তাই এগুলো পরিমিত পরিমাণে খেতে হবে।

▪️একেক মানুষের একেক খাবারে এল্যার্জি থাকে। সুতরাং এই প্রোবায়োটিক গুলোর কোনোটিতে যদি এল্যার্জি থাকে তবে তা গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকুন।।

লেখাঃ ঐশ্বর্য্য বিজয়া দাস

ভলেন্টিয়ার, কন্টেন্ট রাইটিং টিম, রাইটার্স ক্লাব বিডি।।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *