February 25, 2024

সিডনি শেশডন – ইফ টুমরো কামস্ | অনীশ দাস অপু

 

অনেকে মনে করেন খুনখারাবি ছাড়া থ্রিলার হয় না,আমি নিজেও দীর্ঘদিন ধরে এমন কিছু খুঁজছি যেটাতে খুনখারাবি থাকবে না কিন্তু থ্রিলে হবে ভরপুর। আর থ্রিলার লেখার ক্ষেত্রে সিডনি সাধারণত কোনো নিয়ম মেনে চলেন না। তার ব‌ইগুলো এমন না যে শেষ পাতাতেই আসল কাহিনী লেখা থাকবে। তার পুরো ব‌ইজুড়েই বিরাজ করে উত্তেজনা।

গল্পের শুরুটা ট্রেসি হুইটনিকে দিয়ে। খুব সাধারণ একটা মেয়ে সে। ভালো একটা চাকরি করে,বিরাট বড়লোকের একমাত্র ছেলের সাথে প্রেম করে শীঘ্রই বিয়ে করার কথা তার। প্রেগন্যান্ট ছিলো সে,আর কয়দিন পরেই শুরু হবে তার সাজানো সুন্দর সংসার। এমন সময় জানা গেলো তার মা মারা গেছে। না, কেউ খুন করেনি তাকে। ব্যবসায় দেওলিয়া হয়ে আত্নহত্যা করেছেন তিনি। তার মৃত্যুর পেছনে কারো কোন স্বার্থ ছিলো না,এটা মূল গল্প‌ও না।

মায়ের ফিউনারেল করবার জন্য দেশের বাড়িতে আসে ট্রেসি। হঠাৎ‌ই মাথায় পাগলামি চেপে যায়, প্রতিশোধ নিতে গিয়ে ভুলভাল কিছু কান্ড করে ফেঁসে যায়। গল্পের শুরু এখান থেকেই। সাধারণ একটা মেয়ের সব হারিয়ে ধীরে ধীরে চালাক, ধীরে ধীরে অপরাধজগতের মোস্ট ওয়ান্টেট হয়ে যাবার গল্প এটা।

মানি হেইস্ট সিরিজ বা বলিউড সিনেমা ধুম টাইপের সাথে বেশ মিলে যায় ট্রেসির গল্পগুলো। তফাৎ এটাই যে এসবের রাইটারদের থেকে অনেক বছর আগেই এমন চমৎকার দমবন্ধ করা একটা গল্প লিখে ফেলেছেন সিডনি শেলডন। তার চরিত্র ট্রেসি সবসময় কয়েক লাইন আগে ভাবে, সবসময় তার চিন্তা তার কর্মকাণ্ড বড়বড় মানুষদেরকেও ধোঁকায় ফেলে দেয়। একসময় ট্রেসির জীবনে আসে জেফ,যে তার মতোই চালাক চতুর। দুজন মিলে অপরাধ জগতে একটা মরিচীকার মতো হয়ে যায়। এই আছে,এই নেই হয়ে যায়। সব জেনেও তাদেরকে ধরার মতো কোনো প্রমান জোগাড় করতে পারে না অফিসার ড্যানিয়েল কুপার।

প্রচুর এনজয় করেছি এই ব‌ইটা। একেকটা অপারেশন একেকবার আমার নিঃশ্বাস বন্ধ করে রাখতো। অসম্ভব থেকেও যেন কিভাবে একটা না একটা উপায় বের করে ফেলে ট্রেসি। তারচেয়েও বড় কথা এই ব‌ইয়ে রিলেটেবল না এমন একটা শব্দ‌ও ব্যবহার করেননি লেখক। যে লাইনটাই আপাত দৃষ্টিতে অনর্থক মনে হয়েছে পরে তার কোন না কোন ব্যাখ্যা পাওয়া গেছে। থ্রিল কাকে বলে ভালোভাবেই এই ব‌ইয়ে বুঝিয়ে দিয়েছেন লেখক। নিঃসন্দেহে এটা শুধু তার সেরা লেখাগুলোর একটি না, থ্রিলার জগতের অন্যধরনের লেখাগুলোর মধ্যেও পড়ে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *