February 27, 2024

সফলতার কান্না Short PDF – লেখক : সিলভিয়া অ্যান হিউলেট

  • বই : সফলতার কান্না
  • লেখক : সিলভিয়া অ্যান হিউলেট
  • অনুবাদক : তাবাসসুম মোসলেহ
  • ক্যাটেগরি : নারী, নারীবাদ, ক্যারিয়ার
  • পৃষ্ঠা সংখ্যা : 288
বলা হয়ে থাকে—’যে রাঁধে, সে চুলও বাঁধে।’ ছেলেদের মধ্যে সাধারণত যারা লম্বা চুল রাখে—তাদের চুল বাঁধতে দেখা যায়। কিন্তু একজন নারী মাত্রই চুল বাঁধে। এইযে, গৃহিণী রান্নার পাশাপাশি চুলও বাঁধে—এটা একজন নারীর জীবনের নান্দনিকতা। একটি ছোট্ট সাজানো সংসার প্রায় প্রত্যেক নারীর জীবনেরই স্বপ্ন। ছোট্ট পরিপাটি দুটো রূম, দক্ষিণমুখী জানলা, একজন দায়িত্ববান এবং যত্নশীল হাসব্যান্ড, এবং ফুটফুটে কিছু শিশু—এমন মায়াভরা সতেজ সংসারের স্বপ্ন কোন নারী দেখেন না?


বর্তমান বিশ্বের পুঁজিবাদী সমাজ নারীদের বাইরে কাজ করতে বাধ্য করেছে। পুঁজিবাদী সমাজ নারীদের কানে তোতাপাখির মতো বুলি আওড়াচ্ছে—’সংসার নারীদের গৃহবন্দী করে রাখে, ঘরে নারীদের ক্রিয়েটিভিটি চর্চার সুযোগ নেই, গৃহিনীদের ব্যস্টিক অর্থনীতিতে কোনো অবদান নেই’, ইত্যাদি ইত্যাদি। যা ছিলো একজন নারীর ফিতরাতি প্রত্যাশা, তাকেই দেখানো হচ্ছে পশ্চাৎপদতা হিসেবে। ফলে খুব স্বাভাবিকভাবেই গৃহিণী হতে চাওয়া নারীরা অহরহই হীনমন্যতায় আক্রান্ত হচ্ছে!


কিন্তু বাস্তবতা আসলে বেশ কঠিন। ঘর এবং বাহিরে একসাথে দুই নৌকায় পা দিতে গিয়ে নারীরা বেশ নেতিবাচকভাবে এর ভুক্তভোগী হয়। যার ক্যারিয়ার হয়—তার ঘর হয় না, আবার যে ঘর রক্ষা করতে চায়—তাকে ক্যারিয়ার সেক্রিফাইস করতে হয়। কর্মজীবী নারীদের জীবনের বিভিন্ন জটিলতা নিয়ে বিশ্লেষণ উঠে এসেছে সিলভিয়া এন হিউলেটের—’ক্রিয়েটিং আ লাইফ’ বইয়ের পাতায় পাতায়। বইটি পড়তে পড়তে পাঠক কখনো ভাববে, কখনো কাঁদবে, কখনো হাহাকার করে উঠবে। বইটি সিয়ান থেকে প্রকাশিত হয়েছে ‘সফলতার কান্না’ শিরোনামে।


বাংলাদেশের পাঠকরা বইটি পড়তে পড়তেই দেখতে পাবেন—বাংলাদেশের ভবিষ্যত গতিপথ। পাঠক মনের অজান্তেই চিন্তা করবেন—আশু এই জটিল সমস্যাকে কীভাবে মোকাবিলা করা যায়! হিউলেট পশ্চিমা সমাজ বাস্তবতায় কিছু সমাধান প্রস্তাব করেছেন বটে—কিন্তু আমরা জানি, নারীদের ফিতরাতি বৈশিষ্ট্যের বাইরের কোনো সমাধানই পূর্ণাঙ্গ সমাধান নয়।


আমরা নারীদের ঘরের কাজকে মূল্যায়ন করি না। নারীদের মাতৃত্বের অবদানকে মনে করে কখনো তাদের ‘ধন্যবাদ’ দেওয়া হয় না। একজন মা শুধু রাঁধেন বা চুলই বাঁধেন না, তিনি গড়ে দেন একটি প্রজন্ম। সেই প্রজন্ম থেকেই তৈরি হয় একেকজন উমর, খালিদ, হামজা। তৈরি হয় আল বিরুনী, ইবনে বতুতা কিম্বা আল খাওয়ারিজমীর মতো সৃষ্টিশীল সোনার মানুষ।


‘সফলতার কান্না’ বইটি একজন নারী এবং নারীর সঙ্গী হিসেবে একজন পুরুষের জীবনও বদলে দিতে পারে; তৈরি করতে পারে ভাবনার নতুন দৃষ্টিভঙ্গি। বইয়ের শর্ট পিডিএফ এবং অর্ডার লিংক আমি কমেন্ট বক্সে দিয়ে দেবো। অফার মূল্যে বইটি অর্ডার করতে পারেন উক্ত লিংক থেকে। সবাইকে ‘সফলতার কান্না’র মতো অতি মূল্যবান বইটি নিজের সংগ্রহে রাখার অনুরোধ রইলো।


~ ১৭.০৮.২০২২
নারীদের জীবনে বাইরে গিয়ে অর্থ উপার্জন করা না-করা, কিংবা এসবের
মেরিট-ডিমেরিট প্রসঙ্গে মাঝেমধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ তর্কবিতর্ক হয়। আমি
নিজে অনেকবার চেয়েছিলাম বিষয়টি নিয়ে আর্টিকেল বা পুস্তিকা টাইপ কিছু একটা
লিখব; কিন্তু নানা ব্যস্ততার কারণে হয়ে ওঠেনি। বইয়ের সম্পাদকীয় তো লিখতেই
হবে—তাই ইচ্ছাটাকেই ব্যস্ততার অংশ বানিয়েনিলাম আজ; তবে সংক্ষেপেই কিছু
কথা বলব।


আমার যখন বিষয়টা নিয়ে লিখতে প্রবল ইচ্ছা হচ্ছিল, তখন নিজেকে প্রশ্ন
করছিলাম—‘আমি এই বিষয় নিয়ে কী কারণে লিখতে আগ্রহ বোধ করছি? কেন
আমার মাথায় এটা নিয়ে লেখার এমন তাড়না বোধ করছি? কিংবা এই বিষয় নিয়ে
আমার কী এমন অভিজ্ঞতা আছে; যা লিখলে তা মানুষের জীবনে ক�োনো ভ্যালু
যোগ করতে পারে?’ খুব স্পষ্ট কোন উত্তর ভেতর থেকে পেলাম না। একইসাথে
তাড়নাটাকেও তাড়াতে পারিনি।


পরে বুঝতে পারলাম—এটা হলো আমার ব্যক্তিগত পারিবারিক জীবনের
বিপরীতমুখী অভিজ্ঞতার অবচেতন প্রভাব। এটাই হয়তো আমার অবচেতনমনে
এক ধরণের তাড়না তৈরি করেছে।


ব্যক্তিগত জীবনে আমার একটু বিচিত্র ও বিপরীতধর্মী অভিজ্ঞতা রয়েছে।
প্রতিনিয়ত সেই জীবনধারার মধ্য দিয়ে নতুন নতুন অভিজ্ঞতা অর্জনও করছি।
আমার মনে হয় আমি এই ক্ষেত্রে খানিকটা বিরল অভিজ্ঞতা রাখা একজন মানুষ।

এই অভিজ্ঞতাই আমাকে অবচেতন মনে এই বিষয়ে লিখতে ‘উসকানি’ দিচ্ছিল
বোধ হয়। বলি, কী সেই বিপরীতধর্মী ও বিচিত্র অভিজ্ঞতা।


আমি নিজে লেখাপড়া করেছি কওমি মাদরাসায়, কিন্তু কর্মজীবনে সহকর্মী
হয়েছি এমন অনেক মানুষের; যারা দেশ-বিদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যলায়ে লেখাপড়া
করেছেন—যাদের মধ্যে নারী-পুরুষ উভয়ই ছিলেন। আবার যখন থেকে প্রতিষ্ঠান
পরিচালনার মতো দায়িত্ব কাঁধে চেপেছে, তখন থেকে আমার টিমেও অনেক নারী-
পুরুষ কাজ করেছেন, করছেন; যারা দেশ-বিদেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়ন
করেছেন। আমি সাধারণ শিক্ষায় শিক্ষিত এসব মানুষের জীবনধারার খানিকটা এবং
চিন্তাধারার কিয়দাংশ কাছ থেকে দেখেছি। তাদের প্রাত্যহিক জীবনের চাওয়া-
পাওয়া, সুবিধা-অসুবিধাগুলোও প্রত্যক্ষ্য করেছি কাছ থেকে।


আমার দুটি বোন। তাদের একজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্রাজুয়েটেড;
বেশ স্বনামধন্য একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত; তার হাজবেন্ডও একটি মাল্টিন্যাশনাল
কম্পানিতে কর্মরত। আরেক বোন মেট্রিকও পাশ করেনি; তার আগেই বিয়ে হয়ে
গেল। সংসার-সন্তান সামলাতে গিয়ে লেখাপড়ার পাট সেখানেইে চুকাতে হলো।
তার হাজবেন্ড বর্তমানে দেশের একটি ইসলামী ব্যাংক-এর একজন ম্যানেজার।
আর আমার বোনটা একজন পূর্ণকালীন স্ত্রী ও মা হিসেবে সাংসারিক জীবনযাপন
করছে।


আমার দুজন স্ত্রী। তাদের একজন ইন্টারমিডিয়েট লেভেলের। যথেষ্ট মেধাবী
হওয়া সত্ত্বেও অল্প বয়সে সংসার ও সন্তানের দায়িত্ব কাঁধে নেওয়ায় প্রাতিষ্ঠানিক
লেখাপড়া আর চালিয়ে যেতে পারেননি; পূর্ণকালীন সংসার-সন্তান সামলাচ্ছেন।
আমার আরেকজন স্ত্রী একযোগে বুয়েট, ঢাবি ও মেডিক্যালে চান্স পেয়েছিলেন;
অবশেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগ থেকে লেখাপড়া শেষ করেন।
বর্তমানে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন। ভুলে গেলে চলবে না যে,
তাকেও একই সাথে ঘরসংসার ও সন্তান সামলাতেই হচ্ছে।


বিস্তারিত আলোচনায় গেলে এমন আরেকটা পূর্ণ বই লিখতে হবে। তাই
সংক্ষেপেই বলব। যদি আমার দুই বোনের জীবনে সুখস্বাচ্ছন্দ্য ও আরাম
আয়েশের তুলনামূলক চিন্তা করি, তাহলে স্পষ্টতই দেখতে পাই—যে নিজেকে  …

সফলতার কান্না Short PDF – লেখক : সিলভিয়া অ্যান হিউলেট

Sean Publication

View all posts by Sean Publication →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *