February 25, 2024

শঙ্খনীল কারাগার : লেখক হুমায়ূন আহমেদ

  • বইঃ শঙ্খনীল কারাগার
  • লেখকঃ হুমায়ূন আহমেদ
  • প্রকাশনীঃ অন্যপ্রকাশ

নিম্ন মধ্যবিত্ত জীবন নিয়ে ‘শঙ্খনীল কারাগার’এর মতো অপূর্ব কোমল উপন্যাস সাহিত্যে খুব কমই লেখা হয়েছে। হুমায়ুন আহমেদ এর এই সৃষ্টিটি তাই তার সকল পাঠকের হৃদয় বিশেষ স্থান দখল করে আছে।
ঘটনা শুরু হয়েছিল ‘কারা-কানন’ নামের এক প্রকান্ড বাড়ি থেকে। উপন্যাসের কথক হচ্ছে, খোকা। সে একটা কলেজের শিক্ষক। তারা ৬ ভাইবোন। খোকা, রাবেয়া, রুনু, ঝুনু, মন্টু, নীনু।


শিরিন সুলতানা তাদের বাসায় আশ্রিত আজহার হোসেন কে বিয়ে করে চলে আসেন। হয়তো এই কারণে বা অন্যকোন কারণে তিনি বাবার বাড়ির কারো সাথে কখনই যোগাযোগ রাখেন নি। আবার আফজাল হোসেনের সাথেও খুব আন্তরিক সম্পর্ক ছিল না। নিজের শখ গুলো সব গুটিয়ে রাখতেন নিজের মতো করে নিজের মধ্যে।


সারাটা জীবন মা এর অবহেলা পাওয়া ছেলে-মেয়ে গুলোও জানে তারা মা কে খুব ভালোবাসে। তাদের খুব করে চাওয়া মা তাদের ভালোবাসুক বা ভালোবাসা প্রকাশ করুক। কিন্তু না, মিসেস শিরিন তেইশটা বছর নিজেকে আড়াল করেছিল। শুধু রাবেয়ার প্রতি তার ভালোবাসা প্রকাশ পেয়েছিল কিছুটা আর বাকিদের বেলায় তিনি নির্লিপ্ত। নীনুকে জন্ম দিতে গিয়ে শিরিন সুলতানার মৃত্যু হয়। সময় গড়ায়, কারো মৃত্যুতে কারো জীবন কখনোই থেমে থাকে না। সংসার, পরিবেশ, সমাজও ঠিক আগের মতোই চলে। অভাব অনটনের সংসারটাকে রাবেয়া গুছিয়ে নেয় সুন্দর করে।


মেয়েদের গায়ের রং যতটা কালো হলে মায়েরা মেয়েদের শ্যামলা বলে তার থেকেও কালো ছিল রাবেয়া। তবে খুব লক্ষীমন্ত মেয়ে, বাবার সংসারের হাল ধরতে গিয়ে নিজের কোনো সংসার গড়া হয়নি।
উত্তম পুরুষে বর্নিত খোকার জীবনে হাজার সুখ অনেকটা অপ্রাপ্তি আবার এক চিলতে ভালোবাসা ছিল কিটকী নামের মেয়েটির প্রতি৷ ছোটবেলার খুনসুটি থেকেই যেন মনের এককোণে ভালোবাসার খুপরি ঘর বেঁধেছিল। হয়ত মেয়েটাও ভালোবাসত খোকাকে কিন্তুু অভিজাত্য পরিবারের ছেলের সাথে কিটকীরও বিয়ে হয়ে গেল।


একই পরিবারের এতগুলো মানুষ কাছাকাছি থেকেও কেউ কখনো বুঝতে পারে নাহ কার মনে কি চলছে? কারণ প্রতিটি মানুষ নিজের চারপাশে এক অদৃশ্য দেয়াল তৈরী করে রাখেযে দেওয়ালের মধ্যে কেউ কখনো প্রবেশ করতে পারে না যে দেওয়ালের ভেতরের কথাগুলো কখনো কেউ জানতে পারে নাহ- এই অদৃশ্য দেয়ালের নাম ‘শঙ্খনীল-কারাগার’।


পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ পুরো উপন্যাসটাই রহস্যে ঘেরা। এক পৃষ্ঠা পরার পর বার বার মনে হয় পরের পৃষ্ঠায় কি আছে,কি হবে। অবশেষে রাবেয়ার চিঠিতে সবকিছুই খোলাসা হয়। সহজ অনবদ্য সাবলীল কথায় রহস্য নিয়ে উপন্যাসটা কাঁদিয়েছে বার বার। জীবনের সূক্ষ্ম অনুভূতিগুলো, ছোট ছোট ভাল লাগাগুলো এত চমৎকারভাবে এসেছে এখানে!
রেটিংঃ ০৮/১০

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *