February 26, 2024

যে রোগ বাসা বাঁধে গোপনে !

আমার হৃদয়ে নিত্য যে ঝড় বয়—তা শুধু আমিই জানি। আমার আলস্যভরা, বয়ে যেতে দেয়া সময়গুলোতেও মস্তিষ্কের নিউরনে নিউরনে যে কি উন্মাতাল সংগ্রাম চলে—তা আর কেউ দেখে না। শ্রান্ত, স্থির মুখশ্রীর আড়ালে যে কি নিদারুণ অস্থির কায়া—তা লোকে জানে না।
প্রত্যেক মানুষের জীবনই কি এমন নয়? আপাত শান্ত জীবনের আড়ালে কি এক অব্যক্ত জ্বালা মস্তিষ্কের অলিগলি বেয়ে ধীরেধীরে বুকে নেমে আসে—তা কি আমার মতো আর সবাইকেই গ্রাস করে? জানি না। আমি তাই মানুষকে জাজ করতে যাই না, শুধু নিজের কথাই ভাবি। সেই মহাদিবসের দিনেও তো শুধু নিজের কথাই ভাববে সবাই—’ইয়া নাফসি, ইয়া নাফসি’…
জীবন মানুষের প্রত্যাশার মতো অতটা সরল নয়। জীবনের গতিপথে কতকত মায়ার জন্ম হয়, কতকত মায়া হারিয়ে যায়, আবার কতকত মায়া পরাজয় বা ধ্বংসের কারণ হয়! কিছু গ্লানি থেকে জন্ম নেয়া দহনে পুড়ে খাক হয়ে যায় অসংখ্য স্বপ্নের আনাগোনা, আমরা কতটা সযত্নে সেসব লুকিয়ে রাখি! অথচ একজন দেখেন—যাঁর স্মরণে হৃদয় প্রশান্ত হয়। কায়মনোবাক্যে শুধু তাঁর কাছেই মুক্তির উপায় খুঁজতে হয়।
কিন্তু প্রাণের দহনজ্বালা কিছুটা কমে এলে আমরা আবারো অকৃতজ্ঞ হই, আফসোস!
আচ্ছা, ইসলাম কি সবচে সুন্দরতম জীবন-বিধান নয়? ইসলাম কি আল্লাহ মনোনীত করেন নি? ইসলাম কি মানবতার সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য সমাধান দেয় না?
দেয়।
তাহলে মানুষ কেন যুগেযুগে আল্লাহর মনোনীত বিধান লঙ্ঘন করেছে? কেন এত-এত নবী-রাসূল পাঠানো লেগেছে? কেন নবী-রাসূল পাঠানোর পর মানুষ বারবার বিকৃতির পথ বেছে নিয়েছে? আল্লাহর আইন এতটা উপকারী হবার পরেও কেন তাগুতের শাসন পৃথিবীতে বেশি স্থায়ী হয়েছে? কেন?
আল্লাহ আসলে দেখতে চান—তাঁর বান্দারা তাঁর দ্বীনকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য কতটুকু সংগ্রাম করতে রাজি! জীবন তো একটা পরীক্ষা মাত্র। পূর্ণ সুখ তো জান্নাতে। ইসলামি মূল্যবোধ ও আচার সমাজে দীর্ঘস্থায়ী হলে মানুষ পৃথিবীতেই সুখী হবে। কিন্তু আল্লাহ দেখতে চান মানুষের প্রচেষ্টা।
ইসলাম আসলে আমার জন্যই। আমি ভাবি—ইসলাম যেন আমি ছাড়া আর বাদবাকি সবার জন্য। তাই আমি মানুষের মানা না-মানা নিয়ে বেশি ভাবিত হই। অথচ আল্লাহ শুধু আমার ব্যাপারেই জানতে চাইবেন, তিনি দেখবেন যে—আমি নিজে কতটুকু মেনেছি!
কবি হোমার বলেছেন—”অসুস্থ আনন্দের চাইতে পবিত্র বেদনা শ্রেয়…”
পুড়েপুড়ে সোনা যদি খাঁটি হয়—তবে এ হৃদয়টাও পুড়েপুড়ে পরিশুদ্ধ হোক, নিফাক মুক্ত হোক। শুধু আমিই জানি, আমার অন্তর কতটা রোগগ্রস্থ, আর জানেন আল্লাহ!
ইয়া আল্লাহ, আমাদের অসুস্থ হৃদয়গুলোকে তুমি সুস্থ করে দাও, ঈমানদীপ্ত করে দাও।
আমীন, ইয়া রাব্বাল আলামীন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *