March 1, 2024

মৃত্যূকল্প – ইশরাক অর্ণব

বইয়ের নাম: মৃত্যূকল্প
লেখক: ইশরাক অর্ণব
প্রকাশনী: বাতিঘর প্রকাশনি
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৯০
মুদ্রিত মূল্য: ২২০৳

লেখক ইশরাক অর্ণবের প্রথম মৌলিক উপন্যাস এটি। ইতিপূর্বে তার বেশ কয়েকটি অনুবাদ পড়েছি। অনুবাদগুলোর মতই মৌলিক উপন্যাসটাও ছিল প্রাঞ্জল। বলা যেতে পারে প্রথম উপন্যাসেরই উনি বাজিমাত করে ফেলেছেন।

কাহিনি সংক্ষেপ:
শহরে হঠাৎ একজন তরুন রাজনীতিবিদ খুন হন। ঘটনার তদন্তে নামে হোমিসাইড ডিপার্টমেন্টের দক্ষ অফিসার জাভেদ ও তার টিম। লাশের গায়ে পাওয়া যায় মৃত ব্যাক্তির রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ সান্টুর চুল। সেই চুলের সুত্র ধরে সান্টুর বাসায় হানা দিয়ে উদ্ধার করা হয় খুনে ব্যাবহৃত পিস্তল ও মৃতের ওয়ালেট। হাতে নাতে প্রমান পেয়ে গ্রেপ্তার করা হয় সান্টু কে। আপাত দৃষ্টিতে এটা একটা ওপেন এস শাট কেস। কিন্তু জাভেদের মনে খটকা লাগে। কেমন জানি খুব সহজেই অপরাধী ধরা পরে গেল। মনে হলো কেউ যেন হাতে ধরে তাদের হাতে আসামীকে তুলে দিল। এর পেছনে অন্য কোন মাস্টারমাইন্ড খুনির উপস্থিত থাকার সম্ভাবনা প্রবলভাবে মাথা চাড়া দিয়ে উঠল ডিটেকটিভ জাভেদের অনুসন্ধিৎসু মনে।

পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে উঠল যখন সান্টুর পক্ষে নিযুক্ত শহরের সবচেয়ে বড় ডিফেন্স লইয়ার হায়দার আলির লাশ পাওয়া গেল তারই গাড়ির ভেতর। কে করলো খুন তাকে? তবে কি হায়দার আলি এমন কোন ক্লু উদ্ধার করতে পেরেছিল যার কারনে বেঘোরে জীবনটা গেল তার? নোটবুকে লেখা স্পাইডার বয়টা কে? শহরের প্রাক্তন মেয়রের সাথে এই খুনের সম্পর্কটা কি? ক্ষমতার লড়াই নাকি অর্থের লোভ কোনটার কারনে খুন হলো তরুন নেতা ও হায়দার উকিল। কেঁচো খুড়তে যে সাপ বেরিয়ে আসলো সেই সাপের ছোবল থেকে জাভেদ নিজেকে রক্ষা করতে পারবে তো?

পাঠ প্রতিক্রিয়া:
এক কথায় পুরো গল্পটাতেই ছিল টান টান উত্তেজনার। প্রতি মূহুর্তে বদলে যাচ্ছিল দৃশ্যপট। সামনে আসছে নতুন ক্লু, ঘটনা মোড় নিচ্ছে একেবারেই ভাবনার বাইরে নতুন কোন দিকে। লেখক তার লেখনিতে গল্পের নায়ক ও খুনির যে চরিত্র ফুটিয়ে তুলেছেন এক কথায় অসাধারন। গল্পে পটভুমিতে যে শহরটার বর্ননা দেয়া হয়েছে সেটার নাম লেখক উল্লেখ না করলেও সেই শহরের বাসিন্দা হিসেবে আমি নিজেকে সহজেই রিলেট করতে পেরেছি। তাই গল্পের ঘটনাপ্রবাহ আমার কাছে আরো জীবন্ত হয়ে উঠেছে।

লেখকের শব্দচয়ন আধুনিক ও মানানসই। লেখনশৈলি চমৎকার। বলে না দেয়া হলে কেউ হয়ত বুঝতেই পারবে না এটা লেখকের প্রথম মৌলিক উপন্যাস। গল্পের শেষের দিকে খুনির পরিচয় প্রকাশের সময় যে টুইস্টের সম্মূখিন হয়েছি আসলেই চমকে গেছি। এইজায়গাটায় লেখক একটা নতুনত্ব এনেছেন। সাধারনত থ্রিলার গল্পগুলোতে আমরা অপরাধি কে যেমনটা দেখে আসি এই গল্পের অপরাধী তেমন গতানুগতিক কেউ না। বিষয়টা আমার মতো অন্যান্য পাঠকদেরও চমকে দেবে। ব্যাক্তিগত রেটিং: ৯/১০

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *