March 2, 2024

মহামারী রোগ সংক্রমণের সময় ধৈর্য্য ধারণ করা

আমরা কুরআন আর সুন্নাহ অনুযায়ী যতদিন পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে চলবো না, ততদিন আমরা আল্লাহর আযাবের সম্মুখীন হতে থাকবো। পৃথিবীতে মহামারীর আবির্ভাব নতুন কোনো বিষয় নয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যামানায় ও মহামারী দেখা দিয়েছিল এবং এই মহামারীর প্রাক্কালে কি করনীয় তাও তিনি শিক্ষা দিয়ে গেছেন। তাহলে আমরা এত অধৈর্য্য কেন? কেন আমরা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার তাওয়াক্কুল রাখি না যেভাবে রাখা উচিত, আর কেনই বা আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ মোতাবেক তখন চলি না। সব কিছু বলা আছে কিতাবাদিতে, তাহলে নিজেকে আমরা সে মোতাবেক প্রস্তুত করি না।
.
আজ শহীদ সিরিজে আমি আপনাদের এমন মহামারীর প্রাক্কালে কি কি করলে শহীদের মর্যাদা পাবেন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার নিকট থেকে তা একটা হাদীস থেকে জানতে পারবো ইনশা’আল্লাহ।
.
◍ হাদীসঃ
‘আয়িশাহ রাদিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে প্লেগ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে উত্তরে তিনি বললেনঃ
.
❛‌ তা একটি আযাব। আল্লাহ্ তা‘আলা তাঁর বান্দাদের মধ্যে যাদের প্রতি ইচ্ছা করেন তাদের উপর তা প্রেরণ করেন। আর আল্লাহ্ তা‘আলা তাঁর মুমিন বান্দাগণের উপর তা রহমত করে দিয়েছেন। কোন ব্যক্তি যখন প্লেগে আক্রান্ত জায়গায় সাওয়াবের আশায় ধৈর্য ধরে অবস্থান করে এবং তার অন্তরে দৃঢ় বিশ্বাস থাকে যে, আল্লাহ্ তাকদীরে যা লিখে রেখেছেন তাই হবে তাহলে সে একজন শহীদের সমান সওয়াব পাবে। ❜
.
◍ উৎসঃ
√ সহীহ বুখারী, হাদীসঃ ৩৪৭৪, ৫৭৩৪, ৬৬১৯ (তাওহীদ পাবলিকেশন্স)
√ মুসনাদে আহমাদ, হাদীসঃ ২৩৮৩৭, ২৪৬৮৬, ২৫৬০৮
√ হাদীসের মানঃ সহীহ
.
◍ শিক্ষণীয় বিষয়ঃ
উল্লেখিত হাদীসের আলোকে আমরা নিম্নলিখিত বিষয়গুলো পরিষ্কার ভাবে ফুটে উঠে –
• যে কোনো প্রকার মহামারী এক রকম আযাব আল্লাহর পক্ষ হতে আমাদের নিজেদের কর্মের কারণে।
• এই মহামারী যে কোনো সময় যে কোনো বান্দার উপর আপতিত হতেই পারে।
• মু’মিন বান্দাদের জন্য আল্লাহ তা রহমতস্বরূপ করে দিয়েছেন।
• যে কোনো প্রকার মহামারী দেখা দিলে সওয়াবের আশায় ধৈর্য্য ধারণ করা।
• যে জায়গায় দেখা দিয়েছে সে জায়গার লোকদের ধৈর্য্য ধরে সেখানেই অবস্থান নেওয়া।
• অন্যত্র না যাওয়া, এবং অন্যত্র থেকে সে জায়গায় কারো না ঢোকা।
• আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল রাখা সর্বহালোতে।
• আল্লাহর ফয়সালার উপর সন্তুষ্ট থাকা।
আমরা যদি এই কাজগুলো গুনাক্ষরে পালন করতেন, তাহলে আমরা সকলেই শহীদের মর্যাদা পেতাম আল্লাহ যদি চাইতেন। যদি কোনো মুমিন মারা যেত তাহলে সে তো শহীদের দরজা পেত-ই, আর জীবিত থাকত ধৈর্য্য ধারণ করে তারাও শহীদের সমান সওয়াব পেতাম।
.
আল্লাহ আমাদের এমন অবস্থাতেও সওয়াব উপহার দিচ্ছেন, আর আমরা কি করছি? শুধুই ছটফট করছি, পিঞ্জিরায় থাকা আবদ্ধ পাখির মতো। তাই আসুন, সময় থাকতে আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তন হয়, তাওবাহ করে ফিরে যায়, ধৈর্য্য ধারণ করি সকল মুহূর্তে, যাতে বিনিময়ে আল্লাহর নিকট সুন্দর কিছু পেতে পারি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *