February 25, 2024

বিশেষত্বে কালো-চা – Nisita Jahan 

আপনি কি কালো চা খান? কেন খাবো কালো চা?

আমরা অনেকেই আছি যাদের চা ছাড়া দিন বিষাদময়, খাপছাড়া, চলবে না টাইপ ফিল হয়। কালো চা মূলত রঙ চা বা লিকার চা কেই বলা হয়ে থাকে। ক্ষেত্র-বিশেষে অনেকেই এটি চিনি ছাড়াও পান করে থাকে।

গবেষণায় দেখা গেছে, কালো চা স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায়। তা ছাড়া নিয়মিত কালো পান করলে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসে। এমনকি যারা ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান; তাদের জন্যও রং চা অনেক কার্যকরী। শুধু শারীরিক সুস্থতা নয় বরং ত্বকের কালো দাগ দূর করতে পারে চা।

কালো চায়ের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রয়েছে। চায়ের পলিফেনল হচ্ছে ব্যাকটেরিয়ার যম। যেকোনো জীবাণু ধ্বংসে কাজ করে কালো চায়ে থাকা উপাদানসমূহ। ত্বক ও চুলের যত্নে কালো চা ব্যবহারেই দেখবেন ম্যাজিকের মতো ফলাফল।

কালো চায়ের উপকারিতা:

দুধ চিনি ছাড়া সামান্য তিতা স্বাদের চা ঔষধ হিসাবে পরিচিত। খালিপেটে এই চা এককাপ পান করলে বিস্বাদের কারণে গা বমি-বমিভাব হতে পারে। এই চা পান করার পর ১০ মিনিট কোনোকিছু খাওয়া যাবে না।

◾ঔষধি কালো চা তৈরির নিয়ম:
১ চা চামচ বিশুদ্ধ চা পাতা ১ কাপ পানিতে ফুটিয়ে অর্ধেক করে নিন এবং ছেঁকে আরো অর্ধেক কাপ গরম পানি মেশান। চিনি এবং দুধ না মেশালেই হয়ে গেল ঔষধি কালো চা।

বিভিন্ন রোগে কালো চায়ের প্রয়োগ

▪️ কিডনি সংক্রান্ত জটিলতায় যারা ভূগছেন, তাদের জন্য প্রতিদিন সকালে এক কাপ।

▪️ মুখে ব্যকটেরিয়া :সকালে খালি পেটে ১ কাপ কালো চা পান করলে মুখের ভিতর যত ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া আছে তা ধ্বংস হয়ে যায় এবং মুখ সজীব থাকে।

▪️ডায়রিয়া হলে কালো চা একবার পান করলে ঘন ঘন মলত্যাগ বন্ধ হবে।

▪️ নিউমনিয়া হলে দিনে তিনবার কালো চা পান করলে এর প্রকোপ বহুলাংশে কমে যায়।

▪️ চামড়ার ইনফেকশন হলে কালো চা নিয়মিত দিনে দুইবার পান করলে ২/৩ দিনের মধ্যে কমে যাবে।

▪️হজমে গোলমাল হলে কালো চা নিরাময় পানীয়।

▪️প্রস্ট্রেট বা মূত্রথলির সমস্যা হলে দিনে তিনবার কালো চা পান করলে সমস্যা দূর হয়। এই চিকিৎসা নেয়ার সময় প্রোটিন থেকে বিরত থাকতে হবে। হালকা খাবার গ্রহণ করতে হবে এবং দিনে ৮-১০ গ্লাস পানিপান করতে হবে।

▪️ ব্রেষ্ট ক্যান্সার হলে কালো চা এর বৃদ্ধির গতিরোধ করতে পারে। এসব ক্ষেত্রে ঢ়ৎড়ঃবরহ খাবার বর্জন করে দিনে ৪ বার কালো চা নিয়মিত পান করতে হবে।

▪️ হার্ট ভাল হয়: কালো চা হার্ট ভালো রাখে। হার্ট আক্রান্ত হলে রোগীকে দিনে তিনবার কালো চা পান করালে এবং হালকা সহজ পাচ্য খাবার খাওয়ালে মৃত্যুর সময়কে বিলম্বিত করা যায়।

▪️রক্তে ক্যালসিয়াম : নিয়মিত কালো চা পান করলে রক্তে ক্যালসিয়ামের ভারসাম্য বজায় থাকে এবং দন্তক্ষয় রোধ করে।

▪️কোলেস্ট্রেরলঃ কালো চা পানকারীদের রক্তে কখনও কোলেস্ট্রেরলের মাত্রা বাড়তে পারে না। পূর্বে কোনো কারণে বেড়ে থাকলে নিয়মিত কালো চা পান করলে মাত্রা কমে যাবে।

▪️ রোগপ্রতিরোধঃ কালো চা রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

▪️ফ্লু হলে গরম কালো চায়ের পানি দিয়ে দিনে তিনবার গড়গড়া করলে ফ্লু’র জীবাণু মারা যেতে সাহায্য করে। আবার সবধরনের খাবার বর্জন করে শুধু কুসুমগরম লেবুর পানি দুই ঘণ্টা অন্তর পান করলে একদিনের মধ্যে ফ্লু ভালো হয়ে যায়।

▪️ উচ্চ রক্তচাপঃ রক্তের উচ্চ চাপ দেখা দিলে দিনে তিনবার কালো চা পান করে এবং খাদ্য থেকে লবণ বর্জন করলে একদিনেই রক্তচাপ স্বাভাবিক হয়ে যাবে এবং কোনো ঔষধের প্রয়োজন পড়বে না। প্রোটিনযুক্ত খাদ্যদ্রব্য থেকে কিছু দিনের জন্য অবশ্যই দূরে থাকতে হবে।

তবে সব কথার এক কথা! কোনো কিছুই অতিরিক্ত ভালো নয়। সুতরাং অত্যাধিক মাএায় সেবন না করাই ভাল।

ব্লগ- বিশেষত্বে কালো-চা
লেখা- Nisita Jahan

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *