February 26, 2024

প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ – আরিফ আজাদ

 

বইয়ের নাম: প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ ১
লেখক :আরিফ আজাদ
প্রচ্ছদ :কাজী যুবাইর মাহমুদ
প্রথম প্রকাশ:৯ ফেব্রুয়ারী ২০১৭
গ্রন্থস্বত্ব :আরিফ আজাদ
পৃষ্ঠা :১৬৭
মূল্য :২০০/-
পাবলিশার্স :গার্ডিয়ান পাবলিকেশন্স

সূচিপত্র
১.একজন অবিশ্বাসীর বিশ্বাস
২.তকদির বনাম স্বাধীন ইচ্ছা:স্রষ্টা কি এখানে বিতর্কিত
৩.স্রষ্টা কেন মন্দ কাজের দায় নেন না
৪.শূন্যস্থান থেকে স্রষ্টার দূরত্ব
৫.তাদের অন্তরে আল্লাহ মোহর মেরে দেন:সত্যি কি তাই
৬.মুশরিকদের যেখানে পাও হত্যা করো:অতঃপর
৭.স্রষ্টাকে কে সৃষ্টি করল
৮.একটি সাম্প্রদায়িক আয়াত এবং…..
৯.কুরআন কি সূর্যমুখীর পানির নিচে ডুবে যাওয়ার কথা বলে
১০.মুসলমানদের কুরবানি ঈদ এবং একজন মাতুব্বরের অযাচিত মাতব্বরি
১১.আলো কুরআন কি মানব রচিত
১২.রিলেটিভিটির গল্প
১৩.A Letter to David :nessus Wasn’t Myth & Held Exist
১৪.কুরআন, আকাশ, ছাদ এবং একজন ব্যক্তির মিথ্যাচার
১৫.আয়িশা (রা:) ও মুহাম্মাদ (স:)এ-র বিয়ে এবং কথিত নাস্তিকদের কানাঘুষা
১৬.স্রষ্টা যদি দয়ালুই হবেন, তাহলে জাহান্নাম কেন
১৭.কুরআন মতে পৃথিবী কি সমতল না গোলাকার
১৮.একটি ডিএনএ-র জবানবন্দি
১৯.কুরআনে বিজ্ঞান :কাকতালীয় নাকি বাস্তবতা
২০.স্রষ্টা কি এমন কিছু বানাতে পারবে,যেটা স্রষ্টাদের নিজেই তুলতে পারবেন না
২১.ভেল্কিবাজির সাতকাহন

বই সম্পর্কে কিছু কথা,
“বিশ্বাসের কথা কতটা শোক করে বলা যায়? বিশ্বাসী প্রাণের সুর অনুপম হতে পারে? বিশ্বাসকে যুক্তির দাঁড়িপাল্লায় মাপা কি খুব সহজ?অবিশ্বাসীকে কতটা মায়াভরা স্পর্শে বিশ্বাসের শীতল পরশ দেওয়া যায়?যুক্তিতে মুক্তি নাকি বিশ্বাসের যুক্তিতে মুক্তি? ”
‘প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ ‘পড়ে এসবের উত্তর মিলতে পারে।

গল্পের নায়ক হলো সাজিদ।
এই নায়ক কোনো রোমান্টিক সিনেমার বা কোনো একশনধর্মী সিনেমার নায়ক না।এই নায়ক হলো নাস্তিকদেরকে বিপক্ষে কুরআনের পক্ষে লড়াই করার নায়ক।
সাজিদ প্রথমদিকে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়লেও পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে সে নাস্তিক হয়ে যায়। একদিন তার রুমমেট আরিফের সাথে ধর্ম নিয়ে কিছু তর্কে জড়ায় এবং আরিফের যথার্থ যুক্তিতে হার মেনে সে আবার আস্তিক হয় এবং নামাজ পড়তে শুরু করে।

সাজিদের কয়েকজন বন্ধু, তার স্যার মফিজুর রহমান, বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র কয়েকজন ভাইয়েরা নাস্তিক এবং এরা বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে সাজিদকে কুরআন নিয়ে অযৌক্তিক প্রশ্ন করে প্রমান করতে চায় স্রষ্টা বলতে কিছু নাই কিন্তু সাজিদ ও হাল ছাড়ার মতো ছেলে নন,সে কুরআন নিয়ে তাদের প্রশ্নের উত্তর কুরআনের মাধ্যমেই দিয়েছেন। এবং প্রমাণ করে দেখিয়েছে স্রষ্টা আছেন।

তার একেকটা যুক্তি নাস্তিকদের একদম নাকানিচুবানি খাইয়ে দেয়।
কয়েকটা যুক্তি সম্পর্কে জেনে নিই,

হুমায়ুন রুবায়েত আজাদ নামে একজন নাস্তিকের প্রশ্ন, স্রষ্টাকে কে সৃষ্টি করল?
সাজিদ বলল-স্যার,বাই ডেফিনিশন, স্রষ্টার কোনো সৃষ্টিকর্তা থাকতে পারে না। যদি বলি “ক” সৃষ্টিকর্তাকে সৃষ্টি করেছে, তৎক্ষনাৎ প্রশ্ন উঠবে “ক” এ-র সৃষ্টিকর্তা কে?এভাবে চলতেই থাকবে।কোনো সমাধান পাওয়া যাবেনা।

লোকটি বলল -সমাধান আছে।
কী সেটা?
মেনে নেওয়া যায় যে স্রষ্টা নেই,ব্যস!,এটুকু বলে লোকটা আবার হাসি দিল।
সাজিদ আপত্তি জানালো।বলল-‘আপনি ভুল,স্যার।’
লোকটি চোখ কপালে তুলে বলল কি?আমি ভুল?
জি স্যার।

এভাবে কিছুক্ষণ পাল্টা জবাব একের পর এক চলতে থাকলো এবং শেষ পর্যন্ত সাজিদের যুক্তি হলো,

-স্যার,আপনার হাতে একটা বই দেখছি ওটা কি বই?
-এটা আনার লেখা বই :আমার অবিশ্বাস
-স্যার ওটা আমাকে দেবেন একটু?
-এই নে, ধর।
-সাজিদ বইটা হাতে নিয়ে উল্টালো।উল্টাতে উল্টাতে বলল-সয়ার এই বইয়ের কোন লাইনে আপনি আছেন?
-লোকটা ভ্রুর কুঁচকে বললো -‘মানে’?
-বলছি,এই বইয়ের কোন অধ্যায়ের,কোন পৃষ্ঠায়,কোন লাইনে আপনি আছেন?
-তুই অদ্ভুত কথা বলছিস।আমি বইয়ে থাকবো কেন?
-কেন থাকবেন না?আপনি এ-র স্রষ্টা না?
-হ্যাঁ
-এই বইটা কালি আর কাগজ দিয়ে তৈরি। আপনিও কি কালি আর কাগজ দিয়ে তৈরি,স্যর?
-খুবই স্টুপিডিটি টাইপ প্রশ্ন।আমি এই বইয়ের স্রষ্টা। এই বই তৈরির সংজ্ঞা দিয়ে কি আমাকে ব্যাখ্যা করা যাবে?
-সাজিদ আবার হেসে দিল।বলল-না,স্যার।এই বই তৈরির যে সংজ্ঞা,সে সংজ্ঞা দিয়ে মোটেও আপনাকে ব্যাখ্যা করা যাবেনা।ঠিক সেভাবে,এই মহাবিশ্ব যিনি সৃষ্টি করেছেন,তাঁকেও তাঁর সৃষ্টির Time-Space-Matter-Cause এসব দিয়ে ব্যাখ্যা করা যাবেনা।
অর্থাৎ তঁনি এসবের উর্ধ্বে। তাঁর কোনো Time-Space-Matter-Cause নেই।তাঁর কোনো শুরু-শেষ নেই।অর্থাৎ তাঁর কোনো সৃষ্টিকর্তা নেই।

লোকটা উঠে দাঁড়ালো।দাঁড়াতে দাঁড়াতে বলল-ভালো ব্রেইনওয়াশড!ভালো ব্রেইনওয়াশড!আমরা কি এই তরুন প্রজন্ম চেয়েছিলাম? হায়!আমরা কি এই তরুণ প্রজন্ম চেয়েছিলাম?

এটা বলতো বলতে লোকটা হাতটা ধরল।দেখতে দেখতেই উনি স্টেশনে মানুষের ভিড়েও মাঝে হারিয়ে গেলেন।

এরকম অনেক অনেক প্রশ্নের উত্তর আমরা বইটি পড়লেই জানতে পারবো।

বইটির কিছু উক্তি :
“আমরা বিজ্ঞান দিয়ে কুরআনে বিচার করিনা;বরং দিন শেষে বিজ্ঞানই কুরআনের সাথে এসে কাঁধে কাঁধ মেলায়।”

কম গতিশীল কোনো বস্তুতে সময় অধিক পরিমাণ দ্রুত চপল।আর যে বস্তু অধিক গতিতে চলে,তার সময়ও তুলনামূলক কলম গতিসম্পন্ন বস্তুর চেয়ে কম দ্রুত চলে।আর এটাকেই বলা হয় “Time Dilation.”

“একসময় যুবকেরা হিমু হতে চাইত।হলুদ পাঞ্জাবি গায়ে দিয়ে,মরুভূমিতে গর্ত খুঁড়ে জ্যোৎস্না দেখার স্বপ্ন দেখত।দেখিস,এমন একদিন আসবে যেদিন যুবকেরা সাজিদ হতে চাইবে।”

“প্যারাডক্সিক্যাল” নামটার মধ্যেই একটা রহস্য আছে।বইটি যারা পড়েননি তারা পড়লেই বুঝতে পারবেন বইটির ভেতর কতকিছু লুকানো আছে।

®রিদয়িনী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *