February 21, 2024

পিপীলিকার ডানা – সিদ্দিক আহমেদ

নাম: পিপীলিকার ডানা
লেখক: সিদ্দিক আহমেদ
জনরা: সামাজিক ক্রাইম থ্রিলার
প্রচ্ছদ: আয়ান এবং মাহাতাব রশীদ
প্রকাশনী: বাতিঘর
প্রথম প্রকাশ: জুন ২০২১
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৯২
মুদ্রিত মূল্য: ২২০/-

𝐿𝒾𝓀𝑒 𝒶𝓃 𝑜𝒸𝑒𝒶𝓃, 𝓁𝒾𝒻𝑒 𝒾𝓈 𝒹𝑒𝑒𝓅, 𝒷𝓊𝓉 𝓌𝑒 𝒶𝓇𝑒 𝒿𝓊𝓈𝓉 𝒻𝓁𝑜𝒶𝓉𝒾𝓃𝑔 𝑜𝓃 𝓉𝒽𝑒 𝓈𝓊𝓇𝒻𝒶𝒸𝑒.
— 𝑀𝒾𝒸𝒽𝒶𝑒𝓁 𝐵𝒶𝓈𝓈𝑒𝓎 𝒥𝑜𝒽𝓃𝓈𝑜𝓃

ছোট ছোট চাওয়াগুলোও যখন অসাধ্য হয়ে যায় তখন ❝আমি❞- নামক আমির মধ্যে অন্য ❝আমি❞- র আবির্ভাব হতে সময় লাগে না…

কাক ডাকা ভোরে সারাদিনের কাজ নিয়ে কতই না পরিকল্পনা থাকে। কিন্তু যদি সকাল শুরুই হয় রক্তাক্ত লাশ নিয়ে তখন…? হাফিজের জন্য অবশ্য নতুন কিছু না, পুলিশের চাকরিতে তো এসব ডালভাত। তবে প্রশ্ন হলো মার্কেট এলাকার মাঝে লাশ! দেখে মনে হয় খুন হয়েছে অন্য কোথাও কিন্তু লাশ ফেলে দিয়ে গেছে কেউ। কে? কেন?

ঘটনাস্থলের একমাত্র সাক্ষী কালাম ওরফে কানাফকির। যে চোখেই দেখে না সে আর কিইবা সাক্ষী দেবে? তথ্য মিলে সামান্যই। কিন্তু ফরেনসিক রিপোর্ট ঘুরিয়ে দেয় কেসের মোড়। গুলি করার পর শ্বাসরোধ করে মারা হয়েছে আব্দুর রহমান সাহেবকে! সাথের কয়েক লক্ষ টাকা আর সোনার আংটি উধাও। খুনের মোটিভ কী হতে পারে তা যেন গোলকধাঁধায় ফেলে দিয়েছে হাফিজকে। রহস্যের জাল ছাড়তে যেয়ে আরও ছোটোবড়ো অপরাধের জাল যেন জাপ্টে ধরে!

লাঠি-চশমা ছাড়া দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছে কানাফকির! তাহলে কেন করছে অন্ধত্বের অভিনয়? ছেলের জীবন বাঁচাতে যুদ্ধরত একজন বাবা হাশেম। কিন্তু কেন পালিয়ে বেড়াচ্ছে পুলিশ থেকে?

সামাজিক ঘরানায় লেখা ❝পিপীলিকার ডানা❞ সাথে যুক্ত হয়েছে ক্রাইম, মার্ডার মিস্ট্রি, কন্সপিরেসি। বইয়ের কেন্দ্রীয় চরিত্র তিনটি হাফিজ-কালাম-হাশেম, চরিত্রগুলোকে ঘিরেই ঘটতে থাকে ঘটনা। স্লো-মোশনে এগিয়েছে প্লট। লেখক একটু একটু করে যেন গেঁথেছেন চরিত্রগুলোকে। ঘটনা থেকেও বেশি হাইলাইট হয়েছে চরিত্রগুলো। চাওয়া-পাওয়ার হিসাব বড়োই অদ্ভুত সেইসাথে বদলে যায় ব্যক্তিত্বও। সব থাকার পরও শূন্যঘর হাফিজের, সন্তানের মুখ দেখতে চাওয়া ব্যাকুল মন কিন্তু সৃষ্টিকর্তার মর্জি বুঝা বড়ই মুশকিল। অন্যদিকে হাশেম একমাত্র ছেলেকে বাঁচাতে প্রতিনিয়তই যুদ্ধ করে চলেছে কিন্তু ভাগ্যসহায় হচ্ছে না কোনোমতেই। কালাম স্বপ্নের জগৎ গড়তে মরিয়া, স্বপ্ন পূরণে প্রবেশ করে নিষিদ্ধ জগতে। ভাগ্যের লীলাখেলায় ঘুণে ধরা চাকচিক্যময় ঢাকার তিনপ্রান্তের তিনজনের ভাগ্য গাঁথা হয়ে যায় একসূত্রে। চরিত্রগুলোর সাইকোলজিক্যাল টার্ম ফুটে উঠেছে ভালোমতোই।

শুরু যদিও একটা খুনের রহস্য দিয়ে কিন্তু আরও অপরাধের সন্ধান মেলে। একটা অপরাধ লুকাতে অন্য অপরাধ তারপর আরও সাথে ষড়যন্ত্র। কে আসল খলনায়ক আর কে নায়ক এটা বলা মুশকিলই বটে। লেখক চরিত্রগুলোকে এমন করে গড়েছেন যেন ভালোমন্দের উর্ধ্বে কেউই নয়। প্রাধান্য পেয়েছে প্রতিটি চরিত্রই, নিজস্ব জীবনে তারা একই সাথে নায়ক তো খলনায়কও। তবে শেষ অংশে হাফিজের ঘটনাটা যুক্তিসঙ্গত মনে হয়নি। টুইস্টের পরিমাণ বাড়াতেই যেন লেখক জোর করে ঘটনাটা ঢুকিয়ে দিয়েছেন। পুলিশি প্রসিডিওর হালকা ধাঁচে দেখানো হয়েছে। কাকতালীয়ভাবেই যেন চরিত্রগুলো বারবার একসাথে কানেক্ট হয়ে যাচ্ছে। তবে সমাপ্তি হৃদয়গ্রাহী। থ্রিলের পরিমাণ কম হলেও ঘটনা প্রবাহ কম ছিল না। ইতি টানার স্টাইলটা দারুণ, বহুদিন মনে রাখার মতো।

বইয়ের চরিত্রগুলোর নাম প্রায় কাছাকাছি হাফিজ, হাশেম, কাশেম, কালাম। বানান আর নামের ভুলের জন্য তালগোল পাকিয়ে যাচ্ছিল। তবে ভুলের পরিমাণ তুলনামূলক অল্পই বলা চলে। তবে সম্পাদনায় কিছুটা ঘাটতি আছে। ❝অদ্ভুত বের বুদ্ধি করেছিলেন।❞
এমন আরও কিছু লাইনে অসঙ্গতি রয়েছে। বিরামচিহ্নের ব্যবহারেও কিছু ত্রুটি আছে।

সচারাচর বাতিঘরের প্রোডাকশন যেমন এক্ষেত্রেও তেমন তাই নতুন কিছু বলার নেই। লাশ ফেলে যাওয়া নিস্তব্ধ শহরের দৃশ্যই যেন ফুটে উঠেছে প্রচ্ছদে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *