February 25, 2024

পার্মানেন্ট রেকর্ড – এডওয়ার্ড স্নোডেন

 

♦️বইয়ের নামঃ পার্মানেন্ট রেকর্ড
♦️লেখকঃ এডওয়ার্ড স্নোডেন
♦️অনুবাদকঃ মাহজাবীন খান
♦️প্রকাশনীঃ প্রজন্ম পাবলিকেশন
♦️জনরাঃ আত্মজীবনী
♦️প্রচ্ছদ মূল্যঃ ৩৫০/-

এডওয়ার্ড স্নোডেন, দু হাজার তেরো সালের বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত ব্যাক্তিত্ব। আমরা তখন স্কুলে পড়তাম, ছিলাম পড়াশোনা আর বিনোদন মিডিয়া নিয়ে ব্যস্ত থাকা রেগুলার টিনেইজ। তবে পেপারের ফ্রন্ট পেইজে দেখতাম সবসময় এই মানুষটাকে নিয়ে কিছু না কিছু লিখা হচ্ছেই। টেলিভিশনে দেখতাম ওবামা বলছে; “I’m not going to be scrambling jets to get a 29-year-old hacker”. কৌতুহলবশত এতোটুকু শুধু জেনে নিয়েছিলাম, সে ইন্টারনেট সম্পর্কে এমেরিকান গভর্নমেন্টের কোন একটা সিরিয়াস সিক্রেট লিক করে দিয়েছে।

তারপর অনেক বছর চলে যায়। বিশ্বব্যবস্থায় বহু উত্থান-পতন হয়। প্রযুক্তির দুনিয়ায় আসে বহুল পরিবর্তন। স্নোডেন নিজের সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতে নিয়ে আসে ‘Permanent Record’ বই,২০১৯ সালে। ২০২০ সালের বইমেলায় যেটির বাংলা অনুবাদ প্রকাশিত হয়।

বাবা ইউএস কোস্টগার্ড এয়ারক্রাফটের সিভিল সার্জেন্ট হওয়ার সুবাদে ছেলেবেলাতেই কম্পিউটার আর ইন্টারনেটের সাথে সখ্য গড়ে তোলার সুযোগ হয় স্নোডেনের। ‘পার্মানেন্ট রেকর্ড’ বইয়ে ইন্টারনেট জীবনের বর্ণনা দিতে গিয়ে সে তুলে ধরেছে তার পরিবার, পড়াশোনা এমনকি শৈশব,কৈশোরের প্রথম হ্যাকিং ও! তুখোড় মেধাবী এই তরুণ ৯/১১-র পর অনেক বেশি ভাবুক হয়ে পড়ে। নিজের দেশ এমেরিকার জন্য কিছু করার তীব্র অভিপ্রায় মাত্র ২০ বছর বয়সে তাকে ইউএস সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে উদ্বুদ্ধ করে। সেখানে তেমন সুবিধা করা সম্ভব হয়নি বিধায় সে তার প্রযুক্তিগত মেধা দিয়ে দেশের সেবা করার সিদ্ধান্ত নেয় এবং জায়গা করে নেয় CIA, NSA এর মত ওয়ার্ল্ডের টপ কন্ট্রোলিং এজেন্সিতে। কিন্তু এরপরই ঘটে চমক। বিশ্বের সবচেয়ে সংবেদনশীল সিক্রেট সেক্টরে কাজ করার সময় সে এমন সিক্রেট খুঁজে পায়; যা দেশের প্রতি,দেশের সরকারের প্রতি তাকে করে তোলে বীতশ্রদ্ধ। স্নোডেনের তখন কিছুরই কমতি নেই। বয়স পঁচিশের মাঝেই ভালো বাড়ি, গাড়ি, ভালোবাসা – সবই তার হাতের মুঠোয়। তার কাজের ক্ষেত্র ছিল এমন বিষয় নিয়ে, যা পড়তে পারার অনুমতি পুরো বিশ্বের মাত্র ডজনখানিক মানুষের ছিল। এতোকিছুর পর ও সে গা ভাসিয়ে দিতে পারেনি। প্রযুক্তির উদ্ভাবনের সাথে সাথে আইনের প্রয়োগের অভাব দিন দিন তাকে চিন্তাগ্রস্ত করে তোলে। নিরাপত্তার নামে প্রযুক্তিকে ব্যবহার করে এমেরিকান সরকারের ‘নোংরা গোপন নজরদারি’ ব্যাবস্থাটার সাথে সে কিছুতেই একমত হতে পারেনি। সে আরো আবিষ্কার করে সন্ত্রাসবাদ দমনের নামে এমেরিকা কিভাবে রাজনৈতিক সন্ত্রাসবাদের জন্ম দেয় আর নিজেদের ক্ষমতাকে শক্তিশালী করার পায়তারা করে। অতএব সে সিদ্ধান্ত নেয় সত্য পুরোপুরি জানার আর জানানোর, যার ফলশ্রুতিতে তাকে অর্জন করতে হয় অনিশ্চিত নির্বাসনের জীবন।
এ সব কিছুই গুছিয়ে বর্ণনা করা হয়েছে ‘পার্মানেন্ট রেকর্ড’ বইটিতে, এডওয়ার্ড স্নোডেনের জবানীতে।

বইটি পড়তে গিয়ে একজন সৎ, মেধাবী সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার স্নোডেনের পাশাপাশি এক দুর্দান্ত লেখক স্নোডেনের সাথেও আপনাদের পরিচয় ঘটবে। ব্যক্তিগত ঘটনার মজাদার বর্ণনা, কর্মক্ষেত্রের সাথে ইতিহাস যোগ করে আলাপ আর টেকনোলজির বিষয়গুলোর পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ বইটিকে এক দারুণ পাঠ্য হিসেবে উপস্থাপন করেছে। এই বইয়ের মাধ্যমে অনেক অজানা বিষয় স্নোডেন বিশ্বকে জানিয়েছে আর আমাদের করে তুলেছে তার প্রতি অনেক কৃতজ্ঞ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *