February 26, 2024

পারফিউম (একজন খুনির গল্প) -প্যট্রিক সাসকিন্ড | Perfume Bangla Anubad

বইয়ের নামঃ পারফিউম (একজন খুনির গল্প)।

বইয়ের লেখকঃ প্যট্রিক সাসকিন্ড।

ভাবানুবাদঃ পায়েল মন্ডল।

প্রযোজনায়ঃ নট ফর সেল ক্লাব।

বই নিয়ে কিছু কথা

জার্মান লেখক প্যট্রিক সাসকিন্ডের উপন্যাস, “পারফিউম: দ্য স্টোরি অফ আ মার্ডার,”। সর্বপ্রথম বলতে চাই এটি নিশ্চিতভাবে একটি সর্বোচ্চ পর্যায়ের অধিক জনপ্রিয় উপন্যাস। সুনিশ্চিতভাবে সাসকিন্ডের সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা এই আখ্যানটি প্রতিটি পাঠকের কল্পনাকে উত্তেজিত করেতে এবং ইন্দ্রিয়কে প্রসারিত করতে বাধ্য।

পাঠকদের উদ্দেশ্যে কিছু কথা

উপন্যাস “পারফিউম”, নামটা শোনার সাথে সাথে পাঠক ভেবে বসতে পারেন,এটা হয়তো কোনো সুগন্ধি নিয়ে লেখা।কিন্তু উপন্যাসটির প্রতিটি পর্যায়েই পাঠকের চিন্তাকে ভুল বিবেচনা করে এগিয়ে যাবে উপন্যাসটির প্রতিটি ঘটনা,প্রতিটি মূহুর্ত,প্রতিটা কাহিনী। এটি একটি ভয়ঙ্কর পরীক্ষাকে উস্কে দেয় লেখক যখন একজন ব্যক্তির তার সর্বশ্রেষ্ঠ আবেগকে তার ঘ্রাণের অনুভূতি দ্বারা হত্যার দিকে প্ররোচিত করে।

বইয়ের সম্পর্কে

“পারফিউম” উপন্যাসটিকে একটি হত্যা রহস্য বা সাসপেন্স থ্রিলার থেকে অনেক বেশিই বলা যায়।যা রচিত হয়েছে একটি অসাধারণ গল্প নিয়ে।

বইয়ের মূলভাব

উপন্যাসটির প্রধান চরিত্র জিন-ব্যাপটিস্ট গ্রেনোইল নামক একটা বালক যে 18 শতকের প্যারিসের সবচেয়ে নোংরা, দুর্গন্ধযুক্ত বাজারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। সম্ভবত এটাকে সমস্ত ফ্রান্সের সবচেয়ে খারাপ জায়গাও বলা চলে।যদিও আমরা জানি গন্ধ আমাদের একটি মারাত্মক রকমের ভালো অথবা খারাপ লাগার অনুভূতির সচ্চার করে কিন্তু বালকটির নিজের গায়ের কোনো গন্ধ ছাড়াই জন্মগ্রহণ করে।

শৈশবে যখন গ্রাম্যপ্রকৃতির আলোবাতাস পূর্ণ সময়টা উপভোগ করতাম,ছিলো বিশাল ধানের ক্ষেত,সেখানে মাতাল করা হাওয়া বয়ে যেত,বুক পেতে দীর্ঘনিঃশ্বাস নেওয়ার মতো। ভোরের আলোয় উজ্জ্বল হয়ে উঠতো প্রকৃতি।বাড়ির বাইরে প্রধান ফটকের দুইপাশের বেলী ও শিউলী ফুলের গাছ যেন পুরো বাড়িটাকে গন্ধে মাতিয়ে রাখার দায়িত্ব নিতো।এটা যেন একটা নেশার মতো ছিলো। আমার মনে আছে,বৃষ্টি হলে পচা ডোবা থেকেও যেন গন্ধের আরেকটা রুপ বের হয়ে আসতো।

সুগন্ধীপ্রেমী আমরা সকল ঘ্রাণের অভিজ্ঞতায় নিতে পারবো নিশ্চয়ই কিন্তু পারফিউম বইটি বইপ্রেমীদের জন্যে পারফিউমের শ্রেণিতেই নিয়ে যাবে না কিছুটা আলাদা রকমের গন্ধ দিয়ে ভড়িয়ে দিবে প্রতিটি পাঠকের অন্তর।আবার বিষন্নতায়ও ভরিয়ে দিবে জিন-ব্যাপটিস্ট গ্রেনোইল এর একের পর এক সীমালঙ্ঘনকারী নিষ্ঠুর নৃশংসতার জন্য।

গ্রেনোইল নিজেই জানতো যে সে স্বাভাবিক ছিলো না। সে তার প্রথম হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছিলো, একজন কুমারীর ঘ্রাণের প্রতি ভালোবাসাকে উদ্দেশ্য করে।এভাবে একটা সময়ে তার প্রধান লক্ষ্য হয়ে দাড়ালো যে একজন জীবন্ত মানুষের ঘ্রাণ যা তাকে তার সর্বোচ্চ স্মৃতিকে অবশ্যই স্থায়ী করে রাখবে। যেভাবে একজন ফুলপ্রেমী মানুষ যিনি বইয়ের মধ্যে অথবা স্মৃতির কোনো ছেড়া পাতার মধ্যে একটি ফুলের নমুনাকে শুকিয়ে রাখে।ঠিক সেভাবেই সে মানুষের দেহের এ সুগন্ধিকে মজুত করে রাখতে চেয়েছে। মরিয়া হয়ে উঠা তার এই অনুসন্ধান যা তাকে বারবার হত্যার দিকে পরিচালিত করেছিলো।

বই সম্পর্কে নিজস্ব মতামত

এই বইটির ভুমিকা যেভাবে দেওয়া তাতে হয়তো পাঠকের মনে হবে না আসলে বইটির মধ্যে কি রহস্য লুকায়িত আছে। বইটির সম্পর্কে আপনাকে জানতে হলে, রহস্য উদঘাটন করতে হলে, বিন্দুমাত্র সময় অপচয় না করে বইটি নিয়ে বসে পড়ুন আর জেনে নিন আপনার অন্তরে থাকা হাজারটা না জানা প্রশ্নের উত্তর।।

রেটিংঃ ১০/১০

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *