February 27, 2024

নীলডুমুর – Kingkor Ahsan

 

বইয়ের নামঃ নীলডুমুর
লেখকঃ Kingkor Ahsan
প্রকাশনীঃ জ্ঞানকোষ।
প্রকাশকালঃ ফেব্রুয়ারি, ২০২২
মুদ্রিত মূল্যঃ ৪০০/=
জনরাঃ ফিকশন- উপন্যাস

“রাতভর বৃষ্টির মতো কুয়াশা যায় ঝরে,
চশমার কাচ, ঝাপসা চোখ, তোমার অধরে,
আমি শীত হয়ে নামি, ভেজাই শীতলপাটি ঘাস,
কেন পালাও রোদ হয়ে?
জেনে যাও ঠিক আবহাওয়ার পূর্বাভাস!”

এরকম ছোট্ট একটি কবিতা দিয়ে বইটি শুরু৷ মজার ব্যাপার হলো, পুরো বইটা পড়লে খেয়াল করবেন একেকটা পার্ট শুরু হওয়ার শুরুতে এরকম ছোট ছোট কবিতা লেখক পুরো বইটাতেই জুড়ে দিয়েছেন এবং অসাধারণ সে সকল কবিতাগুলো।।।

গল্পটি লেখক তার এক বন্ধুর কাছ থেকে পেয়েছেন। অনেকদিন না লিখতে লিখতে লেখায় জং ধরে গিয়েছিল। এদিকে প্রকাশকের চাপে লেখতে বাধ্য হওয়ায় নিজের বন্ধুর জীবনের গল্পের রেশ টুকু নিয়ে আত্মজৈবনিক ভাষায় পুরো উপন্যাসটি লিখেছেন। পাঠকদের কাছ লেখক প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন। ‘এটা কি আত্মজীবনী ধরনের কিছু?’ লেখক তার খোলাসা করেন নি।

অবশ্য আমার পড়তে গিয়ে বারবার কেবলই মনে হচ্ছিলো লেখকের নিজের জীবনের গল্প এটা। লেখকদের লেখার বোধ করি, এই জায়গা টাতেই স্বার্থকতা। জীবনের গল্প নিয়ে, জীবন থেকে নেয়া টুকরো টুকরো মুহূর্ত গুলো নিয়ে এক সুতোয় বেধে উপন্যাসের একটা বেড়াজাল তৈরী করে ফেলা যেটা পুরোপুরি সত্যি বলে পাঠক রা দ্বিধাদ্বন্দে ভোগে। হয়তো তার কিছুটা সত্য কিছুটা বানোয়াট৷ সে যাক! এ প্রসঙ্গ থেকে এবার বেরিয়ে আসা প্রয়োজন।

গল্পকথক একজন লেখক। কোন এক উৎসবের দিনে সে তার বাবা-মা, স্ত্রী সোমার সাথে রাগারাগি করে বাসা থেকে বেরিয়ে যায় এবং অনুভব করে পৃথিবীতে সে ভীষণ একা। পথে এক রেস্টুরেন্টে আচমকাই দেখা হয়ে যায় পরিচিত এক বড় ভাইয়ের সাথে। সে তাকে তার বাসায় নিয়ে যায়৷ অতঃপর তিনি সেই লেখককে তার গ্রামের বাড়ি থেকে কয়েকদিনের জন্যে বেড়াতে যাওয়ার প্রস্তাব দেয় এবং কোথায় যাবে, থাকবে সকল কিছুর ব্যবস্থা করে দেয়। গল্পকথক ও আর কিছু না ভেবে গ্রামের পথে রওনা দেয়।

সেই গ্রামে এসে তার প্রাক্তন নেহা মেহতার স্মৃতিচারণ এবং জীবনে ঘটে যাওয়া নানান রকম ঘটনা, দার্জিলিং এর স্মৃতি গুলো মনে করতে থাকে এবং সেগুলো নিয়ে লিখতে থাকে লেখক। এদিকে সেখানে পৌছানোর পর ঘটতে থাকে আচমকাই অদ্ভুত কিছু ঘটনা। তাকে দেখাশোনা করার জন্যে বলা হয়েছে যে মেয়েটিকে, সে কীভাবে যেন তার অতীতের অনেক কিছু জানে এবং চেহারাটাও তার পরিচিত মনে হয়। কিন্তু শিফা নামের এত অল্প বয়সী মেয়েটার সাথে তার আগে কখনো কোথাও দেখা হয়েছে বলে সে মনে করতে পারে না। লেখকের তখন আরো বেশ কিছু মানুষের সাথে পরিচিত হয়ে এমনকি তাদের সাথে হাত মিলিয়ে চাষাবাদ পর্যন্ত শুরু করে দেয়। কিন্তু তার রহস্যের খোলাসা হয় একদম শেষে গিয়ে৷ অতীতে করা কিছু ভুলের মাশুল তাকে দিতে হয় এবং সেই মুহুর্ত টা যেন গল্পকথকের ভিতরটা দুমরে মুচরে যেতে থাকে।

কি সেই ঘটনা? যার জন্যে লেখকের শেষে এহেন অবস্থার সম্মুখীন হতে হয়? জানতে হলে আপনাকে পুরো বইটা পড়ে ফেলতে হবে….

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *