February 26, 2024

নিশীথিনী – হুমায়ূন আহমেদ

বইঃ নিশীথিনী
লেখকঃহুমায়ূন আহমেদ
প্রকাশকালঃ১৯৮৭
পৃষ্টাঃ১০১


নিশীথিনী দেবী’র দ্বিতীয় পর্ব।হুমায়ূন আহমেদের যুক্তিবাদী লেখার একটি এই বই।বইয়ের প্রধান চরিত্র মিসির আলী।যিনি বিশ্বাস করেন পৃথিবীতে কোন রহস্য থাকতে পারেনা।
গল্পের প্রথমদিকেই ভার্সিটির ক্লাসে নীলুর সাথে দেখা মিসির আলীর।যে দেখতে দেবী গল্পের রানুর চরিত্রের মত।তার কথাবার্তা, চালচলন,আচড়ন অবিকল রানুর মত।


অন্যদিকে ফিরোজ নামের এক অসুস্থ মানুষের মানসিক চিকিৎসা করছেন মিসির আলী।প্রায় এক বছর ধরে ফিরোজের চিকিৎসা করছেন তিনি।প্রতি সপ্তাহে একদিন তিনি ফিরোজের সাথে সেশনে বসেন।একদিন তিনি বাসায় ফিরার আগেই ফিরোজ তার বাসায় চলে আসে।মিসির আলি বাসায় ফিরে দেখেন যে ফিরোজ রড হাতে তার কাজের মেয়ে হানিফা কে মারতে গিয়েছিলো।রহস্য সেখান থেকেই জট পাকাতে শুরু করে।


ফিরোজের ভয়ানক আচড়নে ভয় পেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে হানিফা।এক পর্যায়ে মিসির আলি অনুভব করেন হানিফা কোন বড়লোক পরিবারের মেয়ে। তিনি হানিফাকে চিকিৎসার জন্য পিজি হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে দেন এবং তার পরিচয়ের সন্ধান করতে তার পুলিশ বন্ধু সাজ্জাদের সাথে দেখা করেন।
ফিরোজের রহস্যের ঝট খুলতে তিনি ছুটে যান ফিরোজের বন্ধু আজমলের জমিদারবাড়িতে।সেখানে আজমলের বোন নাজনীন একদিন তাদের জমিদারবাড়ির পুরোনো ছবি দেখাতে নিয়ে যায় মিসির আলিকে।যেখানে তিনি একটি ছবি দেখে অবাক হন।আজমলের দাদার বাবা একটি কালো প্যান্ট এবং গোল্ড রিমের চশমা পড়ে একটি ঘোড়াতে বসে আছে।ঘটনাক্রমে তিনি জানতে পারেন তার অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে গ্রামের প্রজারা একদিন তাকে রড দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে।


অন্যদিকে শহরে এক নতুন ত্রাসের সৃষ্টি হয়।এক নগ্নপাত্র কালো প্যান্ট পড়ে,লোহার রড হাতে প্রায় প্রতি রাতেই শহরে হামলা চালায়।কে এই অগ্যাত নগ্নপাত্র?
এদিকে নীলুর মাঝে বেশ পরিবর্তন দেখতে পায় মিসির আলী ও নীলুর বাবা জাহিদ সাহেব।


নীলু আগে থেকেই ভবিষ্যৎ বলতে পারে।এমনকি মিসির আলীর বেলায় ও সে ভবিষ্যৎ বলতে পারে!নীলু বিশ্বাস করে তার মাঝে একজন দেবী আছে যে কিনা রানুর মাঝেও ছিলো।কিন্তু মিসির আলী তা মানতে নারাজ।


একদিন নীলু মিসির আলীকে জানায় হানিফার আসল নাম “ইমা”।কি সম্পর্ক হানিফার সাথে নীলুর?
নীলু মিসির আলীকে জানায় ফিরোজ মিসির আলীকে মেরে ফেলার চেষ্টা করবে।কিন্তু ফিরোজ অসুস্থ থাকায় তাকে তালাবন্ধি করে রাখা হয়েছে।তাহলে সে কিভাবে মিসির আলীকে খুন করবে?
তবে কি সেই নগ্নপাত্রের সাথে ফিরোজের কোন মিল রয়েছে?
মিসির আলীকে নীলু জানায় দেবী তাকে ভবিষ্যৎ জানতে সাহায্য করে।কিন্তু মিসির আলী মনে করেন দেবী চরিত্রটি নীলুর হেলুশিনেসন।


শেষ অবধী নীলু কি তার রহস্যময় জীবন থেকে সুস্থ জীবনে ফিরতে পারবে?
পরিশিষ্ট
সত্যি নগ্নপাত্র মিসির আলীকে খুন করার চেষ্টা চালায়।কিন্তু তাকে বাঁ চায় দেবী।এবং শেষ অবধি দেবী মিসির আলীকে জানায় নীলুর সাথে একদিন মিসির আলীর বিয়ে হবে!
মিসির আলী কি সত্যি দেবী রহস্যের সমাধান করতে পারে?
হানিফার পরিচয় কি?
ফিরোজ কে কি সুস্থ করে তুলতে পারেন মিসির আলী?
সব জানার জন্য রুদ্ধশ্বাস উপন্যাস নিশীথিনী বইটি পড়ার আহ্বান জানাই।


কিছু কথাঃ প্রিয় লেখক হুমায়ূন আহমেদের লজিক্যাল সৃষ্টি মিসির আলী।লজিকবিহীন চরিত্র হিমুর মতই লজিক্যাল চরিত্র মিসির আলীকেও বরাবরই আমার রহস্যময় মনে হয়।উপন্যাসে বিশেষ সময়ে মিসির আলীর রসিকতা বরাবরেই মতই পাঠককে আনন্দ দেবে।
রহস্য আর যুক্তিতে নির্ভর উপন্যাসটি পড়ার আমন্ত্রন রইলো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *