February 25, 2024

দ্য মাস্ক অফ দ্য রেড ডেথ মূল- এডগার অ্যালান পো

  • দ্য মাস্ক অফ দ্য রেড ডেথ
  • মূল- এডগার অ্যালান পো
  • অনুবাদ- জাকিয়া তাসনীম মুন
  • এইচআর ম্যানেজার,

এটা রাজপুত্রের নির্জনবাসের পঞ্চম বা ষষ্ঠমাসের শেষের দিকে, এবং যখন মহামারী চতুর্দিকে ব্যাপকহারে হানা দিয়েছে, রাজকুমার প্রসপেরো তার সহস্র বন্ধুকে সবচাইতে অসাধারণ আড়ম্বরতায় একটি মাস্কড বল অনুষ্ঠানে আপ্যায়িত করলেন।


এটি ছিল অত্যন্ত বিলাসবহুল, ওই মাসকুয়েরেড বলনাচ। কিন্তু প্রথমে আমাকে যেসব কক্ষগুলোতে মাসকুয়েরেড হয়েছিল সেসব সম্পর্কে বলতে দিন। মোট সাতটি স্বাধীন কক্ষ ছিল। অনেক প্রাসাদে, যাইহোক, এইসব কক্ষ একটি লম্বা এবং সোজা লাইন তৈরি করে, যেখানে ভেজিয়ে রাখা দরজাগুলো দেয়াল ঘেঁষে মসৃণভাবে এগোনো, যাতে প্রাসাদের সৌন্দর্য ব্যাপকভাবে বিঘ্নিত না হয়। এখানে বিষয়টি ভিন্ন, অবশ্য ডিউকের অদ্ভুত পছন্দ থেকে আর কিই বা আশা করা যেতে পারে।


কক্ষগুলো এতটাই অনিয়মিতভাবে সাজানো ছিল যে দৃষ্টি এক সময়ে একবারের বেশি কিছুই দেখতে পায় না। প্রত্যেক বিশ বা ত্রিশ গজের পরে স্পষ্ট মোড় ছিল, আর প্রত্যেক মোড়ে ছিল নব্য ফলাফল। ডানে আর বামে, প্রত্যেক দেয়ালের মাঝে, একটি লম্বা এবং সংকীর্ণ ‘গোথিক’ জানালা একটি বন্ধ গলির দিকে মুখ করানো ছিল যার মাধ্যমে কক্ষে বাতাস প্রবাহিত হতো। জানালাগুলো ছিল রঙিন কাঁচের, যেগুলোর রঙ জানালাগুলোর কক্ষের রং অনুযায়ী ভিন্নতা দেখাত।


পূর্বের প্রান্তসীমা, উদাহরণস্বরূপ- নীল ছিল, এবং এর জানালাগুলো প্রাণবন্তভাবে নীল রঙের ছিল। দ্বিতীয় কক্ষের অলংকার এবং পর্দার কাপড়গুলি গাঢ় বেগুনি ছিল, এবং তাই ওই কক্ষের শার্সি ছিল টকটকে বেগুনি রঙয়ের। তৃতীয়টি আগাগোড়াই ছিল সবুজ, এবং এর গরাদবিহীন জানালাগুলো ছিল ও তাই।


চতুর্থটি সাজানো ও আলোকসজ্জা করা হয়েছিল কমলা দিয়ে- পঞ্চমটি সাদা- ষষ্ঠটি হালকা বেগুনি দিয়ে। সপ্তম কক্ষটি ঘনিষ্ঠভাবে আবৃত ছিল কালো ভেলভেট পর্দার কাপড় দিয়ে যা পুরো ছাদ এবং দেয়াল থেকে ঝুলছিলো- ভারী ভাঁজে একই রঙের, একই কাপড়ের কার্পেটে পড়ে। কিন্তু শুধুমাত্র এই কক্ষে শার্সির রঙ কক্ষসজ্জার সাথে মিল রাখতে ব্যর্থ হয়েছিলো। এখানে শার্সির রঙ ছিল রক্তবর্ণ- গাঢ় টকটকে রক্তের রঙ।


এখন সাতটি কক্ষের কোনোটিতেই কক্ষের এখানে সেখানে ছড়িয়ে থাকা বা ছাদ থেকে ঝুলতে থাকা সোনার অলংকারের মধ্যে কোনো প্রদীপ বা ঝাড়বাতি ছিল না। কক্ষগুলোতে কোনো ধরণের প্রদীপ বা মোম থেকে আলো আসতো না। কিন্তু কক্ষগুলোর সামনের গলিতে, প্রত্যেক জানালার বিপরীতে, একটি ভারী তেপায়া ছিল, যা আগুনের ধাতুপাত্র বহন করত, যা কাঁচের রঙিন শার্সির মধ্য দিয়ে রশ্মি ছড়াতো, এবং তীব্রভাবে কক্ষগুলোকে আলোকিত করত।


এবং এভাবেই বহু মাত্রার জাঁকালো এবং চমৎকার দৃশ্য তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু পশ্চিম কোণে অর্থাৎ কালো কক্ষে আগুনের রশ্মি রক্তরঞ্জিত শার্সির মধ্য দিয়ে যে অন্ধকারের মধ্যে দিয়ে আসতো তা ছিল চরমভাবে বিবর্ণ, এবং এত ভয়ানক দৃশ্য উৎপন্ন করত যা কক্ষে প্রবেশকারী ব্যক্তিদের চোখেমুখে ফুটে উঠত, এবং হাতেগোনা কয়েকজনই ছিল সাহসী যারা এই কক্ষের ত্রিসীমানায় পা রাখতে পারতো। এই কক্ষের পশ্চিম দেয়ালের বিপরীতে ছিল কাঠের তৈরি এক বিশালাকৃতির ঘড়ি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *