February 25, 2024

দূরে কোথাও বইয়ের – হুমায়ূন আহমেদ

বইয়ের নামঃ দূরে কোথাও
বইয়ের লেখকঃ হুমায়ূন আহমেদ
প্রকাশিত সালঃ ১৯৯৭

ভূমিকা
উপন্যাসটি দৈনিক বাংলায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়। দৈনিক কাগজে প্রকাশিত উপন্যাস কেউ পড়েন বলে আমার ধারণা ছিল না। কাজেই যা মনে আসত লিখে ফেলতাম। বুধবারে কপি দিতে হয়, আমি শেষ মুহূর্তে (মঙ্গলবার) কাগজ কলম নিয়ে বসতাম-যেভাবেই হোক ন’টি স্লীপ লিখে ফেলতে হবে। কাহিনী কোথায় যাবে এ নিয়ে ভাববার সময় নেই। এক সময় অবাক হয়ে লক্ষ্য করলাম এই উপন্যাসে আমি নিজের কথাই বলতে শুরু করেছি। সব লেখাতেই লেখক খানিকটা ধরা দেন কিন্তু এরকম নির্লজ্জভাবে দেন না। বই আকারে লেখাটি প্রকাশ করবার সময় তাই খানিকটা অস্বস্তি বোধ করছি।

সে-সব পাঠক-পাঠিকা খবরের কাগজে ‘দূরে কোথায়’ প্রথম পড়েছেন তাঁদেরকে বিনীতভাবে বলতে চাই বইয়ের কাহিনী কাগজে প্রকাশিত কাহিনীর চেয়ে অনেকখানিই আলাদা। অনেক অংশই নতুন করে লিখেছি, প্রচুর কাটছাঁট করেছি তবু মনে হচ্ছে আরেকবার যদি গোড়া থেকে লিখতে পারতাম ভাল হত।
হুমায়ূন আহমেদ

ওসমান সাহেব একজন উঁচুদরের বিখ্যাত লেখক এবং একই সাথে ব্যর্থ সংসার জীবনে। বউ তাকে ছেড়ে সেপারেশনে আছে। সেই সাথে ওসমান সাহেবও অনেকদিন হল কিছু লিখতে পারছেন না। তার উপরে আছে দারোগা টাইপের বাপ আর আধাপাগল বোন। সব মিলায়ে হচপচ ব্যাপার। বাবা মারা যাওয়ার পরে সবকিছু ফেলে চলে গেলেন নির্বাসনে, নিজের গ্রামের বাড়ীতে। কারণ কি??? উনি লিখতে পারছেন নাহ। রাইটারস ব্লকে আছেন। ওহ, ওসমান সাহেবের একটা পুত্রসন্তান ও আছে যার প্রতি তার খুব একটা টান আছে কি নাই বুঝা যাচ্ছে নাহ। এখন এইসব মানুষকে নিয়েই গল্পটা বোনা হয়েছে।
আমার কাছে ভালই লেগেছে। এর কারণ হিসেবে বলা যায় ওসমান সাহেবের মধ্যে মিসির আলী ভাব আছে। মিসির আলী আমার খুব প্রিয় ক্যারেকটার। লজিকাল রিজনিংগুলা মনে দাগ কেটে যায় অনেক। আরেকটা কথা হচ্ছে লেখক নিজের জীবনের অনেক অভিজ্ঞতার আলোকে বইটা লিখেছেন। নিজের পারশেপ্সনে দেখা জগতটাকে ওসমান সাহেবের মধ্যে তুলে দিয়েছেন। সেক্ষত্রে ওসমান সাহেব যেমন সন্ন্যাসী টাইপ লোক, লেখক কি তাই? কে জানে।

তেমন কোনো আহামরি কাহিনী না। খুবই সাধারণ। তবে কিছু কিছু জায়গায় মনের ওপর হালকা চাপ পড়েছে। হুমায়ুন আহমেদের লেখা বলে কথা! চাপ তো একটু পড়বেই।
গল্পের মিলির জন্য খুব মায়া লেগেছে। জানি না কেন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *