February 26, 2024

তাকওয়ার চার স্তর

তাকওয়ার চার স্তর—
এ ক্ষেত্রে জেনে রাখা দরকার যে, তাকওয়া বা পরহেযগারীর চারটি স্তর আছে—
🟨 প্রথম স্তর : যে সকল বস্তু হারাম হওয়ার ফতওয়া দেওয়া হয় সেগুলো থেকে বিরত থাকা। এর বিবরণের জন্য কোনো উদাহরণ দেওয়ার প্রয়োজন নেই।
🟨 দ্বিতীয় স্তর : সন্দেহজনক বস্তু—যেগুলো বর্জন করা আবশ্যক নয়, তবে মুস্তাহাব—সেগুলো থেকে বিরত থাকা। সন্দেহজনক বস্তুর আলোচনায় এর বিবরণ আসবে। এ ব্যাপারে রাসূল সা. বলেন, ‘ যা তোমাকে সন্দিহান করে তা বর্জন করে যা সন্দিহান করে না সেই বস্তু গ্রহণ করো।’
🟨 তৃতীয় স্তর : হারামে লিপ্ত হবার ভয়ে কোনো কোনো হালাল বস্তু হতেও বিরত থাকা।
🟨 চতুর্থ স্তর : প্রত্যেক ঐ কাজ থেকে বিরত থাকা, যা আল্লাহ তাআলার জন্য করা হয় না। এটিই হচ্ছে সিদ্দীকীন তথা নেক বান্দাদের খোদাভীরুতা। এর উদাহরণ, ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া নিশাপুরী রাহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি একবার একটি ওষুধ পান করলেন। তখন তাঁর স্ত্রী তাঁকে বললেন, ‘আপনি বাড়িতে অল্প একটু হাঁটাহাঁটি করলে ওষুধ কাজ করা শুরু করবে।’ ইয়াহইয়া বললেন, ‘এই হাঁটার ব্যাপারে তো আমি জানি না (অর্থাৎ শরীয়তে এর কোনো ভিত্তি নেই)। অথচ আমি ৩০ বছর ধরে নিজের হিসাব নিচ্ছি।’ এখানে লক্ষ করুন, তিনি হাঁটার সাথে দ্বীনের কোনো সম্পৃক্ততা খুঁজে পাননি। তাই এতে অগ্রসর হননি। এটিই হচ্ছে সবচেয়ে সূক্ষ্ম এবং উঁচু পর্যায়ের খোদাভীরুতা।
এ ব্যাপারে অন্যভাবে বলা যায়, খোদাভীরুতার প্রাথমিক এবং চূড়ান্ত দুটি প্রান্তিক স্তর রয়েছে। আর এ দুটির মাঝে বেশ কিছু স্তর রয়েছে সতর্কতার। তাই মানুষ এ ব্যাপারে যতই কঠোর হবে, তত দ্রুতই সে সীরাতে মুস্তাকীম তথা সরল পথে হাঁটবে এবং তার বোঝা ততই হালকা হবে। খোদাভীরুতার স্তরের তারতম্যের অনুপাতেই আখিরাতে মানুষের মর্যাদার তারতম্য হবে। এমনিভাবে হারামের স্তরের তারতম্যের অনুপাতেই জাহান্নামের অন্ধকারের স্তরের তারতম্য হবে। তাই যদি চান, তবে অধিক পরিমাণে সতর্ক হোন। আর যদি চান তাহলে এ ব্যাপারে শিথিলতা প্রদর্শন করুন। সতর্কতা অবলম্বনে আপনার নিজেরই লাভ আর শিথিলতায় আপনার
নিজেরই ক্ষতি।
বই ” সংক্ষিপ্ত ইহইয়াউ উলূমিদ্দীন” থেকে
পৃষ্ঠা : ১৬৫

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *