February 27, 2024

চোখের বালি – শ্রী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

 

উপন্যাস: চোখের বালি
লেখক : শ্রী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৯২
মূল্য: ৩০০ টাকা

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লিখা গুলো সম্পর্কে বিশেষ করে কিছু বলতে হবে না । বই পড়ুয়া কিংবা বই না পড়ুয়ারাও উনার লিখা সম্পর্কে অবগত। উনার লিখা এককথায় অসাধারণ। চোখের বালিও তেমনি অসাধারন। চোখের বালি কম বেশি প্রায় সকলেই পড়েছেন। তবুও ছোট্ট করে বলে দিচ্ছি।
চোখের বালি উপন্যাসটি মূলত লিখা হয় বিনোদিনীকে কেন্দ্র করে, যে একজন বিধবা। তার রূপ, গুন, মনকাড়া ব্যাক্তিত্ব সম্পন্ন মনোভাব সকলকে মুগ্ধ করে। তার এই গুণের ফলস্বরূপ সবাইকে আগলে রাখতে পারে এবং বরাবরের মতোই সকলের প্রিয় পাত্র হিসেবে গণ্য হয়।
উপন্যাসের আরো কয়েকটি প্রধান চরিত্র গুলো হলো , ” মহেন্দ্র, বিহারী , আশালতা “। আশালতা মহেন্দ্রের স্ত্রী। তাদের মধ্যকার ভালোবাসা বিনোদিনীকে হিংসায় জালিয়ে পুড়তে থাকে। আশালতা ছিল অনভিজ্ঞ । তাই তার এই অনভিজ্ঞতার সুযোগ নিয়ে বিনোদিনী খেলার পুতুলের মতো তাকে ব্যাবহার করতে থাকে। অপরদিকে যে প্রেম ভালোবাসা থেকে বিনোদিনী বঞ্চিত হয়েছিল সে সেটা বিহারীর মাঝে খুঁজে পায়। কিন্তু তার সেই খেলার পুতুলের মতো স্বভাব চরিত্র বিহারীর অজানা নয়। তাই বিহারী তাকে দূরে ঠেলে দেয়। তার সেই বিহারীর কাছ হতে বঞ্চিত প্রেম সে মহেন্দ্রের কাছে খুঁজে বেড়ায়। কিন্তু মহেন্দ্রের কাছে প্রেম বলতে ছিল শুধু ভোগ। বিনোদিনী নিজের কৃতকর্মের ফলে ঘটে যাওয়া সকল কিছুর জন্যে নিজেকে ধিক্কার জানাতে থাকে। নিজের চারপাশে গড়ে তোলা মিথ্যা মায়া ও হিংসার দেয়ালে নিজেকে বন্দী বলে বোধ হতে থাকে তার। উপন্যাসের সমাপ্তিতে কি ঘটে সেটা জানতে হলে উপন্যাসটি পড়ে দেখতে হবে ।
উপন্যাসের ভালোলাগা কিছু লাইন :-
∆ ক্রুদ্ধা মধুকরী যাহাকে সম্মুখে পায় তাহাকেই দংশন করে, খুব্দা বিনোদিনী তেমনি তাহার চারিদিকের সমস্ত সংসারটাকে জালাইবার জন্য প্রস্তুত হইল।
∆ বিহারী অপরিসীম ঘৃণার সহিত তাকে ঠেলে দিয়ে চলে গেল। সেই আঘাতে বিনোদিনী যে পড়িয়া গেল তা সে জানিতে পারিল না। পতন শব্দ শুনিয়া মহেন্দ্র ছুটিয়া আছিল। দেখিল, বিনোদিনীর বাম হাতের কনুই এর কাছে কাটিয়া রক্ত পড়িতেছে।
মহেন্দ্র তৎক্ষণাৎ নিজের পাতলা জামা খানিকটা টানিয়া ছিরিয়া ক্ষত স্থানে ব্যান্ডেজ বা দিতে প্রস্তুত হইল।
বিনোদিনী কহিল, আমি ব্যথা সারাতে চাইনা, এই কাটা আমার থাক।
∆ বিষধর সাপের বিষ শরীরে প্রবেশ করলে পাঁচ মিনিটের মধ্যেই তার চরম ফল ফলিয়াছ শেষ হইতে পারে কিন্তু বিষ মনে প্রবেশ করলে মৃত্যুযন্ত্রণা আনে মৃত্যু- আনে না
∆ জগতে আমার ভালোবাসিবার এবং ভালোবাসা পাইবার কোন স্থান নাই। তাই আমি খেলা খেলিয়া ভালোবাসার খেদ মিটাইয়া থাকি।
∆ যাহারা পরমাত্মীয়, তাদের সঙ্গে সহজভাবে সম্বন্ধ দূর হইয়া গেলে তাহাদিগকে পরের মতো অনায়াসে ফেলিয়া দেওয়া যায় না, আবার প্রিয়জনের মতো অনায়াসে তাহাদিগকে গ্রহণ করা যায় না।
∆ মহেন্দ্র তাহাকে প্রণাম করিয়া কহিল, ” কাকিমা, আমি পাপিষ্ঠ, তোমাদের কাছে আসিতে আমার লজ্জা করে।”
অন্নপূর্ণা কহিলেন, ” ছি ছি , ও কথা বলিসনে মহিন- ছেলে ধুলা লইয়াও মার কোলে আসিয়া বসে ” ।
উপন্যাসের সবচেয়ে প্রিয় চরিত্রটি হলো: বিহারী

পার্সোনাল রেটিং : ৪.৮/৫

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *