February 25, 2024

গল্প ১০১ – সত্যজিৎ রায়

#বুক_রিভিউ

🛑 বইয়ের নাম : গল্প ১০১
🛑 লেখক : সত্যজিৎ রায়

সত্যজিৎ রায়ের সাথে পরিচয় “ফেলুদা একাদশ” দিয়ে । মনে আছে সমাদ্দারের চাবি আর ঘুরঘুটিয়ার ঘটনা গল্প দুটি ভীষণ ভালো লেগেছিল । এরপর ফেলুদা সমগ্র , শঙ্কু সমগ্র , তারিণীখুড়ো পড়ি । এই তিনটা চরিত্র সবচেয়ে জনপ্রিয় হলেও সত্যজিৎ রায়ের আসল মুন্সিয়ানার পরিচয় পাওয়া যায় তার গল্পে । ফেলুদা আর শঙ্কু বাদে তার বাকি সব গল্প , অনুবাদ , দুটি উপন্যাস আর একটি নাটকের সংকলনই হলো ” গল্প ১০১ ” ।

সত্যজিৎ রায়ের গল্পে কেউ যদি গুরুগম্ভীর তত্ত্ব খুঁজতে যান তাহলে হতাশ হবেন । তিনি গল্প লিখেছেন শুধুই আনন্দ দিতে ,তার গল্পগুলো বাস্তবতা থেকে পালানোর পথ । আশ্চর্য সহজ সরল মনোমুগ্ধকর লেখা এবং কাহিনী । বেশিরভাগ গল্পের শেষে থাকে টুইস্ট বা পাঞ্চ লাইন যা গল্পের মোড় ঘুরিয়ে দেয় । আমার বেশি ভালো লাগে বিষয়বস্তুর বৈচিত্র্য । কত কিছু নিয়ে লিখেছেন তিনি ! তার গল্পে ভূত , ম্যাজিক , এডভেঞ্চার এসব যেমন এসেছে তেমনি এসেছে গ্রহান্তরের আগন্তুক , মানুষখেকো গাছ-পাখি , বিচিত্র সব ফ্যান্টাসি । বন্ধুত্ব , প্রতিশোধ , লোভ , স্বার্থপরতা , মানবিক মূল্যবোধ এসবও আছে । তবে ম্যাজিক আর ভূত নিয়ে বোধহয় তার অবসেশন ছিল , সেটা ফেলুদা আর তাড়িণীখুড়োতেও লক্ষ্য করেছি , বেশ কয়টা গল্প লিখেছেন এ নিয়ে । রূপকথাও লিখেছেন অনেকগুলো ।

গল্পগুলো মূলত কিশোর উপযোগী । শিশুমন ভালো বুঝতেন বলেই তার লেখা শিশু কিশোর ছাড়িয়ে বড়দেরও স্পর্শ করেছে । মেদহীন , বর্ণনার বাহুল্য নেই , গতিময় ; তার লেখায় বয়সের বিভেদ মুছে যায় । সত্যজিৎ রায়ের গল্পগুলো আমাদের বাঁধাধরা জীবনের বাইরে উঁকি দেওয়ার খোলা জানালার মত । বইটা পড়ার সময় আপনি কল্পপনার রাজ্যে হারিয়ে যাবেন এবং আশা করি হতাশ হবেন না ।

আমার পছন্দের কয়েকটি গল্পের নাম বলার লোভ সামলাতে পারছিনা :
পুরস্কার , বহুরূপী , অতিথি , খগম , ভুতো , বিষফুল , তাড়িণীখুড়ো ও বেতাল , অনাথবাবুর ভয় , বঙ্কুবাবুর বন্ধু , টেরোড্যাকটিলের ডিম , ক্লাস ফ্রেন্ড , বিপিন চৌধুরীর স্মৃতিভ্রম , বৃহচ্চঞ্চু , রতনবাবু আর সেই লোকটা , ফটিকচাঁদ , ঈশ্বরের ন’ লক্ষ কোটি নাম ( অনুবাদ )

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *