February 26, 2024

কেন বই ভালোবাসি? – Rabbani Robi

কেন বই ভালোবাসি?
একটি সৃষ্টিশীল পৃথিবী বিনির্মাণে বইয়ের বিকল্প ছাড়া কিছুই নেই। পাঠ্য বইয়ের চেয়ে, পাঠ্য বইয়ের বাহিরের বইগুলা পড়তে বেশী ভালো লাগে পাঠকদের। কারণ, পাঠ্য বই আমাদের একটি নিদিষ্ট পরিসীমার মধ্যে আটকে রাখে। কিন্তু একটি উপন্যাস কিংবা ইতিহাসের বই আমাদের নিয়ে যায় কল্পনার জগতে। ভাবতে শেখায় নতুন কোন সম্ভাবনার।


একটা ভালো সিনেমা এবং একটা ভালো বইয়ের মধ্যে যদি তুলনা করি, তাহলে আমরা বইয়ের চরিত্র কিংবা ঘটনাগুলাকে মনে রাখতে পারি বেশী। কারণ, যখন বই পড়ি, তখন তা আমাদেরকে চিন্তা করতে শেখায়। কিন্তু সিনেমা আমাদেরকে দৃশ্যমান করেই দেখানো হয়। তাতে চিন্তা করার তেমন সুযোগ থাকে না।


আপনি যে সময়ে জন্মগ্রহণ করেছেন তার আগে অনেক শতাব্দী পেরিয়ে গেছে। সেসময়কার মানুষ কি ভেবেছে, কীভাবে এক একটা সভ্যতা পেরিয়ে, মানুষ আধুনিক সভ্যতায় প্রবেশ করেছে, তা বই পড়া ব্যতীত জানা সম্ভব না। তারচেয়ে বড় ব্যাপার হলো, একটা ভালো বই আপনাকে প্রশান্তি দিবে; চিন্তার জগৎকে প্রসারিত করে নতুন দ্বার খুলে দিবে; নিজের আত্মোন্নয়ে বেশ সহযোগিতা করবে।
বিখ্যাত কবি ওমর খৈয়ম বলেছিলেন, ‘রুটি মদ ফুরিয়ে যাবে, প্রিয়ার কালো চোখ ঘোলাটে হয়ে আসবে, কিন্তু একখানা বই সব সময় অনন্ত-যৌবনা যদি তেমন বই হয়।’


আমরা যতই আধুনিক হচ্ছি, ততই আমরা বই থেকে দূরে সরে যাচ্ছি। এর খেসারতও বহুগুণে দিতে হচ্ছে আধুনিক সমাজকে। যে সময়ে তরুণদের হাতে থাকার কথা ছিলো বই, সে তরুণরা এখন মোবাইল ফোনে বন্দী। এর ফলে চাকরির বাজারে তাদেরকে মেধাশূণ্য বলেও অনেকে অভিহিত করছে। এই প্রতিযোগিতামূলক বাজারে, পাঠ্য বইয়ের বাহিরেও আপনাকে জানতে হবে বহিঃবিশ্বসহ নানা বিষয়ে বাহ্যিক জ্ঞান। আর এর বিকল্প ‘বই পড়া’ ছাড়া আর কিছুই হতে পারে না।


১৯৭১ সালের ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবিদের মেরে ফেলা হয়। পাকিস্তানি দুঃশাসনের দিনগুলোতে আমাদের লেখক, সাংবাদিক, শিল্পী ও বুদ্ধিজীবীরা বিবেকের কণ্ঠস্বর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, তাঁরা অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছেন। নিজেদের জ্ঞান- মনীষা ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে জাতিকে পথ দেখিয়েছেন, আলোকিত করেছেন। এসব কারণেই তাঁরা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসরদের জিঘাংসার শিকার হয়েছেন। এত কম সময়ে এত বেশিসংখ্যক বুদ্ধিজীবী নিধনের উদাহরণ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ছাড়া আর কখনো ঘটেনি। পাকিস্তানিদের উদ্দেশ্য ছিলো, বাংলাদেশ স্বাধীন হলেও যেন, কোন ভাবেই মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে না পারে। একটা জাতিকে পঙ্গু করার জন্য এমন একটি নৃশংস হত্যাকান্ড অনেক বড় ভূমিকা পালন করে। ইতিহাস থেকে বলা যায়, একটা জাতি যত বেশী শিক্ষিত, সে জাতি তত বেশী উন্নতির দিকে এগিয়ে যাবে।


পবিত্র কোরআনের সর্বপ্রথম যে বাণী হযরত মুহাম্মদ (সা.) শুনতে পেয়েছিলেন, ‘আল্লামা বিল কলমি’ অর্থাৎ আল্লাহ মানুষকে জ্ঞান দান করেছেন, ‘কলমের মাধ্যমে’। আর কলমের আশ্রয় তো পুস্তকে। পবিত্র কোরআন মাজিদে আরও বলা হয়েছে, ‘পড় তোমার রবের নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন। পড়, আর তোমার রব মহামহিম’ (সূরা আলাক :১-৩)।


একটা সুন্দর পৃথিবী গড়ার সহজ উপায় হলো বিভিন্ন বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করা এবং প্রাপ্ত শিক্ষা সকলের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া। ওয়ারেন বাফেট, ইলন মাস্ক, বিল গেটসের মতো বিশ্বের সেরা ধনীরাও দৈনিক নিয়ম করেই বই পড়েন। কারণ, বই তাদের শিখিয়েছে, কীভাবে উন্নতির দিকে এগিয়ে যেতে হয়।
রুশ কথাসাহিত্যিক ম্যাক্সিম গোর্কি বলেছিলেন, ‘বই আমাদের অতীত এবং ভবিষ্যতের মধ্যে সাঁকো তৈরী করে দেয়।’


আসুন বই পড়ি। নিজেকে এবং সমাজকে বদলে দি আমাদের আহরিত জ্ঞান দিয়ে।

Sean Publication

View all posts by Sean Publication →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *