March 2, 2024

কারবালা তুমি কার বেলা?

ধরুন, আপনার পিতা গ্রামে থাকে, আর আপনি শহরে চাকুরি করেন। জীবিত থাকতে আপনি আপনার পিতার কোনো খোঁজই নিলেন না, বরং নানারকম প্রতারণা ও ছলচাতুরির আশ্রয় গ্রহণ করলেন। অবশেষে বৃদ্ধ পিতা রোগে-শোকে অযত্ন অবহেলায় বিনা চিকিৎসায় মারা গেল। দাফন-কাফনের জন্যও গেলেন না।

কিছুদিন পর আপনি গ্রামে গিয়ে হা-হুতাশ করা শুরু করলেন। পিতার স্মরণে এখন বাড়াবাড়ি রকম বিদআত করতে লাগলেন। মিলাদ, চল্লিশা, চেহলাম, কুলখানি; রাস্তার মোড়ে মোড়ে আপনার পিতার গুণগান-সংবলিত ব্যানার ফেস্টুনে ভরে ফেললেন।

লোকেরা কী বলবে? একমাত্র ধান্দাবাজ ছাড়া সকলে আপনার এসব কর্মকাণ্ডকে ভণ্ডামি বই কিছুই বলবে না। ঠিক এমনই একটি সময়ের মুখোমুখি আমরা। শীয়াদের মর্সিয়া ক্রন্দনে আকাশ বাতাস ভারী করে তোলার অভিনয় দেখব আমরা শীঘ্রই। কিন্তু এর পেছনের ইতিহাসটি কিন্তু উল্লিখিত উপমার চেয়েও করুণ!

মু‘আউইয়া (রা.)-এর মৃত্যুর পর হুসাইন (রা.)-কে খিলাফাতের দায়িত্ব গ্রহণ করে ইয়াযিদকে রুখে দাঁড়ানোর মন্ত্রণা প্রধানত দিয়েছিল ইরাকিরা। হুসাইন (রা.) ইরাকের পরিস্থিতি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণের পর তার চাচাতো ভাই মুসলিম ইবনু আকীলকে ইরাকে পাঠান। তিনি ইরাকে যাওয়ার পর সেখানকার লোকেরা হুসাইনের প্রতি আনুগত্যের শপথ প্রদান করে এবং তাকে ইরাকে এসে খিলাফাতের দায়িত্ব গ্রহণের আহ্বান জানায়। মুসলিম ইবনু আকীল অনুকূল পরিস্থিতির বর্ণনা দিয়ে তার কাছে চিঠি লেখেন এবং তিনি অল্প কজন অনুসারীসহ সপরিবারে ইরাকের উদ্দেশে যাত্রা করেন।

কিন্তু ইরাকিদের এসব আস্ফালন ছিল মূলত কাপুরুষ ও বিশ্বাসঘাতকদের অতি দরদের একটি প্রদর্শন মাত্র। ইয়াযিদের পক্ষ থেকে প্রশাসকের দায়িত্ব নিয়ে উবায়দুল্লাহ ইবনু যিয়াদ যখনই ইরাকে প্রবেশ করেন, চিত্র বদলে যেতে থাকে। একে একে তারা সকলে প্রতারণা করে পক্ষ পরিবর্তন করে ইয়াযিদের আনুগত্য মেনে নেয়। এবং তারাই হুসাইনের প্রতিনিধি মুসলিম ইবনু আকীলকে উবায়দুল্লাহ ইবনু যিয়াদের হাতে তুলে দেয়।

মাক্কা থেকে ইরাক অভিমুখে যাত্রা শুরু করার পূর্বে আর তিনি পরিবর্তিত পরিস্থিতি সম্পর্কে হুসাইনকে জানাতেও পারেননি। উবায়দুল্লাহ ইবনু যিয়াদ মুসলিম ইবনু আকীলকে হত্যা করে এবং হুসাইনকে প্রতিহত করার জন্য বিশাল এক বাহিনী প্রেরণ করে। এই বাহিনীও ছিল প্রধানত সেই ইরাকী সৈন্যদের সমন্বয়ে গঠিত যারা একসময় হুসাইন (রা.)-কে ইরাক এসে খিলাফাতের দায়িত্ব গ্রহণের জন্য চিঠি দিয়েছিল। সেই তারাই হুসাইন (রা.)-কে নির্মমভাবে হত্যা করে।

এই ইরাকীদের বিশ্বাসঘাতকতাই হলো হুসাইন (রা.)-এর নিহত হওয়ার প্রধান কারণ। আর এদের মধ্য থেকেই পরবর্তীতে উত্থান ঘটে এই শীয়াবাদের, যারা হুসাইনের প্রতি ভালোবাসা প্রদর্শনের দাবিতে তাযিয়া মর্সিয়ার মতো নানারকম অর্থহীন কর্মকাণ্ড প্রদর্শন করে বেড়ায়। হুসাইনের সাথে বিশ্বাসঘাতকরার অন্তর্দহনে তারা যখন তার জন্য হা-হুতাশ শুরু করে, সেটাও ছিল বাড়াবাড়ি ও সীমালঙ্ঘন।

তারা চাকু দিয়ে নিজের বুকে পিঠে আঘাত করে নিজেকে আহত ও রক্তাক্ত করে। অথচ যেকোনো সাধারণ বুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ বুঝতে পারবে যে, কারও প্রতি ভালোবাসা প্রদর্শনের জন্য এটা মোটেও কোনো গ্রহণযোগ্য পন্থা হতে পারে না। বলা যেতে পারে, এটা হলো হুসাইনের সাথে বিশ্বাসঘাতকতার জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে তাদের ওপর আরোপিত শাস্তি, যা তারা নিজেরাই নিজেদের উপর বাস্তবায়ন করেছে। তবে এটা কেবল দুনিয়ার শাস্তি।

সেই থেকে শুরু করে আজবধি তারা মুসলিম জাতির সাথে প্রতিটি ক্রান্তিলগ্নে যে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে ও করে যাচ্ছে, তার পরকালীন শাস্তি নিশ্চয়ই আরও ভয়াবহ। আল্লাহ এই পথভ্রষ্টদের হিদায়াত দান করুন, অথবা ধ্বংস করুন। আমিন।

(রিপোস্ট)

সিয়ান | বিশুদ্ধ জ্ঞান | বিশ্বমান

Sean Publication

View all posts by Sean Publication →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *