February 25, 2024

একলব্যের বাণ – কিশলয় গুপ্ত

 

* বইয়ের নাম: একলব্যের বাণ;
* লেখক: কিশলয় গুপ্ত;
* প্রকাশক: অক্ষর সংলাপ;
* হার্ডকভার, ১৩৪ পৃষ্ঠা (১৪ সেমি X ২১ সেমি), ₹ ২৪০/-

সামনেটা ফাঁকা, অথচ একের পর এক মানুষ খুন হচ্ছে সেদিক থেকে ধেয়ে আসা তিরের আঘাতে! হয় কপালে, নয়তো বুকে— একেবারে মোক্ষম জায়গায় আঘাত হানছে সেই তির। কে সেই তিরন্দাজ? কেনই বা হচ্ছে এই খুনগুলো?
রহস্যভেদী কুহক, তার স্বঘোষিত লেজুড় কুশল এবং পুলিশ অফিসার অমিত লেগে পড়লেন এর উত্তর খুঁজতে। কী জানতে পারলেন তাঁরা?
কবি ও গীতিকার কিশলয় গুপ্তের প্রথম রহস্য উপন্যাসটি এই নিয়েই।

কী-কী ভালো লাগল?
১. লেখনী চমৎকার। সহজ, ছোটো-ছোটো বাক্যে বক্তব্য এগিয়েছে দ্রুত। আজাইরা প্যাচাল নাই, ইনফো-ডাম্পিং নাই। পড়তে শুরু করলে শেষ অবধি ছুটতেই হয়।
২. বাবা-মা সহ কুহকের পরিবারের যে ছবিটি লেখক ফুটিয়ে তুলেছেন, সেটি ব্যতিক্রমী এবং চিত্তাকর্ষক।
৩. গল্পে অ্যালকেমি বিষয়টা উল্লিখিত হয়েছে দেখে অবাক হলাম। ফ্যান্টাসি ছাড়া অন্য কোনো ঘরানার লেখায় এ-জিনিস হয় না। লেখক বেশ সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন রহস্য উপন্যাসে এই বিষয়টি এনে।

কী-কী খারাপ লাগল?
১) অত্যন্ত কৌতূহলোদ্দীপক ধাঁচে শুরু হলেও শেষ অবধি রহস্য উপন্যাস হিসেবে এটা একেবারেই দাঁড়ায়নি। মোটিভ বলে কিছু নেই। জেমস বন্ড সিরিজের ভিলেইনের মতো করে খুনিকে আঁকা হয়েছে। যুক্তিক্রমে অজস্র ফাঁক। ক্লাইম্যাক্স একেবারেই হাস্যকর।
২) যে ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করার কথা এতে বলা হয়েছে, তা অসম্ভব। যদিও বা সম্ভব হয়, সেই তরোয়াল দিয়ে কেউ দাড়ি কামাবে না।
৩) ন্যারেটর হিসেবে কুশলের চরিত্রটি অত্যন্ত বিরক্তিকর। পুলিশকে কমিক রিলিফ বা নির্বোধ হিসেবে দেখানোর প্রবণতাও একেবারে শিশুসুলভ।

বইটার ছাপা পরিষ্কার, কোনো বানান-ভুল দেখিনি; তবে কৃষ্ণেন্দু মণ্ডল এমন বালখিল্য প্রচ্ছদ কেন করলেন তা বুঝলাম না।
লেখক তাঁর পরবর্তী রহস্য উপন্যাস লেখার আগে আরেকটু রিসার্চ করে নেবেন— এই আশা রাখি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *